ঢাকা ১২:০৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রিমান্ড শেষে কারাগারে সালমান শাহর বন্ধু ডন, ‘গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপনের’ অভিযোগ সিআইডির

নিজস্ব সংবাদ :

চিত্রনায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলায় পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষে অভিনেতা আশরাফুল হক ওরফে ডনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। জিজ্ঞাসাবাদে মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তিনি গোপন করেছেন বলে তদন্ত সংস্থা সিআইডির পক্ষ থেকে আদালতকে জানানো হয়েছে।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা সিআইডির তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন। আদালতের প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই শাহ আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষে ডনকে আদালতে হাজির করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও সিআইডির পুলিশ পরিদর্শক মো. মুজিবুর রহমান। পরে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে রাখার আবেদন করা হয়।

সিআইডির আবেদনে বলা হয়েছে, মামলার এজাহারভুক্ত কয়েকজন পলাতক আসামিকে ডন চেনেন বলে জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করলেও মামলার গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিষয়ে তিনি কৌশলী অবস্থান নিয়েছেন। সালমান শাহর ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে তার সঙ্গে চলাফেরা করার কারণে অভিনেতার ব্যক্তিগত জীবন ও বিভিন্ন ঘটনার বিষয়ে ডনের জানাশোনা থাকার কথা।

তদন্ত সংস্থার দাবি, সালমান শাহর মৃত্যু এবং মামলার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ডন সরাসরি উত্তর না দিয়ে কৌশলে বক্তব্য দিয়েছেন। তবে ঘটনার আগে, মৃত্যুর সময় এবং পরবর্তী সময়ে তার আচরণ, গতিবিধি ও কর্মকাণ্ড পর্যালোচনা করে মামলার ঘটনার সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার বিষয়ে বেশ কিছু তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। এসব তথ্যের সত্যতা যাচাই করে দেখা হচ্ছে।

সিআইডি আদালতকে আরও জানিয়েছে, মামলাটি দীর্ঘদিনের আলোচিত ও স্পর্শকাতর একটি ঘটনা হওয়ায় তদন্তে পাওয়া প্রতিটি তথ্য গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে তদন্তের প্রয়োজনে আদালতের অনুমতি নিয়ে ডনকে আবারও জিজ্ঞাসাবাদ করার প্রয়োজন হতে পারে। এ কারণে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে রাখার আবেদন জানানো হয়।

এর আগে গত ৯ আগস্ট হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ডনকে গ্রেপ্তার করে ইমিগ্রেশন পুলিশ। পরে আদালতের নির্দেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। ২০ আগস্ট মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তার সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। শুনানি শেষে ২৭ আগস্ট আদালত ডনের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

তিন দশকেও কাটেনি সালমান শাহর মৃত্যুর রহস্য

১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মাত্র ২৫ বছর বয়সে ঢাকার নিজ বাসায় মারা যান জনপ্রিয় চিত্রনায়ক সালমান শাহ। তার মৃত্যু আত্মহত্যা নাকি হত্যাকাণ্ড—এ নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে নানা প্রশ্ন ও বিতর্ক চলে আসছে।

মৃত্যুর প্রায় তিন দশক পর গত বছর আদালতের নির্দেশে ঘটনাটি হত্যা মামলা হিসেবে তদন্তের নতুন পর্যায়ে যায়। সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরীর পক্ষে তার ভাই আলমগীর কুমকুম বাদী হয়ে গত বছরের অক্টোবরে রাজধানীর রমনা থানায় মামলাটি করেন। বর্তমানে মামলাটির তদন্ত করছে সিআইডি।

মামলায় সালমান শাহর সাবেক স্ত্রী সামিরা হক, অভিনেতা আশরাফুল হক ওরফে ডনসহ মোট ১১ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার অন্য আসামিরা হলেন—সামিরার মা লতিফা হক লুসি, ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাই, ডেভিড, জাভেদ, ফারুক, রুবী, আব্দুস ছাত্তার, সাজু এবং রেজভি আহমেদ ওরফে ফরহাদ।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

রিমান্ড শেষে কারাগারে সালমান শাহর বন্ধু ডন, ‘গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপনের’ অভিযোগ সিআইডির

আপডেট সময় ০২:৫১:১৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চিত্রনায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলায় পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষে অভিনেতা আশরাফুল হক ওরফে ডনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। জিজ্ঞাসাবাদে মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তিনি গোপন করেছেন বলে তদন্ত সংস্থা সিআইডির পক্ষ থেকে আদালতকে জানানো হয়েছে।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা সিআইডির তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন। আদালতের প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই শাহ আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষে ডনকে আদালতে হাজির করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও সিআইডির পুলিশ পরিদর্শক মো. মুজিবুর রহমান। পরে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে রাখার আবেদন করা হয়।

সিআইডির আবেদনে বলা হয়েছে, মামলার এজাহারভুক্ত কয়েকজন পলাতক আসামিকে ডন চেনেন বলে জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করলেও মামলার গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিষয়ে তিনি কৌশলী অবস্থান নিয়েছেন। সালমান শাহর ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে তার সঙ্গে চলাফেরা করার কারণে অভিনেতার ব্যক্তিগত জীবন ও বিভিন্ন ঘটনার বিষয়ে ডনের জানাশোনা থাকার কথা।

তদন্ত সংস্থার দাবি, সালমান শাহর মৃত্যু এবং মামলার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ডন সরাসরি উত্তর না দিয়ে কৌশলে বক্তব্য দিয়েছেন। তবে ঘটনার আগে, মৃত্যুর সময় এবং পরবর্তী সময়ে তার আচরণ, গতিবিধি ও কর্মকাণ্ড পর্যালোচনা করে মামলার ঘটনার সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার বিষয়ে বেশ কিছু তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। এসব তথ্যের সত্যতা যাচাই করে দেখা হচ্ছে।

সিআইডি আদালতকে আরও জানিয়েছে, মামলাটি দীর্ঘদিনের আলোচিত ও স্পর্শকাতর একটি ঘটনা হওয়ায় তদন্তে পাওয়া প্রতিটি তথ্য গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে তদন্তের প্রয়োজনে আদালতের অনুমতি নিয়ে ডনকে আবারও জিজ্ঞাসাবাদ করার প্রয়োজন হতে পারে। এ কারণে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে রাখার আবেদন জানানো হয়।

এর আগে গত ৯ আগস্ট হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ডনকে গ্রেপ্তার করে ইমিগ্রেশন পুলিশ। পরে আদালতের নির্দেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। ২০ আগস্ট মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তার সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। শুনানি শেষে ২৭ আগস্ট আদালত ডনের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

তিন দশকেও কাটেনি সালমান শাহর মৃত্যুর রহস্য

১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মাত্র ২৫ বছর বয়সে ঢাকার নিজ বাসায় মারা যান জনপ্রিয় চিত্রনায়ক সালমান শাহ। তার মৃত্যু আত্মহত্যা নাকি হত্যাকাণ্ড—এ নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে নানা প্রশ্ন ও বিতর্ক চলে আসছে।

মৃত্যুর প্রায় তিন দশক পর গত বছর আদালতের নির্দেশে ঘটনাটি হত্যা মামলা হিসেবে তদন্তের নতুন পর্যায়ে যায়। সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরীর পক্ষে তার ভাই আলমগীর কুমকুম বাদী হয়ে গত বছরের অক্টোবরে রাজধানীর রমনা থানায় মামলাটি করেন। বর্তমানে মামলাটির তদন্ত করছে সিআইডি।

মামলায় সালমান শাহর সাবেক স্ত্রী সামিরা হক, অভিনেতা আশরাফুল হক ওরফে ডনসহ মোট ১১ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার অন্য আসামিরা হলেন—সামিরার মা লতিফা হক লুসি, ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাই, ডেভিড, জাভেদ, ফারুক, রুবী, আব্দুস ছাত্তার, সাজু এবং রেজভি আহমেদ ওরফে ফরহাদ।