ঢাকা ০৬:০৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মাছ মরেছে লোডশেডিংয়ে নয়, খামারের অব্যবস্থাপনাতেই: যশোরের তদন্ত

নিজস্ব সংবাদ :

যশোরের শার্শা উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের সোনামুখী বিলের পাশে ‘এ এফ মৎস্য খামারে’ বিপুলসংখ্যক মাছের মৃত্যুর ঘটনায় খামার মালিকের দাবির সঙ্গে তদন্তে পাওয়া তথ্যের মিল নেই। জেলা প্রশাসনের তদন্ত কমিটি জানিয়েছে, লোডশেডিংকে মাছের মৃত্যুর প্রধান কারণ হিসেবে দাবি করা হলেও এর পক্ষে পর্যাপ্ত তথ্য পাওয়া যায়নি।

বুধবার (২৬ আগস্ট) জেলা প্রশাসনের মিডিয়া সেল থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে গঠিত তদন্ত কমিটি মঙ্গলবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। এ সময় বিদ্যুৎ সরবরাহের রেকর্ড পরীক্ষা, ক্ষতিগ্রস্ত জলাশয়ের পানির গুণাগুণ বিশ্লেষণ এবং খামারের সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য নেওয়া হয়।

তদন্তে দেখা যায়, গত ২২ আগস্ট রাত ১টা ৪২ মিনিট থেকে ২টা ২৬ মিনিট পর্যন্ত মোট ৪৪ মিনিট বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিল। ওই সময়ের আগে ও পরে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক ছিল। তবে বিদ্যুৎ বিভ্রাট শুরু হওয়ার আগেই খামারের মাছ মারা যাওয়ার ঘটনা শুরু হয়েছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

তদন্ত কমিটির মতে, মাছের মৃত্যুর পেছনে একাধিক কারণ কাজ করেছে। এর মধ্যে অন্যতম ছিল জলাশয়ে অতিরিক্ত মাছের ঘনত্ব এবং প্রয়োজনের তুলনায় বেশি উচ্চ আমিষসমৃদ্ধ খাবার প্রয়োগ। এতে পানিতে জৈব ও নাইট্রোজেনজাত বর্জ্যের পরিমাণ বেড়ে যায়। একই সঙ্গে ফাইটোপ্ল্যাংকটনের অস্বাভাবিক আধিক্যও পানির পরিবেশে বিরূপ প্রভাব ফেলে।

পানির pH, অ্যামোনিয়া এবং দ্রবীভূত অক্সিজেনের মাত্রায়ও গুরুতর ভারসাম্যহীনতা পাওয়া গেছে। এর পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক মাছের জন্য প্রয়োজনীয় মাত্রায় এয়ারেশন ব্যবস্থা না থাকা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে বিকল্প বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যবস্থা না থাকাকেও বড় দুর্বলতা হিসেবে চিহ্নিত করেছে তদন্ত কমিটি।

জেলা প্রশাসনের ভাষ্য, খামার মালিকপক্ষ বড় ধরনের বিনিয়োগ ও আর্থিক ক্ষতির কথা বললেও জরুরি সময়ে অক্সিজেন সরবরাহের যন্ত্র চালু রাখার জন্য পর্যাপ্ত বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবস্থা রাখার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ দেখা যায়নি। ফলে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের চেয়ে খামারের অতিরিক্ত মাছের ঘনত্ব, অপর্যাপ্ত কারিগরি সক্ষমতা এবং ব্যবস্থাপনাগত দুর্বলতাকেই মাছের মৃত্যুর প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

এর আগে গত শুক্রবার দিবাগত রাত থেকে শার্শার রায়পুর-সোনামুখো বিলের ওই খামারে মাছ মরতে শুরু করে। পরদিন সকালে পানিতে বিপুলসংখ্যক মৃত মাছ ভেসে ওঠে। তখন খামার মালিকদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল, দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় প্যাডেল হুইল এয়ারেটর চালানো সম্ভব হয়নি। এর ফলে পানিতে অক্সিজেনের ঘাটতি তৈরি হয়ে মাছ মারা যায়। বৈরী আবহাওয়াও পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করে বলে তারা জানিয়েছিলেন।

খামারটির মালিক আলফাজুল হক ও ফারুক হোসেন। তাঁদের দাবি ছিল, মাছের মৃত্যুর ঘটনায় প্রায় সাড়ে ১৫ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।

এদিকে জনস্বার্থে সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে তথ্য যাচাইয়ের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে জেলা প্রশাসন। বিজ্ঞপ্তিতে গণমাধ্যমকে যথাযথ ফ্যাক্ট-চেক ও তথ্য যাচাই ছাড়া বিভ্রান্তিকর বা অতিরঞ্জিত তথ্য প্রকাশ না করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

মাছ মরেছে লোডশেডিংয়ে নয়, খামারের অব্যবস্থাপনাতেই: যশোরের তদন্ত

আপডেট সময় ০৫:৩২:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬

যশোরের শার্শা উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের সোনামুখী বিলের পাশে ‘এ এফ মৎস্য খামারে’ বিপুলসংখ্যক মাছের মৃত্যুর ঘটনায় খামার মালিকের দাবির সঙ্গে তদন্তে পাওয়া তথ্যের মিল নেই। জেলা প্রশাসনের তদন্ত কমিটি জানিয়েছে, লোডশেডিংকে মাছের মৃত্যুর প্রধান কারণ হিসেবে দাবি করা হলেও এর পক্ষে পর্যাপ্ত তথ্য পাওয়া যায়নি।

বুধবার (২৬ আগস্ট) জেলা প্রশাসনের মিডিয়া সেল থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে গঠিত তদন্ত কমিটি মঙ্গলবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। এ সময় বিদ্যুৎ সরবরাহের রেকর্ড পরীক্ষা, ক্ষতিগ্রস্ত জলাশয়ের পানির গুণাগুণ বিশ্লেষণ এবং খামারের সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য নেওয়া হয়।

তদন্তে দেখা যায়, গত ২২ আগস্ট রাত ১টা ৪২ মিনিট থেকে ২টা ২৬ মিনিট পর্যন্ত মোট ৪৪ মিনিট বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিল। ওই সময়ের আগে ও পরে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক ছিল। তবে বিদ্যুৎ বিভ্রাট শুরু হওয়ার আগেই খামারের মাছ মারা যাওয়ার ঘটনা শুরু হয়েছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

তদন্ত কমিটির মতে, মাছের মৃত্যুর পেছনে একাধিক কারণ কাজ করেছে। এর মধ্যে অন্যতম ছিল জলাশয়ে অতিরিক্ত মাছের ঘনত্ব এবং প্রয়োজনের তুলনায় বেশি উচ্চ আমিষসমৃদ্ধ খাবার প্রয়োগ। এতে পানিতে জৈব ও নাইট্রোজেনজাত বর্জ্যের পরিমাণ বেড়ে যায়। একই সঙ্গে ফাইটোপ্ল্যাংকটনের অস্বাভাবিক আধিক্যও পানির পরিবেশে বিরূপ প্রভাব ফেলে।

পানির pH, অ্যামোনিয়া এবং দ্রবীভূত অক্সিজেনের মাত্রায়ও গুরুতর ভারসাম্যহীনতা পাওয়া গেছে। এর পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক মাছের জন্য প্রয়োজনীয় মাত্রায় এয়ারেশন ব্যবস্থা না থাকা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে বিকল্প বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যবস্থা না থাকাকেও বড় দুর্বলতা হিসেবে চিহ্নিত করেছে তদন্ত কমিটি।

জেলা প্রশাসনের ভাষ্য, খামার মালিকপক্ষ বড় ধরনের বিনিয়োগ ও আর্থিক ক্ষতির কথা বললেও জরুরি সময়ে অক্সিজেন সরবরাহের যন্ত্র চালু রাখার জন্য পর্যাপ্ত বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবস্থা রাখার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ দেখা যায়নি। ফলে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের চেয়ে খামারের অতিরিক্ত মাছের ঘনত্ব, অপর্যাপ্ত কারিগরি সক্ষমতা এবং ব্যবস্থাপনাগত দুর্বলতাকেই মাছের মৃত্যুর প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

এর আগে গত শুক্রবার দিবাগত রাত থেকে শার্শার রায়পুর-সোনামুখো বিলের ওই খামারে মাছ মরতে শুরু করে। পরদিন সকালে পানিতে বিপুলসংখ্যক মৃত মাছ ভেসে ওঠে। তখন খামার মালিকদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল, দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় প্যাডেল হুইল এয়ারেটর চালানো সম্ভব হয়নি। এর ফলে পানিতে অক্সিজেনের ঘাটতি তৈরি হয়ে মাছ মারা যায়। বৈরী আবহাওয়াও পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করে বলে তারা জানিয়েছিলেন।

খামারটির মালিক আলফাজুল হক ও ফারুক হোসেন। তাঁদের দাবি ছিল, মাছের মৃত্যুর ঘটনায় প্রায় সাড়ে ১৫ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।

এদিকে জনস্বার্থে সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে তথ্য যাচাইয়ের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে জেলা প্রশাসন। বিজ্ঞপ্তিতে গণমাধ্যমকে যথাযথ ফ্যাক্ট-চেক ও তথ্য যাচাই ছাড়া বিভ্রান্তিকর বা অতিরঞ্জিত তথ্য প্রকাশ না করার আহ্বান জানানো হয়েছে।