ঢাকা ০৮:১১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জনস্বাস্থ্য সচেতনতায় যৌথ উদ্যোগের ডাক: ডিজিটাল কনটেন্টে গুরুত্ব দিল সরকার

নিজস্ব সংবাদ :

দেশের সার্বিক জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করতে স্বাস্থ্য সচেতনতা কার্যক্রমকে আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও সমন্বিতভাবে পরিচালনার আহ্বান জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। তিনি বলেছেন, স্বাস্থ্য ও তথ্য মন্ত্রণালয়ের বিদ্যমান সম্পদ, জনবল ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতাকে একত্রে ব্যবহার করলে জনসচেতনতা কার্যক্রম আরও বিস্তৃত ও ফলপ্রসূ হবে।

বুধবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের যৌথ মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, উন্নত বিশ্বে শিশুদের ছোটবেলা থেকেই স্বাস্থ্যঝুঁকি, পরিচ্ছন্নতা ও সুস্থ জীবনযাপন সম্পর্কে শিক্ষা দেওয়া হয়। বাংলাদেশের সামাজিক বাস্তবতা ও পারিবারিক মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে একটি কার্যকর সামাজিক স্বাস্থ্য সচেতনতা কর্মসূচি গ্রহণের প্রয়োজন রয়েছে।

তিনি জানান, এই কর্মসূচি শুধু পরিবার পরিকল্পনায় সীমাবদ্ধ থাকবে না। শিশুস্বাস্থ্য, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, কৈশোরকালীন স্বাস্থ্য শিক্ষা, পুষ্টি, পরিচ্ছন্নতা এবং রোগ প্রতিরোধ—সব বিষয়ই এতে অন্তর্ভুক্ত হওয়া উচিত।

ইয়াসের খান চৌধুরী আরও বলেন, সীমিত যানবাহন, জ্বালানি ও জনবল সংকট থাকলেও জনস্বার্থের কাজ থেমে থাকতে পারে না। সরকারি সম্পদ জনগণের কল্যাণে সর্বোচ্চভাবে ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য গণমাধ্যম, টেলিভিশন, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে স্বাস্থ্যবার্তা প্রচারের শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে কাজে লাগানোর ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি উল্লেখ করেন, স্বাস্থ্যখাতে প্রচার কার্যক্রমে অনেক ক্ষেত্রে একই ধরনের কাজ একাধিক সংস্থা করছে, ফলে সম্পদের অপচয় হচ্ছে। তথ্য অধিদপ্তর ও গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের মাধ্যমে আধুনিক ভিডিও, রিলস, অ্যানিমেশন ও অন্যান্য ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি করে সারা দেশে সমন্বিতভাবে প্রচার চালানো সম্ভব বলে তিনি মত দেন।

মাঠপর্যায়ে সচেতনতা বাড়াতে উঠান বৈঠক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ইউনিয়ন পরিষদ এবং স্থানীয় কমিউনিটি পর্যায়ে স্বাস্থ্যবার্তা পৌঁছে দেওয়ার কথাও তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, বর্তমান প্রজন্মের মধ্যে আচরণগত পরিবর্তন আনতে ভিজ্যুয়াল ও ডিজিটাল কনটেন্ট অত্যন্ত কার্যকর। অনেক মানুষ বই বা লিখিত উপকরণের চেয়ে ভিডিও ও চিত্রভিত্তিক বার্তায় বেশি সাড়া দেয়।

সভায় তিনি দ্রুত একটি সমন্বিত অ্যাকশন প্ল্যান তৈরির নির্দেশনা দেন। এতে পাইলট প্রকল্পের পাশাপাশি সারা দেশে পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের রূপরেখা অন্তর্ভুক্ত থাকবে বলে জানান।

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত বলেন, স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মকে আরও কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে হবে। বিশেষ করে কিশোর-কিশোরীদের লক্ষ্য করে আচরণগত পরিবর্তনমূলক বার্তা প্রচার জরুরি।

তিনি বলেন, শৈশবে গড়ে ওঠা স্বাস্থ্যকর অভ্যাস দীর্ঘমেয়াদে মানুষের জীবনধারাকে প্রভাবিত করে। তাই সঠিক বয়সে সঠিক স্বাস্থ্যবার্তা পৌঁছে দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি পরিবার পরিকল্পনা বিষয়ে গণমাধ্যম ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি যৌথ কর্মশালা আয়োজনের প্রস্তাবও দেন তিনি।

সভায় স্বাস্থ্য সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী, প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ, গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (চলতি দায়িত্ব) মো. আবদুল জলিল, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. জিন্নাত রেহানা এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মাহফুজা আক্তারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনায় দুই মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয় জোরদার করে জনস্বাস্থ্য বিষয়ক আধুনিক, লক্ষ্যভিত্তিক ও কার্যকর প্রচার কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনস্বাস্থ্য সচেতনতায় যৌথ উদ্যোগের ডাক: ডিজিটাল কনটেন্টে গুরুত্ব দিল সরকার

আপডেট সময় ০৩:২৪:৩১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬

দেশের সার্বিক জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করতে স্বাস্থ্য সচেতনতা কার্যক্রমকে আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও সমন্বিতভাবে পরিচালনার আহ্বান জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। তিনি বলেছেন, স্বাস্থ্য ও তথ্য মন্ত্রণালয়ের বিদ্যমান সম্পদ, জনবল ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতাকে একত্রে ব্যবহার করলে জনসচেতনতা কার্যক্রম আরও বিস্তৃত ও ফলপ্রসূ হবে।

বুধবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের যৌথ মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, উন্নত বিশ্বে শিশুদের ছোটবেলা থেকেই স্বাস্থ্যঝুঁকি, পরিচ্ছন্নতা ও সুস্থ জীবনযাপন সম্পর্কে শিক্ষা দেওয়া হয়। বাংলাদেশের সামাজিক বাস্তবতা ও পারিবারিক মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে একটি কার্যকর সামাজিক স্বাস্থ্য সচেতনতা কর্মসূচি গ্রহণের প্রয়োজন রয়েছে।

তিনি জানান, এই কর্মসূচি শুধু পরিবার পরিকল্পনায় সীমাবদ্ধ থাকবে না। শিশুস্বাস্থ্য, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, কৈশোরকালীন স্বাস্থ্য শিক্ষা, পুষ্টি, পরিচ্ছন্নতা এবং রোগ প্রতিরোধ—সব বিষয়ই এতে অন্তর্ভুক্ত হওয়া উচিত।

ইয়াসের খান চৌধুরী আরও বলেন, সীমিত যানবাহন, জ্বালানি ও জনবল সংকট থাকলেও জনস্বার্থের কাজ থেমে থাকতে পারে না। সরকারি সম্পদ জনগণের কল্যাণে সর্বোচ্চভাবে ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য গণমাধ্যম, টেলিভিশন, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে স্বাস্থ্যবার্তা প্রচারের শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে কাজে লাগানোর ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি উল্লেখ করেন, স্বাস্থ্যখাতে প্রচার কার্যক্রমে অনেক ক্ষেত্রে একই ধরনের কাজ একাধিক সংস্থা করছে, ফলে সম্পদের অপচয় হচ্ছে। তথ্য অধিদপ্তর ও গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের মাধ্যমে আধুনিক ভিডিও, রিলস, অ্যানিমেশন ও অন্যান্য ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি করে সারা দেশে সমন্বিতভাবে প্রচার চালানো সম্ভব বলে তিনি মত দেন।

মাঠপর্যায়ে সচেতনতা বাড়াতে উঠান বৈঠক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ইউনিয়ন পরিষদ এবং স্থানীয় কমিউনিটি পর্যায়ে স্বাস্থ্যবার্তা পৌঁছে দেওয়ার কথাও তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, বর্তমান প্রজন্মের মধ্যে আচরণগত পরিবর্তন আনতে ভিজ্যুয়াল ও ডিজিটাল কনটেন্ট অত্যন্ত কার্যকর। অনেক মানুষ বই বা লিখিত উপকরণের চেয়ে ভিডিও ও চিত্রভিত্তিক বার্তায় বেশি সাড়া দেয়।

সভায় তিনি দ্রুত একটি সমন্বিত অ্যাকশন প্ল্যান তৈরির নির্দেশনা দেন। এতে পাইলট প্রকল্পের পাশাপাশি সারা দেশে পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের রূপরেখা অন্তর্ভুক্ত থাকবে বলে জানান।

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত বলেন, স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মকে আরও কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে হবে। বিশেষ করে কিশোর-কিশোরীদের লক্ষ্য করে আচরণগত পরিবর্তনমূলক বার্তা প্রচার জরুরি।

তিনি বলেন, শৈশবে গড়ে ওঠা স্বাস্থ্যকর অভ্যাস দীর্ঘমেয়াদে মানুষের জীবনধারাকে প্রভাবিত করে। তাই সঠিক বয়সে সঠিক স্বাস্থ্যবার্তা পৌঁছে দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি পরিবার পরিকল্পনা বিষয়ে গণমাধ্যম ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি যৌথ কর্মশালা আয়োজনের প্রস্তাবও দেন তিনি।

সভায় স্বাস্থ্য সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী, প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ, গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (চলতি দায়িত্ব) মো. আবদুল জলিল, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. জিন্নাত রেহানা এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মাহফুজা আক্তারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনায় দুই মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয় জোরদার করে জনস্বাস্থ্য বিষয়ক আধুনিক, লক্ষ্যভিত্তিক ও কার্যকর প্রচার কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়।