সার নিয়ে গুজব না ছড়ানোর আহ্বান: কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা হলে কঠোর ব্যবস্থা
দেশে সারের কোনো ঘাটতি নেই বলে জানিয়েছেন কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। তিনি বলেছেন, সার সংকটের নামে যেসব গুজব ছড়ানো হচ্ছে সেগুলো বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। সরকার নির্ধারিত দামের বাইরে অতিরিক্ত মূল্যে সার বিক্রি করে কেউ বাজারে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মঙ্গলবার গাজীপুরের জয়দেবপুরে কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী জানান, বর্তমানে দেশে পর্যাপ্ত পরিমাণ সার মজুত রয়েছে এবং আমদানি ও সরবরাহ ব্যবস্থাও স্বাভাবিক রয়েছে। কোথাও যাতে সরবরাহে বিঘ্ন না ঘটে সেজন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে আরও সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী বেশি দামে সার বিক্রির মাধ্যমে কৃত্রিম সংকট তৈরির অপচেষ্টা করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে, যা সরকার গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে।
বাজার পরিস্থিতি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কোনো পণ্যের সরবরাহ পর্যাপ্ত থাকলে তার দাম অযৌক্তিকভাবে বেড়ে যাওয়ার কথা নয়। বাজারে পণ্য থাকা সত্ত্বেও মূল্যবৃদ্ধির পেছনে কী কারণ কাজ করছে তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। কৃষিপণ্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে আরও সক্রিয়ভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
গবেষণার গুরুত্ব তুলে ধরে কৃষিমন্ত্রী বলেন, গবেষণার মূল লক্ষ্য হতে হবে মানুষের প্রয়োজন পূরণ এবং সময়ের চাহিদা মোকাবিলা করা। দেশের কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলো ইতোমধ্যে বিভিন্ন উন্নত জাত ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছে, যা কৃষকদের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং ক্ষতি কমাতে সহায়তা করছে।
হাওড় অঞ্চলের আগাম বন্যা পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রতি বছরই অনেক কৃষক আগাম বন্যার কারণে ক্ষতির মুখে পড়েন। এ সমস্যা মোকাবিলায় গবেষকদের হাওড় উপযোগী দ্রুত পরিপক্ব ধানের জাত উদ্ভাবনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। ইতোমধ্যে একটি নতুন জাত উদ্ভাবিত হয়েছে এবং আগামী মৌসুমে প্রায় ৩০ টন বীজ কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করা হবে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুন জাতের ধান চাষের ফলে কৃষকরা আগের তুলনায় আরও আগে ফসল ঘরে তুলতে পারবেন। এতে বর্ষা ও আগাম বন্যার ঝুঁকি অনেকাংশে কমে আসবে এবং হাওড় অঞ্চলের কৃষকরা বেশি সুরক্ষা পাবেন।
কৃষিপণ্য রপ্তানির সম্ভাবনা নিয়েও আশাবাদ ব্যক্ত করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি আধুনিক প্যাকেজিং, সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং মাননিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা গেলে কৃষিপণ্য বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান রপ্তানি খাতে পরিণত হতে পারে। আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন প্যাকেজিং ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি জানান।
পরিদর্শনকালে কৃষি সচিব ড. রফিকুল ই মোহামেদ উপস্থিত ছিলেন।























