খুলনায় সাংবাদিকদের লক্ষ্য করে গভীর রাতে গুলি, অল্পের জন্য রক্ষা; একই রাতে ককটেল বিস্ফোরণে আতঙ্ক
খুলনা মহানগরীতে একই রাতে দুটি পৃথক সহিংস ঘটনায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। গভীর রাতে কয়েকজন সাংবাদিককে লক্ষ্য করে গুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে প্রাণহানির ঘটনা না ঘটলেও এক সাংবাদিক সামান্য আহত হয়েছেন। অন্যদিকে, শহরের আরেক এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটেছে।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে মহানগরীর জাতিসংঘ শিশুপার্কের পশ্চিম পাশে একটি চায়ের দোকানের সামনে এ গুলির ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো কয়েকজন সাংবাদিক দিনের কাজ শেষে সেখানে বসে আলাপচারিতা করছিলেন। উপস্থিতদের মধ্যে ছিলেন এসএ টিভির খুলনা প্রতিনিধি রকিবুল ইসলাম মতি, স্টার নিউজের খুলনা ব্যুরো প্রধান রাফিউল ইসলাম টুটুল, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড-এর খুলনা ব্যুরো প্রধান আওয়াল শেখ, দৈনিক খুলনাঞ্চলের সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার সৈয়দ রানা কবীরসহ আরও কয়েকজন।
এ সময় মোটরসাইকেলে করে আসা দুই যুবক তাদের দিকে গুলি ছুড়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। একটি গুলি পাশের একটি চেয়ারে বিদ্ধ হয়। গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়। তবে ছিটকে আসা ধাতব কণায় সাংবাদিক আওয়াল শেখ সামান্য আহত হন। পরে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
এসএ টিভির প্রতিনিধি রকিবুল ইসলাম মতি জানান, ঘটনার পরপরই পুলিশকে খবর দেওয়া হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করেন।
দৈনিক খুলনাঞ্চলের সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার সৈয়দ রানা কবীর বলেন, গুলিটি চেয়ারে আঘাত হানার পর এর একটি ধাতব অংশ সাংবাদিক আওয়াল শেখের বুকে লাগে। তিনি বর্তমানে শঙ্কামুক্ত রয়েছেন।
খুলনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম জানান, ঘটনাস্থল থেকে গুলির আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। কী উদ্দেশ্যে এই হামলা চালানো হয়েছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
এদিকে একই রাতে, রাত প্রায় ১১টার দিকে খুলনা মহানগরীর নূরনগর মোড়ের বিশ্বাসপাড়া এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, কয়েকটি মোটরসাইকেলে করে আসা একদল দুর্বৃত্ত পরপর তিনটি ককটেল নিক্ষেপ করে দ্রুত পালিয়ে যায়। এর মধ্যে দুটি বিস্ফোরিত হলেও একটি অবিস্ফোরিত অবস্থায় পড়ে থাকে।
স্থানীয়দের দাবি, বিস্ফোরণের সময় হামলাকারীরা উচ্চস্বরে চিৎকার ও গালিগালাজ করছিল, ফলে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অবিস্ফোরিত ককটেলটি নিরাপদে অপসারণের ব্যবস্থা নেয় এবং ঘটনার তদন্ত শুরু করে।
একই রাতে গুলি ও ককটেল হামলার দুটি ঘটনায় নগরজুড়ে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে কাজ করছে।


























