এক ব্যক্তি একটিই ডিলারশিপ
কৃষকদের কাছে সময়মতো এবং নিরবচ্ছিন্নভাবে সার পৌঁছে দিতে সার বিতরণ ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনছে সরকার। এ লক্ষ্যে ‘সার ডিলার নিয়োগ ও সংরক্ষণ নীতিমালা–২০২৫ (সংশোধিত)’ কার্যকর করতে মাঠ প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছে কৃষি মন্ত্রণালয়।
রোববার (৯ আগস্ট ২০২৬) সার ব্যবস্থাপনা ও মনিটরিং অধিদপ্তর থেকে এ সংক্রান্ত একটি অফিস আদেশ জারি করা হয়। আদেশে স্বাক্ষর করেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আহমেদ ফয়সল ইমাম।
উপজেলা পর্যায়ে ন্যূনতম ডিলার সংখ্যা নির্ধারণ
নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতিটি উপজেলায় ইউরিয়া ও নন-ইউরিয়া সার সরবরাহের জন্য কমপক্ষে ৯ জন ডিলার থাকতে হবে। তবে কোনো জেলার কৃষি উৎপাদন, আবাদি জমির পরিমাণ এবং সারের চাহিদা বেশি হলে জেলা প্রশাসন প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত ডিলার নিয়োগ করতে পারবে।
নিয়োগে থাকবে স্থানীয় সুপারিশ
সার ডিলার নিয়োগের ক্ষেত্রে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এবং জেলা ডিলার সমবায়ের সুপারিশের ভিত্তিতে জেলা কমিটি সিদ্ধান্ত নেবে। আবেদন পাওয়ার পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যাচাই-বাছাই সম্পন্ন করে সুপারিশ পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এক ব্যক্তি একটিই ডিলারশিপ
নীতিমালায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, একজন ব্যক্তি একাধিক সার ডিলারশিপের মালিক হতে পারবেন না। এতে বাজারে একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ কমবে এবং প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ তৈরি হবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্টরা।
নতুন ডিলারের জন্য কঠোর শর্ত
নতুন ডিলারদের নিজস্ব গুদাম, গোডাউন এবং সার বিক্রির জন্য প্রয়োজনীয় সার্ভিস সেন্টার থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। বিদ্যমান ডিলারদের লাইসেন্স নবায়নের সময়ও এসব শর্ত পূরণ, স্থানীয় চাহিদা এবং জেলাভিত্তিক কোটা বিবেচনায় নেওয়া হবে।
সরাসরি সরবরাহ নিশ্চিতের নির্দেশ
অফিস আদেশে সার উৎপাদনকারী ও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে ডিলার অথবা উপজেলা পর্যায়ে সরাসরি সার সরবরাহ নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় জেলা কমিটিকে ডিলারদের জন্য ন্যায্য মূল্য নির্ধারণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।
নিয়মিত মনিটরিং ও শাস্তির বিধান
নীতিমালার সঠিক বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে নিয়মিত তদারকির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোনো ডিলার নীতিমালা লঙ্ঘন করলে বা নির্ধারিত শর্ত ভঙ্গ করলে তার ডিলারশিপ বাতিল করা হবে বলে আদেশে উল্লেখ রয়েছে।
স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়ানোর উদ্যোগ
কৃষি মন্ত্রণালয়ের মতে, সংশোধিত নীতিমালার মূল লক্ষ্য হলো সার ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা, অনিয়ম কমানো এবং কৃষকদের কাছে সঠিক সময়ে প্রয়োজনীয় সার পৌঁছে দেওয়া।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন জমা দিতে পারবেন। নীতিমালার বিস্তারিত তথ্য কৃষি মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে বলে জানানো হয়েছে.


























