টানা ভারী বৃষ্টির সতর্কবার্তা: আগামী কয়েক দিনে ৭ জেলায় বন্যার শঙ্কা, নদীর পানি বিপৎসীমা ছুঁতে পারে
আগামী এক সপ্তাহ দেশের উত্তর-পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে টানা ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা থাকায় কয়েকটি জেলায় স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে সতর্ক করেছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।
রোববার (৫ জুলাই) রাতে প্রকাশিত বিশেষ পূর্বাভাসে জানানো হয়, আগামী ১২ জুলাই পর্যন্ত সিলেট, ময়মনসিংহ ও চট্টগ্রাম বিভাগসহ পার্শ্ববর্তী ভারতের মেঘালয়, আসাম, বরাক অববাহিকা, ত্রিপুরা এবং মিয়ানমারের পার্বত্য এলাকায় ব্যাপক বৃষ্টিপাত হতে পারে। কোথাও কোথাও ১০০ থেকে ১৫০ মিলিমিটারের বেশি এবং স্থানভেদে ৩৫০ থেকে ৫০০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
পূর্বাভাস অনুযায়ী, এই অতিবৃষ্টির প্রভাবে আগামী পাঁচ দিনের মধ্যে চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে। এতে বান্দরবান, কক্সবাজার, ফেনী, চট্টগ্রাম ও খাগড়াছড়ির কিছু এলাকায় নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করার আশঙ্কা রয়েছে। এসব জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে। পাশাপাশি লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালীর নিচু এলাকায় সাময়িক প্লাবন বা জলাবদ্ধতারও সম্ভাবনা রয়েছে।
বিশেষ বার্তায় আরও বলা হয়েছে, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও সংলগ্ন উত্তর উড়িষ্যা-পশ্চিমবঙ্গ উপকূলে অবস্থানরত মৌসুমি নিম্নচাপ দেশের পূর্বাঞ্চলে বৃষ্টিপাতের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে, যা নদ-নদীর পানির উচ্চতা দ্রুত বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হতে পারে।
চট্টগ্রাম অঞ্চলের গোমতী, মুহুরী, ফেনী, সিলোনিয়া, হালদা, সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি ইতোমধ্যে বাড়তে শুরু করেছে। আগামী ১০ জুলাই পর্যন্ত উজানে ভারী বৃষ্টির প্রভাবে এসব নদীর পানি আরও দ্রুত বাড়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মনু, ধলাই ও খোয়াই নদীর পানি গত ২৪ ঘণ্টায় বৃদ্ধি পেলেও সুরমা-কুশিয়ারা, সারিগোয়াইন, যাদুকাটা, সোমেশ্বরী এবং ভুগাই-কংস নদীর পানি কিছুটা কমেছে। তবে আগামী কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টিতে এসব নদীতেও পানি দ্রুত বাড়তে পারে। ৮ থেকে ১০ জুলাইয়ের মধ্যে কিছু নদীতে পানি সতর্কসীমার কাছাকাছি পৌঁছানোর আশঙ্কা রয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, নেত্রকোণা, শেরপুর ও ময়মনসিংহ জেলার নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের কিছু এলাকায় সাময়িক প্লাবনের সম্ভাবনার কথাও জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।
এদিকে উত্তরাঞ্চলের পরিস্থিতি তুলনামূলক স্বাভাবিক রয়েছে। রংপুর বিভাগের তিস্তা নদীর পানি স্থিতিশীল থাকলেও ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি বর্তমানে বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আগামী দুই দিন পানি আরও কমতে পারে, তবে ৮ থেকে ১০ জুলাইয়ের মধ্যে আবারও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
পরিস্থিতি বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার এবং স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা অনুসরণ করার পরামর্শ দিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।


























