ঢাকা ১২:৫৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরান-আমিরাতের পুরোনো বিরোধে এবার নতুন মোড়

কাগজের খবর ডেস্ক:

ইরান-আমিরাতের পুরোনো বিরোধে এবার নতুন মোড়

ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে দীর্ঘদিনের টানাপোড়েন পেছনে ফেলে নতুনভাবে সম্পর্ক গড়ার ঘোষণা দিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।

নয়াদিল্লিতে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবির যুবরাজ শেখ খালেদ বিন মোহামেদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে বৈঠক করেন পেজেশকিয়ান। বৈঠক শেষে তিনি জানান, দুই দেশ অতীতের বিরোধ পেছনে ফেলে নতুন অধ্যায় শুরু করতে সম্মত হয়েছে।

পেজেশকিয়ান বলেন, সংকট শুরুর পর পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে নানা ঘটনা ঘটলেও আমিরাতের নেতার সঙ্গে তাদের আলোচনা অত্যন্ত গঠনমূলক হয়েছে। ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ আঞ্চলিক কোনো প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে ইরানের ক্ষোভ নেই। ইরানের মূল আপত্তি এসব দেশে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি নিয়ে, যেগুলো ব্যবহার করে ইরানের ওপর হামলা চালানো হচ্ছে।

পেজেশকিয়ান বলেন, উপসাগরীয় দেশগুলো ইরানের ভাইয়ের মতো। দীর্ঘদিন ধরে তারা পাশাপাশি বসবাস ও বাণিজ্য করে আসছে। তবে কোনো মিত্র দেশের ভূখণ্ড বা সামরিক ঘাঁটি প্রতিবেশী দেশের বিরুদ্ধে হামলার জন্য ব্যবহার করতে দেওয়া উচিত নয়।

এদিকে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক উত্তেজনা কমাতে ওমানে উপসাগরীয় দেশগুলোর জোটের সঙ্গে ইরানের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। এ বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, উপসাগরীয় দেশগুলো ইরানের সঙ্গে বৈঠক করল কি না, তা নিয়ে তার কোনো মাথাব্যথা নেই।

বিশ্বের মোট খনিজ তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়। এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাতের মধ্যেই ইরান ও আমিরাতের শীর্ষ পর্যায়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

ইরান-আমিরাতের পুরোনো বিরোধে এবার নতুন মোড়

আপডেট সময় ০৬:৩৬:৫১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে দীর্ঘদিনের টানাপোড়েন পেছনে ফেলে নতুনভাবে সম্পর্ক গড়ার ঘোষণা দিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।

নয়াদিল্লিতে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবির যুবরাজ শেখ খালেদ বিন মোহামেদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে বৈঠক করেন পেজেশকিয়ান। বৈঠক শেষে তিনি জানান, দুই দেশ অতীতের বিরোধ পেছনে ফেলে নতুন অধ্যায় শুরু করতে সম্মত হয়েছে।

পেজেশকিয়ান বলেন, সংকট শুরুর পর পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে নানা ঘটনা ঘটলেও আমিরাতের নেতার সঙ্গে তাদের আলোচনা অত্যন্ত গঠনমূলক হয়েছে। ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ আঞ্চলিক কোনো প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে ইরানের ক্ষোভ নেই। ইরানের মূল আপত্তি এসব দেশে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি নিয়ে, যেগুলো ব্যবহার করে ইরানের ওপর হামলা চালানো হচ্ছে।

পেজেশকিয়ান বলেন, উপসাগরীয় দেশগুলো ইরানের ভাইয়ের মতো। দীর্ঘদিন ধরে তারা পাশাপাশি বসবাস ও বাণিজ্য করে আসছে। তবে কোনো মিত্র দেশের ভূখণ্ড বা সামরিক ঘাঁটি প্রতিবেশী দেশের বিরুদ্ধে হামলার জন্য ব্যবহার করতে দেওয়া উচিত নয়।

এদিকে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক উত্তেজনা কমাতে ওমানে উপসাগরীয় দেশগুলোর জোটের সঙ্গে ইরানের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। এ বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, উপসাগরীয় দেশগুলো ইরানের সঙ্গে বৈঠক করল কি না, তা নিয়ে তার কোনো মাথাব্যথা নেই।

বিশ্বের মোট খনিজ তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়। এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাতের মধ্যেই ইরান ও আমিরাতের শীর্ষ পর্যায়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো।