ঢাকা ১২:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আগামী ৫ বছরে বাংলাদেশে আরও ৫ বিলিয়ন ডলারের মার্কিন বিনিয়োগ চায় সরকার

নিজস্ব সংবাদ :

বাংলাদেশে আগামী পাঁচ বছরে অতিরিক্ত ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিনিয়োগ আনতে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচেম)-এর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার কথা জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর একটি হোটেলে অ্যামচেমের ৩০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং ব্যবসার নতুন সুযোগ তৈরিতে মার্কিন কোম্পানিগুলোর সঙ্গে অংশীদারত্ব আরও জোরদার করতে চায় সরকার। এ ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে সরকার প্রস্তুত।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার অর্থনৈতিক সম্পর্ক গত কয়েক দশকে উল্লেখযোগ্যভাবে বিস্তৃত হয়েছে। দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ বর্তমানে ১৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি। তবে দুই দেশের সম্পর্ক কেবল পণ্য আমদানি-রপ্তানির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বিনিয়োগ, প্রযুক্তি, দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থান এবং ব্যবসায়িক জ্ঞান বিনিময়ের ক্ষেত্রেও মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানান, অ্যামচেমের সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশে এরই মধ্যে ৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগ করেছে। একই সঙ্গে এসব প্রতিষ্ঠান জাতীয় রাজস্বে ২০ শতাংশেরও বেশি অবদান রাখছে। তাঁর মতে, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে এই উপস্থিতি মার্কিন ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের আস্থারই প্রতিফলন।

তিনি আরও জানান, সম্প্রতি অ্যামচেমের প্রতিনিধিরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করে আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশে আরও ৫ বিলিয়ন ডলারের মার্কিন বিনিয়োগ আনার আগ্রহের কথা জানিয়েছেন। এই বিনিয়োগ বাস্তবায়নে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হবে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, কোনো বিদেশি বা স্থানীয় প্রতিষ্ঠান বাস্তব কোনো ব্যবসায়িক সমস্যার মুখোমুখি হলে সেটি সমাধানে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করবে। এ প্রসঙ্গে অ্যামচেমের সদস্য প্রতিষ্ঠান কর্টেভা বাংলাদেশের একটি সমস্যার কথা উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর দাবি, শিল্প ও বাণিজ্যিক লাইসেন্স নিয়ে তৈরি হওয়া জটিলতা সরকারি উদ্যোগে প্রায় এক মাসের মধ্যেই সমাধান করা সম্ভব হয়েছে।

বাংলাদেশকে বিদেশি বিনিয়োগের জন্য সম্ভাবনাময় বাজার হিসেবে উল্লেখ করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের ভৌগোলিক অবস্থান, বৃহৎ অভ্যন্তরীণ বাজার, তরুণ জনগোষ্ঠী এবং দক্ষ মানবসম্পদ বিনিয়োগের জন্য বড় সুবিধা। পাশাপাশি প্রযুক্তি, ডিজিটাল উদ্ভাবন, স্বাস্থ্যসেবা, উৎপাদন শিল্প ও আর্থিক সেবাসহ বিভিন্ন খাতে নতুন বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে।

তবে শুধু বিনিয়োগের সম্ভাবনা থাকলেই বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর মতে, ব্যবসা পরিচালনায় সহজ পরিবেশ, নীতির ধারাবাহিকতা, পূর্বানুমানযোগ্যতা এবং কার্যকর বাণিজ্যিক সুবিধা নিশ্চিত করাও জরুরি।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ব্যবসায়িক প্রক্রিয়া আরও সহজ করা, সরকারি সেবার ডিজিটালাইজেশন বাড়ানো, বাণিজ্য সুবিধা সম্প্রসারণ এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে সরকার কাজ করছে।

বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক সম্পর্ক নিয়েও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। তাঁর প্রত্যাশা, আগামী দিনে আরও মার্কিন কোম্পানি বাংলাদেশে বিনিয়োগ করবে, উন্নত প্রযুক্তি ও বৈশ্বিক ব্যবসায়িক দক্ষতা দেশে আসবে এবং বাংলাদেশের পণ্য ও সেবার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রবেশের সুযোগ আরও বিস্তৃত হবে।

এ লক্ষ্য অর্জনে সরকার, ব্যবসায়ী সম্প্রদায়, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারী, উন্নয়ন সহযোগী এবং অ্যামচেমের মতো ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন, অ্যামচেমের সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল, সহসভাপতি আলা উদ্দিন আজাদসহ সংগঠনটির সাবেক সভাপতি, বর্তমান ও সাবেক নির্বাহী কমিটির সদস্য, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

অ্যামচেমের তিন দশকের পথচলাকে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর করার গুরুত্বপূর্ণ সময় হিসেবে উল্লেখ করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর পাশাপাশি উদ্ভাবন, কর্মসংস্থান ও প্রযুক্তি বিনিময়ের নতুন ক্ষেত্র তৈরি করতে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

আগামী ৫ বছরে বাংলাদেশে আরও ৫ বিলিয়ন ডলারের মার্কিন বিনিয়োগ চায় সরকার

আপডেট সময় ০৩:১৬:৪০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাংলাদেশে আগামী পাঁচ বছরে অতিরিক্ত ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিনিয়োগ আনতে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচেম)-এর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার কথা জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর একটি হোটেলে অ্যামচেমের ৩০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং ব্যবসার নতুন সুযোগ তৈরিতে মার্কিন কোম্পানিগুলোর সঙ্গে অংশীদারত্ব আরও জোরদার করতে চায় সরকার। এ ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে সরকার প্রস্তুত।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার অর্থনৈতিক সম্পর্ক গত কয়েক দশকে উল্লেখযোগ্যভাবে বিস্তৃত হয়েছে। দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ বর্তমানে ১৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি। তবে দুই দেশের সম্পর্ক কেবল পণ্য আমদানি-রপ্তানির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বিনিয়োগ, প্রযুক্তি, দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থান এবং ব্যবসায়িক জ্ঞান বিনিময়ের ক্ষেত্রেও মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানান, অ্যামচেমের সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশে এরই মধ্যে ৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগ করেছে। একই সঙ্গে এসব প্রতিষ্ঠান জাতীয় রাজস্বে ২০ শতাংশেরও বেশি অবদান রাখছে। তাঁর মতে, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে এই উপস্থিতি মার্কিন ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের আস্থারই প্রতিফলন।

তিনি আরও জানান, সম্প্রতি অ্যামচেমের প্রতিনিধিরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করে আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশে আরও ৫ বিলিয়ন ডলারের মার্কিন বিনিয়োগ আনার আগ্রহের কথা জানিয়েছেন। এই বিনিয়োগ বাস্তবায়নে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হবে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, কোনো বিদেশি বা স্থানীয় প্রতিষ্ঠান বাস্তব কোনো ব্যবসায়িক সমস্যার মুখোমুখি হলে সেটি সমাধানে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করবে। এ প্রসঙ্গে অ্যামচেমের সদস্য প্রতিষ্ঠান কর্টেভা বাংলাদেশের একটি সমস্যার কথা উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর দাবি, শিল্প ও বাণিজ্যিক লাইসেন্স নিয়ে তৈরি হওয়া জটিলতা সরকারি উদ্যোগে প্রায় এক মাসের মধ্যেই সমাধান করা সম্ভব হয়েছে।

বাংলাদেশকে বিদেশি বিনিয়োগের জন্য সম্ভাবনাময় বাজার হিসেবে উল্লেখ করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের ভৌগোলিক অবস্থান, বৃহৎ অভ্যন্তরীণ বাজার, তরুণ জনগোষ্ঠী এবং দক্ষ মানবসম্পদ বিনিয়োগের জন্য বড় সুবিধা। পাশাপাশি প্রযুক্তি, ডিজিটাল উদ্ভাবন, স্বাস্থ্যসেবা, উৎপাদন শিল্প ও আর্থিক সেবাসহ বিভিন্ন খাতে নতুন বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে।

তবে শুধু বিনিয়োগের সম্ভাবনা থাকলেই বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর মতে, ব্যবসা পরিচালনায় সহজ পরিবেশ, নীতির ধারাবাহিকতা, পূর্বানুমানযোগ্যতা এবং কার্যকর বাণিজ্যিক সুবিধা নিশ্চিত করাও জরুরি।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ব্যবসায়িক প্রক্রিয়া আরও সহজ করা, সরকারি সেবার ডিজিটালাইজেশন বাড়ানো, বাণিজ্য সুবিধা সম্প্রসারণ এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে সরকার কাজ করছে।

বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক সম্পর্ক নিয়েও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। তাঁর প্রত্যাশা, আগামী দিনে আরও মার্কিন কোম্পানি বাংলাদেশে বিনিয়োগ করবে, উন্নত প্রযুক্তি ও বৈশ্বিক ব্যবসায়িক দক্ষতা দেশে আসবে এবং বাংলাদেশের পণ্য ও সেবার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রবেশের সুযোগ আরও বিস্তৃত হবে।

এ লক্ষ্য অর্জনে সরকার, ব্যবসায়ী সম্প্রদায়, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারী, উন্নয়ন সহযোগী এবং অ্যামচেমের মতো ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন, অ্যামচেমের সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল, সহসভাপতি আলা উদ্দিন আজাদসহ সংগঠনটির সাবেক সভাপতি, বর্তমান ও সাবেক নির্বাহী কমিটির সদস্য, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

অ্যামচেমের তিন দশকের পথচলাকে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর করার গুরুত্বপূর্ণ সময় হিসেবে উল্লেখ করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর পাশাপাশি উদ্ভাবন, কর্মসংস্থান ও প্রযুক্তি বিনিময়ের নতুন ক্ষেত্র তৈরি করতে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।