ঢাকা ১০:১০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘বিএনপিকে হুংকার দিয়ে লাভ নেই, রাজপথের আন্দোলন থেকেই বিএনপির উত্থান’: এ্যানি

নিজস্ব সংবাদ :

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি:
বিএনপিকে ভয় দেখিয়ে বা হুমকি দিয়ে কোনো রাজনৈতিক লাভ হবে না বলে মন্তব্য করেছেন পানিসম্পদমন্ত্রী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। তিনি বলেছেন, বিএনপি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ও দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বের দল। দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে দলটি রাজপথে নিজেদের অবস্থান তৈরি করেছে।

শনিবার সন্ধ্যার আগে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে লক্ষ্মীপুর জেলা বিএনপি আয়োজিত আনন্দ র‌্যালিতে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

এ্যানি বলেন, ‘বিএনপিকে হুংকার দেবেন না। অরুচিশীল বক্তব্য দিয়েও কোনো লাভ হবে না। বিএনপি আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে রাজপথ থেকে উঠে আসা একটি দল। তাই ভয় দেখিয়ে কিংবা হুমকি দিয়ে বিএনপিকে দমিয়ে রাখা যাবে না।’

১১ দলীয় জোটের লংমার্চ কর্মসূচি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জনগণ ওই কর্মসূচিকে গ্রহণ করেনি। লংমার্চে সাধারণ মানুষের উল্লেখযোগ্য অংশগ্রহণ ছিল না বলেও দাবি করেন তিনি।

বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘লংমার্চে চিহ্নিত কিছু ব্যক্তি অংশ নিয়েছেন। দেশের মানুষ কর্মসূচিটি গ্রহণ করলে সেখানে ব্যাপক জনসম্পৃক্ততা দেখা যেত। কিন্তু বাস্তবে জনগণের তেমন কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।’

গত ১৭ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামের প্রসঙ্গ টেনে এ্যানি বলেন, দীর্ঘ লড়াইয়ের পর জনগণের ভোটে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার গঠন করেছে। সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার ছয় মাসও পূর্ণ হয়নি। এরই মধ্যে নতুন করে আন্দোলনের কর্মসূচি শুরু করা রাজনৈতিকভাবে সঠিক সিদ্ধান্ত নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

জামায়াতে ইসলামীর আমিরের বক্তব্যের সমালোচনা করে এ্যানি বলেন, উস্কানিমূলক বক্তব্য ও হুংকার জনগণ ভালোভাবে নেয় না। রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ না থাকলে তা জনসমর্থিত আন্দোলন হিসেবে বিবেচিত হতে পারে না।

তিনি আরও বলেন, ‘যারা এতদিন আড়ালে ছিল, তাদের দিয়ে লংমার্চ করলেই জনগণের সমর্থন পাওয়া যায় না। দেশের মানুষ সবকিছু দেখছে এবং বুঝছে।’

জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতি নিয়েও কঠোর সমালোচনা করেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব। তিনি দলটির বিরুদ্ধে দেশের ও সমাজের ক্ষতি করার চেষ্টা করার অভিযোগ তুলে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।

এ্যানি বলেন, ‘দেশের স্বার্থে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। যারা সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য ক্ষতিকর কর্মকাণ্ডে জড়িত, তাদের থেকে দূরে থাকা প্রয়োজন।’

পরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আনন্দ র‌্যালিতে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে অংশ নেন শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। র‌্যালিতে দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

‘বিএনপিকে হুংকার দিয়ে লাভ নেই, রাজপথের আন্দোলন থেকেই বিএনপির উত্থান’: এ্যানি

আপডেট সময় ০৫:০১:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি:
বিএনপিকে ভয় দেখিয়ে বা হুমকি দিয়ে কোনো রাজনৈতিক লাভ হবে না বলে মন্তব্য করেছেন পানিসম্পদমন্ত্রী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। তিনি বলেছেন, বিএনপি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ও দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বের দল। দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে দলটি রাজপথে নিজেদের অবস্থান তৈরি করেছে।

শনিবার সন্ধ্যার আগে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে লক্ষ্মীপুর জেলা বিএনপি আয়োজিত আনন্দ র‌্যালিতে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

এ্যানি বলেন, ‘বিএনপিকে হুংকার দেবেন না। অরুচিশীল বক্তব্য দিয়েও কোনো লাভ হবে না। বিএনপি আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে রাজপথ থেকে উঠে আসা একটি দল। তাই ভয় দেখিয়ে কিংবা হুমকি দিয়ে বিএনপিকে দমিয়ে রাখা যাবে না।’

১১ দলীয় জোটের লংমার্চ কর্মসূচি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জনগণ ওই কর্মসূচিকে গ্রহণ করেনি। লংমার্চে সাধারণ মানুষের উল্লেখযোগ্য অংশগ্রহণ ছিল না বলেও দাবি করেন তিনি।

বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘লংমার্চে চিহ্নিত কিছু ব্যক্তি অংশ নিয়েছেন। দেশের মানুষ কর্মসূচিটি গ্রহণ করলে সেখানে ব্যাপক জনসম্পৃক্ততা দেখা যেত। কিন্তু বাস্তবে জনগণের তেমন কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।’

গত ১৭ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামের প্রসঙ্গ টেনে এ্যানি বলেন, দীর্ঘ লড়াইয়ের পর জনগণের ভোটে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার গঠন করেছে। সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার ছয় মাসও পূর্ণ হয়নি। এরই মধ্যে নতুন করে আন্দোলনের কর্মসূচি শুরু করা রাজনৈতিকভাবে সঠিক সিদ্ধান্ত নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

জামায়াতে ইসলামীর আমিরের বক্তব্যের সমালোচনা করে এ্যানি বলেন, উস্কানিমূলক বক্তব্য ও হুংকার জনগণ ভালোভাবে নেয় না। রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ না থাকলে তা জনসমর্থিত আন্দোলন হিসেবে বিবেচিত হতে পারে না।

তিনি আরও বলেন, ‘যারা এতদিন আড়ালে ছিল, তাদের দিয়ে লংমার্চ করলেই জনগণের সমর্থন পাওয়া যায় না। দেশের মানুষ সবকিছু দেখছে এবং বুঝছে।’

জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতি নিয়েও কঠোর সমালোচনা করেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব। তিনি দলটির বিরুদ্ধে দেশের ও সমাজের ক্ষতি করার চেষ্টা করার অভিযোগ তুলে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।

এ্যানি বলেন, ‘দেশের স্বার্থে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। যারা সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য ক্ষতিকর কর্মকাণ্ডে জড়িত, তাদের থেকে দূরে থাকা প্রয়োজন।’

পরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আনন্দ র‌্যালিতে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে অংশ নেন শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। র‌্যালিতে দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।