ঢাকা ১০:০৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

১৫০ টাকার লাঞ্চে প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণ, শফিকুর রহমানের জবাব—‘১৮ কোটি মানুষকে নিয়ে খেতে চাই’

নিজস্ব সংবাদ :

জাতীয় সংসদে বক্তব্যের এক পর্যায়ে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানকে ১৫০ টাকার দুপুরের খাবারে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তবে সেই আমন্ত্রণের জবাবে শফিকুর রহমান বলেছেন, তিনি একা নয়, দেশের ১৮ কোটি মানুষকে সঙ্গে নিয়ে খেতে চান।

সোমবার জাতীয় সংসদে জ্বালানি ও গ্যাস সংকটের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হওয়া, শিল্পকারখানায় নেতিবাচক প্রভাব ও বেকারত্ব সৃষ্টি এবং অর্থনীতিতে সম্ভাব্য সংকট মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ নিয়ে ৬৮ বিধির সাধারণ আলোচনায় এ ঘটনা ঘটে।

আলোচনার সময় প্রধানমন্ত্রীর স্বল্প খরচের জীবনযাপন প্রসঙ্গ তুলে প্রশংসা করেন বিরোধীদলীয় নেতা। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর দুপুরের খাবারের পেছনে ১০০ থেকে ১৫০ টাকার মতো খরচ হয়—বিষয়টি তাঁর ভালো লাগে। এত কম খরচে তিনিও খেতে পারেন না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

শফিকুর রহমানের বক্তব্যের সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান হাতের ইশারায় তাঁকে নিজের সঙ্গে খাবারের আমন্ত্রণ জানান। একই সময়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদও তাঁকে খাবারের আমন্ত্রণ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর দিকে ইঙ্গিত করেন।

এর পরিপ্রেক্ষিতে বিরোধীদলীয় নেতা আমন্ত্রণ গ্রহণের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, তিনি একা খাবেন না। দেশের ১৮ কোটি মানুষকে সঙ্গে নিয়েই খেতে চান।

এ সময় প্রধানমন্ত্রীর জীবনযাপনের ধরন নিয়েও ইতিবাচক মন্তব্য করেন শফিকুর রহমান। তাঁর ভাষায়, প্রধানমন্ত্রী জাঁকজমকপূর্ণ বা আড়ম্বরপূর্ণ জীবনযাপন করেন না; বরং সাধারণ ও সাদামাটা জীবনযাপন করেন। এমন জীবনধারা অনুসরণযোগ্য বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তবে প্রধানমন্ত্রীর জীবনযাপনের প্রশংসার পাশাপাশি তাঁর অনুসারীদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বিরোধীদলীয় নেতা। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে যারা নিজেদের আদর্শ বা ‘আইকন’ হিসেবে তুলে ধরেন, তাঁদের অনেকের কর্মকাণ্ড প্রধানমন্ত্রীর জীবনযাপনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

শফিকুর রহমান বলেন, কাউকে আইকন হিসেবে মানলে শুধু কথায় নয়, তাঁর আদর্শ ও জীবনধারাও অনুসরণ করা উচিত। কিন্তু বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রে এর বিপরীত চিত্র দেখা যায়।

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীও একজন মানুষ এবং তিনি ভুলের ঊর্ধ্বে নন। তাই তাঁর প্রতিটি সিদ্ধান্তে অন্ধভাবে সমর্থন না দিয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী সমালোচনা ও মূল্যায়ন করা উচিত। তবে শিশুদের দাবির ক্ষেত্রে তাদের কথা গুরুত্ব দিয়ে শোনা এবং প্রয়োজনে ‘হ্যাঁ’ বলার পক্ষে মত দেন তিনি।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

১৫০ টাকার লাঞ্চে প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণ, শফিকুর রহমানের জবাব—‘১৮ কোটি মানুষকে নিয়ে খেতে চাই’

আপডেট সময় ০৩:১৬:৩৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জাতীয় সংসদে বক্তব্যের এক পর্যায়ে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানকে ১৫০ টাকার দুপুরের খাবারে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তবে সেই আমন্ত্রণের জবাবে শফিকুর রহমান বলেছেন, তিনি একা নয়, দেশের ১৮ কোটি মানুষকে সঙ্গে নিয়ে খেতে চান।

সোমবার জাতীয় সংসদে জ্বালানি ও গ্যাস সংকটের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হওয়া, শিল্পকারখানায় নেতিবাচক প্রভাব ও বেকারত্ব সৃষ্টি এবং অর্থনীতিতে সম্ভাব্য সংকট মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ নিয়ে ৬৮ বিধির সাধারণ আলোচনায় এ ঘটনা ঘটে।

আলোচনার সময় প্রধানমন্ত্রীর স্বল্প খরচের জীবনযাপন প্রসঙ্গ তুলে প্রশংসা করেন বিরোধীদলীয় নেতা। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর দুপুরের খাবারের পেছনে ১০০ থেকে ১৫০ টাকার মতো খরচ হয়—বিষয়টি তাঁর ভালো লাগে। এত কম খরচে তিনিও খেতে পারেন না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

শফিকুর রহমানের বক্তব্যের সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান হাতের ইশারায় তাঁকে নিজের সঙ্গে খাবারের আমন্ত্রণ জানান। একই সময়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদও তাঁকে খাবারের আমন্ত্রণ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর দিকে ইঙ্গিত করেন।

এর পরিপ্রেক্ষিতে বিরোধীদলীয় নেতা আমন্ত্রণ গ্রহণের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, তিনি একা খাবেন না। দেশের ১৮ কোটি মানুষকে সঙ্গে নিয়েই খেতে চান।

এ সময় প্রধানমন্ত্রীর জীবনযাপনের ধরন নিয়েও ইতিবাচক মন্তব্য করেন শফিকুর রহমান। তাঁর ভাষায়, প্রধানমন্ত্রী জাঁকজমকপূর্ণ বা আড়ম্বরপূর্ণ জীবনযাপন করেন না; বরং সাধারণ ও সাদামাটা জীবনযাপন করেন। এমন জীবনধারা অনুসরণযোগ্য বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তবে প্রধানমন্ত্রীর জীবনযাপনের প্রশংসার পাশাপাশি তাঁর অনুসারীদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বিরোধীদলীয় নেতা। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে যারা নিজেদের আদর্শ বা ‘আইকন’ হিসেবে তুলে ধরেন, তাঁদের অনেকের কর্মকাণ্ড প্রধানমন্ত্রীর জীবনযাপনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

শফিকুর রহমান বলেন, কাউকে আইকন হিসেবে মানলে শুধু কথায় নয়, তাঁর আদর্শ ও জীবনধারাও অনুসরণ করা উচিত। কিন্তু বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রে এর বিপরীত চিত্র দেখা যায়।

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীও একজন মানুষ এবং তিনি ভুলের ঊর্ধ্বে নন। তাই তাঁর প্রতিটি সিদ্ধান্তে অন্ধভাবে সমর্থন না দিয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী সমালোচনা ও মূল্যায়ন করা উচিত। তবে শিশুদের দাবির ক্ষেত্রে তাদের কথা গুরুত্ব দিয়ে শোনা এবং প্রয়োজনে ‘হ্যাঁ’ বলার পক্ষে মত দেন তিনি।