চিকিৎসা করাতে ঢাকায় এসে লাশ হলেন প্রধান শিক্ষক, সংসদ ভবন এলাকায় ছিনতাইকারীর টানে প্রাণ গেল
চোখের চিকিৎসা করাতে স্বামীর সঙ্গে বগুড়া থেকে ঢাকায় এসেছিলেন রনজিলা পারভীন (৫৭)। পরিকল্পনা ছিল, শনিবার সকালে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে বিকেলেই স্বামীর সঙ্গে বাড়িতে ফিরবেন। কিন্তু সেই পরিকল্পনা আর বাস্তবায়িত হলো না। ছিনতাইকারীদের টানে চলন্ত রিকশা থেকে পড়ে রাজধানীতেই প্রাণ হারাতে হলো এই প্রধান শিক্ষককে।
শনিবার (২৯ আগস্ট) সকাল ৬টার দিকে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজার সামনে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। ছিনতাইকারীদের সঙ্গে ব্যাগ নিয়ে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে রিকশা থেকে রাস্তায় পড়ে গুরুতর আহত হন রনজিলা। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত রনজিলা পারভীন বগুড়ার গাবতলী উপজেলার বাগবাড়ি সরকারি বালিকা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তিনি বগুড়া শহরের রহমান নগর এলাকায় স্বামী আব্দুল মতিন ও একমাত্র মেয়েকে নিয়ে বসবাস করতেন। তার গ্রামের বাড়ি গাবতলী উপজেলার সোনাকানিয়া গ্রামে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, শুক্রবার রাত ১২টার দিকে স্বামীকে সঙ্গে নিয়ে বাসে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন রনজিলা। শনিবার ভোরে গাবতলী বাস টার্মিনালে পৌঁছে তারা ফার্মগেটের ইস্পাহানী ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতালে যাওয়ার জন্য রিকশায় ওঠেন।
পথে সকাল ৬টার দিকে রিকশাটি জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজার সামনে পৌঁছালে মোটরসাইকেলে থাকা দুই ব্যক্তি রনজিলার হাতে থাকা ব্যাগটি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। তারা ব্যাগ ধরে টান দিলে রনজিলা ভারসাম্য হারিয়ে চলন্ত রিকশা থেকে সড়কে পড়ে যান।
পাকা সড়কে পড়ে মাথায় গুরুতর আঘাত পান তিনি। পরে স্বামী ও পথচারীরা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
রনজিলার বড় ভাই জাহিদুল ইসলাম বলেন, চিকিৎসা শেষে শনিবার বিকেলেই বোনের বগুড়ায় ফেরার কথা ছিল। কিন্তু সেই ফেরাটা আর হলো না। ছিনতাইকারীদের কারণে তাকে লাশ হয়ে বাড়িতে ফিরতে হচ্ছে।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। মরদেহ বগুড়ায় নেওয়া হচ্ছে। রোববার সকাল ১০টায় জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।
১৯৮৮ সালে সহকারী শিক্ষক হিসেবে চাকরিজীবন শুরু করেছিলেন রনজিলা পারভীন। দীর্ঘ কর্মজীবনে শিক্ষকতা করে অবশেষে প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন তিনি। তার আকস্মিক ও মর্মান্তিক মৃত্যুতে সহকর্মী, স্বজন এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
চিকিৎসার উদ্দেশ্যে ঢাকায় এসে ছিনতাইকারীদের কবলে পড়ে একজন শিক্ষকের এমন করুণ মৃত্যু রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও নাগরিক নিরাপত্তা নিয়েও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

























