ঢাকা ০১:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৩০ বছরের স্থবিরতা কাটছে, চীনা বিনিয়োগে রামপালে খানজাহান আলী বিমানবন্দর নির্মাণের প্রস্তুতি

নিজস্ব সংবাদ :

রামপালে খানজাহান আলী বিমানবন্দর নির্মাণের প্রস্তুতি

নিজস্ব প্রতিবেদক

দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে কার্যত বন্ধ থাকা বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার খানজাহান আলী বিমানবন্দর প্রকল্পে বড় ধরনের অগ্রগতির ইঙ্গিত মিলেছে। নির্ভরযোগ্য একাধিক সূত্র জানিয়েছে, চীনের একটি বিনিয়োগকারী কারিগরি প্রতিনিধি দল সম্প্রতি প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেছে এবং প্রাথমিকভাবে বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। বিষয়টি এখন সরকারের উচ্চ পর্যায়ে আলোচনায় রয়েছে।

জানা গেছে, গত ২৫ জুলাই প্রতিনিধি দলটি রামপালের প্রস্তাবিত বিমানবন্দর এলাকার অবকাঠামোগত অবস্থা, ভূমির পরিমাণ, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং সম্ভাব্য সম্প্রসারণ সুবিধা সরেজমিনে পর্যালোচনা করে। প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে থাকা মি. পিটার স্থানীয় প্রশাসন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকও করেন।

খুলনা বাগেরহাট প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, প্রকল্পটি পুনরায় চালুর বিষয়ে নতুন করে সক্রিয়তা শুরু হয়েছে। চীনা বিনিয়োগকারীদের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য অর্থায়ন, কারিগরি সহায়তা এবং যৌথ বাস্তবায়ন মডেল নিয়ে আলোচনা চলছে।

১৯৯৬ সালে শুরু, তারপর দীর্ঘ নীরবতা

খানজাহান আলী বিমানবন্দর প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয় ১৯৯৬ সালে। সে সময় এটি দক্ষিণপশ্চিমাঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো প্রকল্প হিসেবে বিবেচিত হয়েছিল। প্রাথমিকভাবে ভূমি উন্নয়ন বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণের কাজ হলেও পরবর্তী সময়ে প্রকল্পটি দীর্ঘদিন স্থবির হয়ে পড়ে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের অভিযোগ, বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক অগ্রাধিকার পরিবর্তন, প্রশাসনিক জটিলতা এবং অর্থায়নের অভাবে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মুখ দেখেনি।

মোংলা বন্দর সুন্দরবনের জন্য কৌশলগত গুরুত্ব

বিশেষজ্ঞদের মতে, রামপালে আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দর নির্মিত হলে মোংলা বন্দর, মোংলা ইপিজেড এবং সুন্দরবনকেন্দ্রিক পর্যটন শিল্পে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। বিদেশি বিনিয়োগকারী, জাহাজ ব্যবসায়ী পর্যটকদের জন্য দ্রুত যোগাযোগ ব্যবস্থা তৈরি হবে।

মৎস্য খাতের উদ্যোক্তারা বলছেন, বিমান কার্গো সুবিধা চালু হলে খুলনা, বাগেরহাট সাতক্ষীরার চিংড়ি অন্যান্য সামুদ্রিক পণ্য সরাসরি বিদেশে রপ্তানির সুযোগ তৈরি হবে, যা রপ্তানি আয় বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

সম্ভাব্য অর্থনৈতিক প্রভাব

প্রকল্পসংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, বিমানবন্দরটি চালু হলে যাত্রী পরিবহনের পাশাপাশি কার্গো অপারেশন, ল্যান্ডিং ফি, পার্কিং চার্জ এবং সংশ্লিষ্ট বাণিজ্যিক কার্যক্রম থেকে উল্লেখযোগ্য রাজস্ব আয় হতে পারে। একই সঙ্গে নির্মাণ পরিচালনা পর্যায়ে হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

সরকারের অবস্থান

পরিবেশ জলবায়ু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী . শেখ ফরিদুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, দীর্ঘদিনের অবহেলার অবসান ঘটিয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তবে এখন পর্যন্ত প্রকল্পের চূড়ান্ত অর্থায়ন, বিনিয়োগ চুক্তি কিংবা নির্মাণ শুরুর নির্দিষ্ট সময়সূচি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি। তবুও চীনা প্রতিনিধি দলের সাম্প্রতিক সফরকে দক্ষিণপশ্চিমাঞ্চলের বহু প্রতীক্ষিত এই মেগা প্রকল্পের জন্য গুরুত্বপূর্ণ মোড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

রামপালের খানজাহান আলী বিমানবন্দর বাস্তবায়িত হলে খুলনা বিভাগের অর্থনীতি, পর্যটন, রপ্তানি কর্মসংস্থানে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে পারেএমন প্রত্যাশাই এখন স্থানীয় মানুষের মুখে মুখে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

৩০ বছরের স্থবিরতা কাটছে, চীনা বিনিয়োগে রামপালে খানজাহান আলী বিমানবন্দর নির্মাণের প্রস্তুতি

আপডেট সময় ০৪:৫১:৩১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক

দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে কার্যত বন্ধ থাকা বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার খানজাহান আলী বিমানবন্দর প্রকল্পে বড় ধরনের অগ্রগতির ইঙ্গিত মিলেছে। নির্ভরযোগ্য একাধিক সূত্র জানিয়েছে, চীনের একটি বিনিয়োগকারী কারিগরি প্রতিনিধি দল সম্প্রতি প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেছে এবং প্রাথমিকভাবে বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। বিষয়টি এখন সরকারের উচ্চ পর্যায়ে আলোচনায় রয়েছে।

জানা গেছে, গত ২৫ জুলাই প্রতিনিধি দলটি রামপালের প্রস্তাবিত বিমানবন্দর এলাকার অবকাঠামোগত অবস্থা, ভূমির পরিমাণ, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং সম্ভাব্য সম্প্রসারণ সুবিধা সরেজমিনে পর্যালোচনা করে। প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে থাকা মি. পিটার স্থানীয় প্রশাসন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকও করেন।

খুলনা বাগেরহাট প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, প্রকল্পটি পুনরায় চালুর বিষয়ে নতুন করে সক্রিয়তা শুরু হয়েছে। চীনা বিনিয়োগকারীদের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য অর্থায়ন, কারিগরি সহায়তা এবং যৌথ বাস্তবায়ন মডেল নিয়ে আলোচনা চলছে।

১৯৯৬ সালে শুরু, তারপর দীর্ঘ নীরবতা

খানজাহান আলী বিমানবন্দর প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয় ১৯৯৬ সালে। সে সময় এটি দক্ষিণপশ্চিমাঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো প্রকল্প হিসেবে বিবেচিত হয়েছিল। প্রাথমিকভাবে ভূমি উন্নয়ন বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণের কাজ হলেও পরবর্তী সময়ে প্রকল্পটি দীর্ঘদিন স্থবির হয়ে পড়ে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের অভিযোগ, বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক অগ্রাধিকার পরিবর্তন, প্রশাসনিক জটিলতা এবং অর্থায়নের অভাবে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মুখ দেখেনি।

মোংলা বন্দর সুন্দরবনের জন্য কৌশলগত গুরুত্ব

বিশেষজ্ঞদের মতে, রামপালে আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দর নির্মিত হলে মোংলা বন্দর, মোংলা ইপিজেড এবং সুন্দরবনকেন্দ্রিক পর্যটন শিল্পে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। বিদেশি বিনিয়োগকারী, জাহাজ ব্যবসায়ী পর্যটকদের জন্য দ্রুত যোগাযোগ ব্যবস্থা তৈরি হবে।

মৎস্য খাতের উদ্যোক্তারা বলছেন, বিমান কার্গো সুবিধা চালু হলে খুলনা, বাগেরহাট সাতক্ষীরার চিংড়ি অন্যান্য সামুদ্রিক পণ্য সরাসরি বিদেশে রপ্তানির সুযোগ তৈরি হবে, যা রপ্তানি আয় বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

সম্ভাব্য অর্থনৈতিক প্রভাব

প্রকল্পসংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, বিমানবন্দরটি চালু হলে যাত্রী পরিবহনের পাশাপাশি কার্গো অপারেশন, ল্যান্ডিং ফি, পার্কিং চার্জ এবং সংশ্লিষ্ট বাণিজ্যিক কার্যক্রম থেকে উল্লেখযোগ্য রাজস্ব আয় হতে পারে। একই সঙ্গে নির্মাণ পরিচালনা পর্যায়ে হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

সরকারের অবস্থান

পরিবেশ জলবায়ু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী . শেখ ফরিদুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, দীর্ঘদিনের অবহেলার অবসান ঘটিয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তবে এখন পর্যন্ত প্রকল্পের চূড়ান্ত অর্থায়ন, বিনিয়োগ চুক্তি কিংবা নির্মাণ শুরুর নির্দিষ্ট সময়সূচি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি। তবুও চীনা প্রতিনিধি দলের সাম্প্রতিক সফরকে দক্ষিণপশ্চিমাঞ্চলের বহু প্রতীক্ষিত এই মেগা প্রকল্পের জন্য গুরুত্বপূর্ণ মোড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

রামপালের খানজাহান আলী বিমানবন্দর বাস্তবায়িত হলে খুলনা বিভাগের অর্থনীতি, পর্যটন, রপ্তানি কর্মসংস্থানে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে পারেএমন প্রত্যাশাই এখন স্থানীয় মানুষের মুখে মুখে।