ঢাকা ০২:১৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রায় লিখতে এআই নয়, বিচারকের বিবেকই শেষ কথা: প্রধান বিচারপতি

নিজস্ব সংবাদ :

আদালতের রায় তৈরিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার আইনত নিষিদ্ধ না হলেও এটি বিচারিক নৈতিকতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী। তাঁর মতে, একটি মামলার সিদ্ধান্তে তথ্য ও আইন বিশ্লেষণের পাশাপাশি বিচারকের নিজস্ব বিবেক ও চিন্তাশক্তির ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

শনিবার (২৯ আগস্ট) রাজধানীর এশিয়াটিক সোসাইটি অব বাংলাদেশ মিলনায়তনে ‘এআই গভর্নেন্স সামার স্কুল-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বিচারকদের উদ্দেশে প্রধান বিচারপতি বলেন, একটি রায় প্রস্তুতের ক্ষেত্রে প্রথমেই মামলার প্রকৃত ঘটনা ও সংশ্লিষ্ট তথ্য ভালোভাবে বুঝতে হবে। এরপর ওই তথ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ আইন ও আইনের প্রয়োজনীয় ধারা প্রয়োগ করতে হবে। সবশেষে বিচারিক সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে বিচারকের নিজের বিবেক ও বিচারবোধ কাজে লাগাতে হবে।

তিনি বলেন, মানুষের বিবেক ও স্বতন্ত্র চিন্তাশক্তি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে পরিচালনা করা সম্ভব নয়। বিচারকের নিজস্ব বুদ্ধি ও বিবেচনাবোধ ব্যবহার করেই তথ্য ও আইনের ভিত্তিতে একটি মামলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো উচিত।

এআই দিয়ে রায় লেখার বিষয়ে সতর্ক করে প্রধান বিচারপতি বলেন, প্রযুক্তির ব্যবহার সব ক্ষেত্রে সমানভাবে উপযোগী নয়। আদালতের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে এআইয়ের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

এ প্রসঙ্গে ইংল্যান্ডের একটি ঘটনার উদাহরণ তুলে ধরে তিনি জানান, সম্প্রতি সেখানে এআইয়ের সহায়তায় একটি মামলার রায় তৈরি করা হয়েছিল। পরে দেখা যায়, রায়ে যেসব বিচারিক সিদ্ধান্তের সূত্র বা রেফারেন্স উল্লেখ করা হয়েছিল, সেগুলোর বাস্তবে কোনো অস্তিত্বই ছিল না।

এ ধরনের ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে বিচারিক কাজে এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানান তিনি।

প্রধান বিচারপতি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আধুনিক প্রযুক্তির গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হলেও এর অপব্যবহার ঠেকানো জরুরি। সমাজ ও রাষ্ট্রের কল্যাণে প্রযুক্তির ইতিবাচক ব্যবহার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ডিন মোহাম্মদ একরামুল হক। স্বাগত বক্তব্য দেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তাসনোভা শেলী।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

রায় লিখতে এআই নয়, বিচারকের বিবেকই শেষ কথা: প্রধান বিচারপতি

আপডেট সময় ০২:৪২:২৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬

আদালতের রায় তৈরিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার আইনত নিষিদ্ধ না হলেও এটি বিচারিক নৈতিকতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী। তাঁর মতে, একটি মামলার সিদ্ধান্তে তথ্য ও আইন বিশ্লেষণের পাশাপাশি বিচারকের নিজস্ব বিবেক ও চিন্তাশক্তির ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

শনিবার (২৯ আগস্ট) রাজধানীর এশিয়াটিক সোসাইটি অব বাংলাদেশ মিলনায়তনে ‘এআই গভর্নেন্স সামার স্কুল-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বিচারকদের উদ্দেশে প্রধান বিচারপতি বলেন, একটি রায় প্রস্তুতের ক্ষেত্রে প্রথমেই মামলার প্রকৃত ঘটনা ও সংশ্লিষ্ট তথ্য ভালোভাবে বুঝতে হবে। এরপর ওই তথ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ আইন ও আইনের প্রয়োজনীয় ধারা প্রয়োগ করতে হবে। সবশেষে বিচারিক সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে বিচারকের নিজের বিবেক ও বিচারবোধ কাজে লাগাতে হবে।

তিনি বলেন, মানুষের বিবেক ও স্বতন্ত্র চিন্তাশক্তি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে পরিচালনা করা সম্ভব নয়। বিচারকের নিজস্ব বুদ্ধি ও বিবেচনাবোধ ব্যবহার করেই তথ্য ও আইনের ভিত্তিতে একটি মামলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো উচিত।

এআই দিয়ে রায় লেখার বিষয়ে সতর্ক করে প্রধান বিচারপতি বলেন, প্রযুক্তির ব্যবহার সব ক্ষেত্রে সমানভাবে উপযোগী নয়। আদালতের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে এআইয়ের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

এ প্রসঙ্গে ইংল্যান্ডের একটি ঘটনার উদাহরণ তুলে ধরে তিনি জানান, সম্প্রতি সেখানে এআইয়ের সহায়তায় একটি মামলার রায় তৈরি করা হয়েছিল। পরে দেখা যায়, রায়ে যেসব বিচারিক সিদ্ধান্তের সূত্র বা রেফারেন্স উল্লেখ করা হয়েছিল, সেগুলোর বাস্তবে কোনো অস্তিত্বই ছিল না।

এ ধরনের ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে বিচারিক কাজে এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানান তিনি।

প্রধান বিচারপতি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আধুনিক প্রযুক্তির গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হলেও এর অপব্যবহার ঠেকানো জরুরি। সমাজ ও রাষ্ট্রের কল্যাণে প্রযুক্তির ইতিবাচক ব্যবহার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ডিন মোহাম্মদ একরামুল হক। স্বাগত বক্তব্য দেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তাসনোভা শেলী।