অনলাইনে মাদক বাণিজ্যে কঠোর বার্তা: মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে নতুন আইন পাস
নিজস্ব সংবাদ :
অনলাইনে মাদক কেনাবেচা, সরবরাহ, প্রচার কিংবা লেনদেনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। এ ধরনের অপরাধে সর্বোচ্চ মৃত্যুদণ্ড এবং ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রেখে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) বিল, ২০২৬ জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে।
নতুন আইনে বলা হয়েছে, ওয়েবসাইট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, মোবাইল অ্যাপ, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম বা অন্য যেকোনো ডিজিটাল মাধ্যমে মাদক বাণিজ্য, বিজ্ঞাপন, মধ্যস্থতা বা এ–সংক্রান্ত যোগাযোগ করাও অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে। এমনকি ডিজিটাল পেমেন্ট, ই-ওয়ালেট, ভার্চুয়াল সম্পদ বা ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে মাদক লেনদেনের চেষ্টা করলেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আইনের গুরুত্বপূর্ণ একটি পরিবর্তন হলো—এ ধরনের সাইবার অপরাধ প্রমাণের জন্য অভিযুক্তের কাছ থেকে সরাসরি মাদক উদ্ধার হওয়া বাধ্যতামূলক নয়। ডিজিটাল তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেও বিচার করা যাবে।
এছাড়া গুরুতর মাদক মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য পৃথক মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল গঠনের সুযোগ রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরে সাইবার ক্রাইম নিয়ন্ত্রণ শাখা, ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব, ডগ স্কোয়াড, নিজস্ব হাজতখানা ও অস্ত্রাগার স্থাপনের বিধান যুক্ত করা হয়েছে।
তদন্তের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা কম্পিউটার, মোবাইল ফোন, সার্ভার, ক্লাউড স্টোরেজ, ডিজিটাল ওয়ালেটসহ বিভিন্ন ডিজিটাল তথ্য জব্দ ও ফরেনসিক পরীক্ষা করতে পারবেন। আদালতের নির্দেশে অপরাধে ব্যবহৃত ডিজিটাল অ্যাকাউন্ট, ডিভাইস, ই-ওয়ালেট বা ক্রিপ্টো সম্পদও জব্দ বা বাজেয়াপ্ত করা যাবে।
নতুন আইনে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অনুমোদন ছাড়া বেসরকারি মাদকাসক্তি নিরাময় বা পুনর্বাসন কেন্দ্র পরিচালনার ক্ষেত্রেও সর্বোচ্চ এক বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।
বিলটি পাসের সময় সংসদ সদস্যরা মাদক সিন্ডিকেটের মূল হোতা, অর্থের উৎস এবং সীমান্তপথে মাদক পাচার বন্ধে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো সদস্য মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।