হবিগঞ্জে এনসিপির পথসভা ঘিরে সংঘর্ষ, নাসীরুদ্দীন–সারজিসের গাড়িবহরে হামলার অভিযোগ
হবিগঞ্জ শহরে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার জেরে দলের মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমের গাড়িবহরে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন বলে এনসিপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশকে অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করতে হয় এবং পরে নিরাপত্তা দিয়ে নেতাদের ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়।
মঙ্গলবার বিকেলে হবিগঞ্জ টাউন হল চত্বরে এনসিপির ‘জুলাই পদযাত্রা’ ও পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও সারজিস আলম আজমিরীগঞ্জে ‘জুলাই জাগরণ’ কর্মসূচিতে অংশ নেন এবং বানিয়াচংয়ে জুলাই আন্দোলনের শহীদদের কবর জিয়ারত করেন।
পথসভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী দেশ সংস্কার, শহীদদের বিচার এবং প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেন। একই সঙ্গে তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, স্থানীয় সংসদ সদস্য ও হুইপ জি কে গউছসহ বিএনপির কিছু নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা ও টেন্ডারবাজির অভিযোগ তোলেন। তার এই বক্তব্যের পর থেকেই এলাকায় উত্তেজনা বাড়তে থাকে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।
সভা শেষে নেতারা সার্কিট হাউসের উদ্দেশ্যে রওনা দিলে শহরের একটি এলাকায় তাদের বহর ঘিরে ফেলা হয়। এনসিপির অভিযোগ, বিএনপি, ছাত্রদল ও যুবদলের কর্মীরা মাইক্রোবাস থামিয়ে চালককে মারধর করেন এবং পরে গাড়ির ভেতরে থাকা নেতাকর্মীদের ওপরও হামলা চালান। এ সময় ছবি তুলতে গেলে স্থানীয় এক সাংবাদিকও হামলার শিকার হন বলে জানা গেছে।
পরিস্থিতি বেগতিক দেখে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, সারজিস আলমসহ কয়েকজন নেতা-কর্মী সোনালী ব্যাংকের হবিগঞ্জ প্রধান শাখায় আশ্রয় নেন। আহতদের হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। প্রায় আধাঘণ্টা পর পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের উদ্ধার করে সার্কিট হাউসে নিয়ে যায়।
ঘটনাস্থলে একদল লোক ‘ভুয়া, ভুয়া’ স্লোগান দেয়, অন্যদিকে পুলিশের নিরাপত্তায় সরিয়ে নেওয়ার সময় এনসিপির কর্মীরা ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ স্লোগান দেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ একটি সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে।
সারজিস আলম দাবি করেন, স্থানীয় হুইপ জি কে গউছের অনুসারী এবং ছাত্রদলের কিছু কর্মী পরিকল্পিতভাবে এ হামলা চালিয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, হামলায় তাদের এক কর্মীর একটি চোখ গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং মেয়র পদপ্রার্থী মুবিনের হাত ভেঙে গেছে। তিনি নিজেও আঙুলে আঘাত পেয়েছেন বলে জানান।
অন্যদিকে জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান বলেন, এনসিপি নেতাদের ‘অশালীন ও উসকানিমূলক’ বক্তব্যের প্রতিবাদ করতে গিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। ছাত্রদলের একটি সূত্রও স্বীকার করেছে যে বক্তব্যকে কেন্দ্র করে নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল।
রাত ১০টার দিকে পুলিশ পাহারায় সারজিস আলমসহ এনসিপির শীর্ষ নেতাদের হবিগঞ্জ থেকে মৌলভীবাজারে পাঠানো হয়। সার্কিট হাউস ও আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রেখে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

























