ঢাকা ০৪:১১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পারভীন-ইলিয়াস ডাবল হত্যা: একই বেঞ্চে দুই মামলার শুনানি চেয়ে প্রধান বিচারপতির কাছে আবেদন

নিজস্ব সংবাদ :

খুলনার বহুল আলোচিত ব্যাংক কর্মকর্তা পারভীন সুলতানাকে ধর্ষণের পর হত্যা এবং তার বাবা ইলিয়াস চৌধুরীকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা দুটি মামলার ডেথ রেফারেন্স একসঙ্গে একই বিশেষ হাইকোর্ট বেঞ্চে শুনানির দাবি জানানো হয়েছে। এ লক্ষ্যে প্রধান বিচারপতির কাছে আনুষ্ঠানিক আবেদন করেছেন মামলার বাদীপক্ষ।

বুধবার (১৫ জুলাই) বাদীপক্ষের আইনজীবী সৈয়দ আসাফুর আলী রাজা আবেদনটি জমা দেন। তিনি জানান, দুটি মামলাই একই ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ায় পৃথক বেঞ্চে বিচার হলে ভিন্নমুখী সিদ্ধান্তের আশঙ্কা তৈরি হতে পারে। তাই ন্যায়বিচারের স্বার্থে একই বেঞ্চে একযোগে শুনানি প্রয়োজন।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১৫ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর খুলনার লবণচোরা এলাকার একটি বাসায় পারভীন সুলতানা ও তার বাবা ইলিয়াস চৌধুরীকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। তদন্তে উঠে আসে, হত্যার আগে পারভীন সুলতানাকে ধর্ষণ করা হয়েছিল। পরে দুজনের মরদেহ সেপটিক ট্যাংকে ফেলে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।

ঘটনার পর প্রথমে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় হত্যা মামলা করা হয়। পরে গ্রেপ্তার হওয়া এক আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির ভিত্তিতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের অধীনে ধর্ষণ ও হত্যা সংক্রান্ত আরেকটি মামলা দায়ের করা হয়।

দুটি মামলার বিচার শেষে ২০১৯ সালে খুলনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৩ পাঁচ আসামির প্রত্যেককে মৃত্যুদণ্ড দেয়। পাশাপাশি ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় প্রত্যেকের বিরুদ্ধে এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড এবং ইলিয়াস চৌধুরী হত্যা মামলায় মরদেহ গুমের অভিযোগে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ডও দেওয়া হয়।

বিচারিক আদালতের রায়ের পর নিয়ম অনুযায়ী মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে পাঠানো হয়। দীর্ঘ সাত বছর পর মামলাগুলো শুনানির জন্য বিশেষ বেঞ্চে আসে। তবে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলাটি শুনানির তালিকায় থাকলেও দণ্ডবিধিতে দায়ের করা হত্যা মামলাটি সংশ্লিষ্ট বেঞ্চের এখতিয়ার না থাকায় কার্যতালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়।

এ পরিস্থিতিতে বাদীপক্ষ প্রধান বিচারপতির কাছে আবেদন করে জানায়, দুটি মামলার সাক্ষ্য-প্রমাণ, ঘটনা ও আসামি একই। তাই আলাদা বেঞ্চে শুনানি হলে বিচার প্রক্রিয়ায় অসামঞ্জস্য দেখা দিতে পারে এবং ভুক্তভোগী পরিবার ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এ বিষয়ে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ইমাম হোসেন তারেকও মত দেন যে, একই ঘটনার দুটি মামলা হওয়ায় ন্যায়বিচারের স্বার্থে একই বিশেষ বেঞ্চে ডেথ রেফারেন্স একসঙ্গে শুনানি ও নিষ্পত্তি হওয়াই যুক্তিযুক্ত।

এখন প্রধান বিচারপতির সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে বাদীপক্ষ। আবেদন মঞ্জুর হলে দুটি মামলার ডেথ রেফারেন্স একই বেঞ্চে একত্রে শুনানি হওয়ার পথ সুগম হবে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

পারভীন-ইলিয়াস ডাবল হত্যা: একই বেঞ্চে দুই মামলার শুনানি চেয়ে প্রধান বিচারপতির কাছে আবেদন

আপডেট সময় ০৩:১২:৩৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬

খুলনার বহুল আলোচিত ব্যাংক কর্মকর্তা পারভীন সুলতানাকে ধর্ষণের পর হত্যা এবং তার বাবা ইলিয়াস চৌধুরীকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা দুটি মামলার ডেথ রেফারেন্স একসঙ্গে একই বিশেষ হাইকোর্ট বেঞ্চে শুনানির দাবি জানানো হয়েছে। এ লক্ষ্যে প্রধান বিচারপতির কাছে আনুষ্ঠানিক আবেদন করেছেন মামলার বাদীপক্ষ।

বুধবার (১৫ জুলাই) বাদীপক্ষের আইনজীবী সৈয়দ আসাফুর আলী রাজা আবেদনটি জমা দেন। তিনি জানান, দুটি মামলাই একই ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ায় পৃথক বেঞ্চে বিচার হলে ভিন্নমুখী সিদ্ধান্তের আশঙ্কা তৈরি হতে পারে। তাই ন্যায়বিচারের স্বার্থে একই বেঞ্চে একযোগে শুনানি প্রয়োজন।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১৫ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর খুলনার লবণচোরা এলাকার একটি বাসায় পারভীন সুলতানা ও তার বাবা ইলিয়াস চৌধুরীকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। তদন্তে উঠে আসে, হত্যার আগে পারভীন সুলতানাকে ধর্ষণ করা হয়েছিল। পরে দুজনের মরদেহ সেপটিক ট্যাংকে ফেলে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।

ঘটনার পর প্রথমে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় হত্যা মামলা করা হয়। পরে গ্রেপ্তার হওয়া এক আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির ভিত্তিতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের অধীনে ধর্ষণ ও হত্যা সংক্রান্ত আরেকটি মামলা দায়ের করা হয়।

দুটি মামলার বিচার শেষে ২০১৯ সালে খুলনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৩ পাঁচ আসামির প্রত্যেককে মৃত্যুদণ্ড দেয়। পাশাপাশি ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় প্রত্যেকের বিরুদ্ধে এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড এবং ইলিয়াস চৌধুরী হত্যা মামলায় মরদেহ গুমের অভিযোগে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ডও দেওয়া হয়।

বিচারিক আদালতের রায়ের পর নিয়ম অনুযায়ী মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে পাঠানো হয়। দীর্ঘ সাত বছর পর মামলাগুলো শুনানির জন্য বিশেষ বেঞ্চে আসে। তবে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলাটি শুনানির তালিকায় থাকলেও দণ্ডবিধিতে দায়ের করা হত্যা মামলাটি সংশ্লিষ্ট বেঞ্চের এখতিয়ার না থাকায় কার্যতালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়।

এ পরিস্থিতিতে বাদীপক্ষ প্রধান বিচারপতির কাছে আবেদন করে জানায়, দুটি মামলার সাক্ষ্য-প্রমাণ, ঘটনা ও আসামি একই। তাই আলাদা বেঞ্চে শুনানি হলে বিচার প্রক্রিয়ায় অসামঞ্জস্য দেখা দিতে পারে এবং ভুক্তভোগী পরিবার ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এ বিষয়ে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ইমাম হোসেন তারেকও মত দেন যে, একই ঘটনার দুটি মামলা হওয়ায় ন্যায়বিচারের স্বার্থে একই বিশেষ বেঞ্চে ডেথ রেফারেন্স একসঙ্গে শুনানি ও নিষ্পত্তি হওয়াই যুক্তিযুক্ত।

এখন প্রধান বিচারপতির সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে বাদীপক্ষ। আবেদন মঞ্জুর হলে দুটি মামলার ডেথ রেফারেন্স একই বেঞ্চে একত্রে শুনানি হওয়ার পথ সুগম হবে।