ঢাকা ০৭:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হারমানপ্রীতের সঙ্গে হাত না মেলানো নিয়ে নিগারের পাশে বিসিবি, তবে সিদ্ধান্তটি ‘ব্যক্তিগত’

নিজস্ব সংবাদ :

ভারতের অধিনায়ক হারমানপ্রীত কৌরের সঙ্গে হাত না মেলানোর ঘটনায় বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতির সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নারী ক্রিকেট বিভাগের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বাবু। তবে তিনি স্পষ্ট করেছেন, এ বিষয়ে বোর্ডের কোনো নির্দেশনা ছিল না; পুরো বিষয়টিই নিগারের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত।

চলমান নারী এশিয়া কাপের সেমিফাইনালে ভারতের কাছে ৪০ রানে পরাজিত হয়ে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেয় বাংলাদেশ। ম্যাচের পর দুই দলের অধিনায়কের মধ্যে প্রচলিত করমর্দন না হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে ক্রিকেট অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়।

সাম্প্রতিক সময়ে ভারত-পাকিস্তান ক্রিকেটে রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রভাব মাঠেও দেখা গেছে। পুরুষদের ক্রিকেটে দুই দলের অধিনায়কদের করমর্দন না করার ঘটনাও সামনে এসেছে। এবার বাংলাদেশ-ভারত নারী ক্রিকেটের ম্যাচে একই ধরনের দৃশ্য দেখা যাওয়ায় বিষয়টি আরও আলোচনায় আসে।

তবে বিসিবির নারী ক্রিকেট বিভাগের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বাবু জানিয়েছেন, এ সিদ্ধান্তের সঙ্গে বোর্ডের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

ক্রিকবাজকে তিনি বলেন, হারমানপ্রীতের সঙ্গে হাত না মেলানোর সিদ্ধান্ত নিগার নিজেই নিয়েছেন। বিসিবি মনে করে, খেলাধুলা মানুষের মধ্যে বন্ধন তৈরি করে এবং ভারতসহ সব দেশের সঙ্গেই বাংলাদেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক থাকা উচিত।

এদিকে শুধু করমর্দনের ঘটনাই নয়, নিগার সুলতানা জ্যোতির অধিনায়কত্বের ভবিষ্যৎ নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। নারী ক্রিকেট বিভাগের চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, নিগারের বিরুদ্ধে কিছু অসদাচরণের অভিযোগ বোর্ডে এসেছে। একই সঙ্গে দলের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সও পর্যালোচনার আওতায় রয়েছে।

তবে এখনই অধিনায়কত্ব নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে না। এশিয়ান গেমস শেষ হওয়ার পর পুরো বিষয়টি মূল্যায়ন করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানিয়েছেন বাবু।

তার ভাষ্য, নিগারের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এবং দলের পারফরম্যান্স—দুই বিষয় নিয়েই বোর্ড সভাপতির সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। সামনে এশিয়ান গেমস থাকায় আপাতত সেদিকেই মনোযোগ দিতে চায় বোর্ড।

বিসিবির এই কর্মকর্তা আরও জানান, বড় দলগুলোর বিপক্ষে বাংলাদেশ এখনও প্রত্যাশিত সাফল্য পাচ্ছে না। বিশ্বকাপেও দলের লড়াই করার সামর্থ্য দেখা গেলেও গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ছোটখাটো ভুলের কারণে ম্যাচ হাতছাড়া হয়েছে। তাই দলকে আরও শক্তিশালী ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করতে কাজ চলছে।

এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স দেখার পর নারী দলের নেতৃত্ব, কাঠামো ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে নতুন করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন নারী ক্রিকেট বিভাগের চেয়ারম্যান।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

হারমানপ্রীতের সঙ্গে হাত না মেলানো নিয়ে নিগারের পাশে বিসিবি, তবে সিদ্ধান্তটি ‘ব্যক্তিগত’

আপডেট সময় ০১:০৪:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ভারতের অধিনায়ক হারমানপ্রীত কৌরের সঙ্গে হাত না মেলানোর ঘটনায় বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতির সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নারী ক্রিকেট বিভাগের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বাবু। তবে তিনি স্পষ্ট করেছেন, এ বিষয়ে বোর্ডের কোনো নির্দেশনা ছিল না; পুরো বিষয়টিই নিগারের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত।

চলমান নারী এশিয়া কাপের সেমিফাইনালে ভারতের কাছে ৪০ রানে পরাজিত হয়ে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেয় বাংলাদেশ। ম্যাচের পর দুই দলের অধিনায়কের মধ্যে প্রচলিত করমর্দন না হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে ক্রিকেট অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়।

সাম্প্রতিক সময়ে ভারত-পাকিস্তান ক্রিকেটে রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রভাব মাঠেও দেখা গেছে। পুরুষদের ক্রিকেটে দুই দলের অধিনায়কদের করমর্দন না করার ঘটনাও সামনে এসেছে। এবার বাংলাদেশ-ভারত নারী ক্রিকেটের ম্যাচে একই ধরনের দৃশ্য দেখা যাওয়ায় বিষয়টি আরও আলোচনায় আসে।

তবে বিসিবির নারী ক্রিকেট বিভাগের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বাবু জানিয়েছেন, এ সিদ্ধান্তের সঙ্গে বোর্ডের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

ক্রিকবাজকে তিনি বলেন, হারমানপ্রীতের সঙ্গে হাত না মেলানোর সিদ্ধান্ত নিগার নিজেই নিয়েছেন। বিসিবি মনে করে, খেলাধুলা মানুষের মধ্যে বন্ধন তৈরি করে এবং ভারতসহ সব দেশের সঙ্গেই বাংলাদেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক থাকা উচিত।

এদিকে শুধু করমর্দনের ঘটনাই নয়, নিগার সুলতানা জ্যোতির অধিনায়কত্বের ভবিষ্যৎ নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। নারী ক্রিকেট বিভাগের চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, নিগারের বিরুদ্ধে কিছু অসদাচরণের অভিযোগ বোর্ডে এসেছে। একই সঙ্গে দলের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সও পর্যালোচনার আওতায় রয়েছে।

তবে এখনই অধিনায়কত্ব নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে না। এশিয়ান গেমস শেষ হওয়ার পর পুরো বিষয়টি মূল্যায়ন করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানিয়েছেন বাবু।

তার ভাষ্য, নিগারের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এবং দলের পারফরম্যান্স—দুই বিষয় নিয়েই বোর্ড সভাপতির সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। সামনে এশিয়ান গেমস থাকায় আপাতত সেদিকেই মনোযোগ দিতে চায় বোর্ড।

বিসিবির এই কর্মকর্তা আরও জানান, বড় দলগুলোর বিপক্ষে বাংলাদেশ এখনও প্রত্যাশিত সাফল্য পাচ্ছে না। বিশ্বকাপেও দলের লড়াই করার সামর্থ্য দেখা গেলেও গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ছোটখাটো ভুলের কারণে ম্যাচ হাতছাড়া হয়েছে। তাই দলকে আরও শক্তিশালী ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করতে কাজ চলছে।

এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স দেখার পর নারী দলের নেতৃত্ব, কাঠামো ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে নতুন করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন নারী ক্রিকেট বিভাগের চেয়ারম্যান।