ঢাকা ০৩:০৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ধান গবেষণায় নতুন দিগন্ত: ‘রাইস গার্ডেন’ বদলে দিচ্ছে কৃষির চিত্র

নিজস্ব সংবাদ :

বাংলাদেশের কৃষি শুধু খাদ্য উৎপাদনের মাধ্যম নয়, বরং দেশের অর্থনীতি, কর্মসংস্থান এবং খাদ্য নিরাপত্তার অন্যতম ভিত্তি। কৃষিনির্ভর এই দেশে ধান সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফসল। তবে জলবায়ু পরিবর্তন, লবণাক্ততা, খরা, বন্যা, শ্রমিক সংকট ও আবাদযোগ্য জমি কমে যাওয়ার মতো নানা চ্যালেঞ্জের কারণে ধান উৎপাদনকে আরও টেকসই ও বিজ্ঞানভিত্তিক করার প্রয়োজনীয়তা দিন দিন বাড়ছে।

এই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের জন্য উপযোগী ধানের জাত ও প্রযুক্তি উদ্ভাবনের লক্ষ্যে একটি বিশেষ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। “নতুন ছয়টি আঞ্চলিক কার্যালয় স্থাপনের মাধ্যমে স্থানভিত্তিক ধানের জাত ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং বিদ্যমান গবেষণার উন্নয়ন” শীর্ষক এই প্রকল্পের অন্যতম আকর্ষণীয় উদ্যোগ হলো ‘রাইস গার্ডেন’

কী এই রাইস গার্ডেন?

রাইস গার্ডেন মূলত এমন একটি প্রদর্শনী ক্ষেত্র, যেখানে একই স্থানে ব্রি উদ্ভাবিত বিভিন্ন ধানের জাত চাষ করে তাদের বৈশিষ্ট্য, ফলন, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং বিভিন্ন পরিবেশে অভিযোজন সক্ষমতা একসঙ্গে পর্যবেক্ষণের সুযোগ তৈরি করা হয়েছে। এটি শুধু প্রদর্শনী নয়; গবেষক, কৃষক, কৃষি কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীদের জন্য একটি বাস্তবভিত্তিক শেখার কেন্দ্র হিসেবেও কাজ করছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মাঠে সরাসরি নতুন প্রযুক্তি ও জাতের ফলাফল দেখানোর মাধ্যমে কৃষকদের আগ্রহ এবং প্রযুক্তি গ্রহণের প্রবণতা অনেক বেশি বৃদ্ধি পায়। সেই লক্ষ্যেই রাইস গার্ডেনকে কৃষি গবেষণা ও প্রযুক্তি সম্প্রসারণের কার্যকর মাধ্যম হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে।

এক মাঠে ৬১টি ধানের জাত

রাইস গার্ডেনের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো—একই জমিতে ব্রি উদ্ভাবিত মোট ৬১টি বোরো ধানের জাতের সমন্বিত প্রদর্শনী। এর মধ্যে রয়েছে ৫৬টি ইনব্রিড এবং ৫টি হাইব্রিড জাত।

এখানে উচ্চফলনশীল, লবণাক্ততা সহনশীল, ব্লাস্ট রোগ প্রতিরোধী, স্বল্প গ্লাইসেমিক ইনডেক্স (লো-জিআই) সম্পন্ন, জিংকসমৃদ্ধ এবং সুগন্ধি ধানের বিভিন্ন জাত একসঙ্গে প্রদর্শন করা হয়েছে। ফলে কৃষকরা সহজেই বিভিন্ন জাতের পার্থক্য, ফলন সম্ভাবনা ও উপযোগিতা তুলনা করতে পারছেন।

বিশেষ করে উপকূলীয় এলাকার জন্য লবণাক্ততা সহনশীল জাত, ডায়াবেটিস রোগীদের উপযোগী লো-জিআই চাল উৎপাদনকারী জাত এবং প্রিমিয়াম বাজারের জন্য সুগন্ধি ধানের জাত কৃষকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করেছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ধান গবেষণায় নতুন দিগন্ত: ‘রাইস গার্ডেন’ বদলে দিচ্ছে কৃষির চিত্র

আপডেট সময় ১২:২৩:২৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬

বাংলাদেশের কৃষি শুধু খাদ্য উৎপাদনের মাধ্যম নয়, বরং দেশের অর্থনীতি, কর্মসংস্থান এবং খাদ্য নিরাপত্তার অন্যতম ভিত্তি। কৃষিনির্ভর এই দেশে ধান সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফসল। তবে জলবায়ু পরিবর্তন, লবণাক্ততা, খরা, বন্যা, শ্রমিক সংকট ও আবাদযোগ্য জমি কমে যাওয়ার মতো নানা চ্যালেঞ্জের কারণে ধান উৎপাদনকে আরও টেকসই ও বিজ্ঞানভিত্তিক করার প্রয়োজনীয়তা দিন দিন বাড়ছে।

এই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের জন্য উপযোগী ধানের জাত ও প্রযুক্তি উদ্ভাবনের লক্ষ্যে একটি বিশেষ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। “নতুন ছয়টি আঞ্চলিক কার্যালয় স্থাপনের মাধ্যমে স্থানভিত্তিক ধানের জাত ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং বিদ্যমান গবেষণার উন্নয়ন” শীর্ষক এই প্রকল্পের অন্যতম আকর্ষণীয় উদ্যোগ হলো ‘রাইস গার্ডেন’

কী এই রাইস গার্ডেন?

রাইস গার্ডেন মূলত এমন একটি প্রদর্শনী ক্ষেত্র, যেখানে একই স্থানে ব্রি উদ্ভাবিত বিভিন্ন ধানের জাত চাষ করে তাদের বৈশিষ্ট্য, ফলন, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং বিভিন্ন পরিবেশে অভিযোজন সক্ষমতা একসঙ্গে পর্যবেক্ষণের সুযোগ তৈরি করা হয়েছে। এটি শুধু প্রদর্শনী নয়; গবেষক, কৃষক, কৃষি কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীদের জন্য একটি বাস্তবভিত্তিক শেখার কেন্দ্র হিসেবেও কাজ করছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মাঠে সরাসরি নতুন প্রযুক্তি ও জাতের ফলাফল দেখানোর মাধ্যমে কৃষকদের আগ্রহ এবং প্রযুক্তি গ্রহণের প্রবণতা অনেক বেশি বৃদ্ধি পায়। সেই লক্ষ্যেই রাইস গার্ডেনকে কৃষি গবেষণা ও প্রযুক্তি সম্প্রসারণের কার্যকর মাধ্যম হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে।

এক মাঠে ৬১টি ধানের জাত

রাইস গার্ডেনের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো—একই জমিতে ব্রি উদ্ভাবিত মোট ৬১টি বোরো ধানের জাতের সমন্বিত প্রদর্শনী। এর মধ্যে রয়েছে ৫৬টি ইনব্রিড এবং ৫টি হাইব্রিড জাত।

এখানে উচ্চফলনশীল, লবণাক্ততা সহনশীল, ব্লাস্ট রোগ প্রতিরোধী, স্বল্প গ্লাইসেমিক ইনডেক্স (লো-জিআই) সম্পন্ন, জিংকসমৃদ্ধ এবং সুগন্ধি ধানের বিভিন্ন জাত একসঙ্গে প্রদর্শন করা হয়েছে। ফলে কৃষকরা সহজেই বিভিন্ন জাতের পার্থক্য, ফলন সম্ভাবনা ও উপযোগিতা তুলনা করতে পারছেন।

বিশেষ করে উপকূলীয় এলাকার জন্য লবণাক্ততা সহনশীল জাত, ডায়াবেটিস রোগীদের উপযোগী লো-জিআই চাল উৎপাদনকারী জাত এবং প্রিমিয়াম বাজারের জন্য সুগন্ধি ধানের জাত কৃষকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করেছে।