ঢাকা ১০:১৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মধ্যরাতের পাহাড়ধস: ভারী বর্ষণে নারী-শিশুসহ ৮ জনের প্রাণহানি

নিজস্ব সংবাদ :

কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে টানা ভারী বর্ষণের মধ্যে পৃথক তিনটি পাহাড়ধসের ঘটনায় নারী ও শিশুসহ অন্তত আটজনের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (৬ জুলাই) গভীর রাতে এসব দুর্ঘটনা ঘটে। উদ্ধার অভিযান শেষে হতাহতের তথ্য নিশ্চিত করেছে ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় প্রশাসন।

সবচেয়ে বড় দুর্ঘটনাটি ঘটে রাত প্রায় ১টা ১০ মিনিটে পালংখালী ইউনিয়নের ১৫ নম্বর জামতলী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডি/৬ ব্লকে। পাহাড়ের ঢাল ভেঙে একটি বসতঘরের ওপর মাটি চাপা পড়ে। এতে ঘরের বাসিন্দা মোহাম্মদ কামাল হোসাইন (৪৪), তার স্ত্রী হুমায়রা বেগম (৩৯) এবং চার বছর বয়সী ছেলে মোহাম্মদ আনাস ঘটনাস্থলেই মারা যান।

উখিয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের কর্মকর্তা ডলার ত্রিপুরা জানান, খবর পাওয়ার পর উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযান শুরু করেন। উদ্ধারকাজ চলাকালেই আরও কয়েকটি ক্যাম্পে পাহাড়ধসের খবর আসে। ১১ নম্বর ক্যাম্পে স্থানীয়রা দমকল বাহিনী পৌঁছানোর আগেই চারজনকে উদ্ধার করলেও তাদের সবাইকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়।

এদিকে রাত প্রায় ১টা ৪৫ মিনিটে রাজাপালং ইউনিয়নের কুতুপালং ৭ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডি/৭ ব্লকে পাহাড় থেকে নেমে আসা মাটির নিচে চাপা পড়ে সাত বছর বয়সী একরাম নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়। সে ওই ক্যাম্পের বাসিন্দা মোহাম্মদ রশিদের ছেলে। ক্যাম্পের মাঝি এনায়েত উল্লাহ জানান, স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকেরা শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করেন।

পরে রাত ৩টার দিকে বালুখালী ১১ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সি/১১ ব্লকেও আরেকটি পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে। এতে উম্মে হাবিবা (২৭), তানজিনা আক্তার (১৩), মোহাম্মদ রিহান (৫) ও হারুনুর রশিদ (৩) নিহত হন। এ ঘটনায় আরও একজন আহত হয়েছেন বলে ক্যাম্প প্রশাসন জানিয়েছে।

উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পান্না আক্তার বলেন, ভারী বর্ষণের কারণে পাহাড়ধসের ঝুঁকি বেড়ে গেছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত মাইকিং করে সতর্ক করা হচ্ছে।

এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় কক্সবাজারে ১০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। কক্সবাজারের সহকারী আবহাওয়াবিদ মো. আব্দুল হান্নান জানান, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হওয়া সুস্পষ্ট লঘুচাপ এবং সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে। আগামী আরও দুই দিন এ ধরনের বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মধ্যরাতের পাহাড়ধস: ভারী বর্ষণে নারী-শিশুসহ ৮ জনের প্রাণহানি

আপডেট সময় ০২:২৭:৩৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬

কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে টানা ভারী বর্ষণের মধ্যে পৃথক তিনটি পাহাড়ধসের ঘটনায় নারী ও শিশুসহ অন্তত আটজনের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (৬ জুলাই) গভীর রাতে এসব দুর্ঘটনা ঘটে। উদ্ধার অভিযান শেষে হতাহতের তথ্য নিশ্চিত করেছে ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় প্রশাসন।

সবচেয়ে বড় দুর্ঘটনাটি ঘটে রাত প্রায় ১টা ১০ মিনিটে পালংখালী ইউনিয়নের ১৫ নম্বর জামতলী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডি/৬ ব্লকে। পাহাড়ের ঢাল ভেঙে একটি বসতঘরের ওপর মাটি চাপা পড়ে। এতে ঘরের বাসিন্দা মোহাম্মদ কামাল হোসাইন (৪৪), তার স্ত্রী হুমায়রা বেগম (৩৯) এবং চার বছর বয়সী ছেলে মোহাম্মদ আনাস ঘটনাস্থলেই মারা যান।

উখিয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের কর্মকর্তা ডলার ত্রিপুরা জানান, খবর পাওয়ার পর উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযান শুরু করেন। উদ্ধারকাজ চলাকালেই আরও কয়েকটি ক্যাম্পে পাহাড়ধসের খবর আসে। ১১ নম্বর ক্যাম্পে স্থানীয়রা দমকল বাহিনী পৌঁছানোর আগেই চারজনকে উদ্ধার করলেও তাদের সবাইকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়।

এদিকে রাত প্রায় ১টা ৪৫ মিনিটে রাজাপালং ইউনিয়নের কুতুপালং ৭ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডি/৭ ব্লকে পাহাড় থেকে নেমে আসা মাটির নিচে চাপা পড়ে সাত বছর বয়সী একরাম নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়। সে ওই ক্যাম্পের বাসিন্দা মোহাম্মদ রশিদের ছেলে। ক্যাম্পের মাঝি এনায়েত উল্লাহ জানান, স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকেরা শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করেন।

পরে রাত ৩টার দিকে বালুখালী ১১ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সি/১১ ব্লকেও আরেকটি পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে। এতে উম্মে হাবিবা (২৭), তানজিনা আক্তার (১৩), মোহাম্মদ রিহান (৫) ও হারুনুর রশিদ (৩) নিহত হন। এ ঘটনায় আরও একজন আহত হয়েছেন বলে ক্যাম্প প্রশাসন জানিয়েছে।

উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পান্না আক্তার বলেন, ভারী বর্ষণের কারণে পাহাড়ধসের ঝুঁকি বেড়ে গেছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত মাইকিং করে সতর্ক করা হচ্ছে।

এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় কক্সবাজারে ১০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। কক্সবাজারের সহকারী আবহাওয়াবিদ মো. আব্দুল হান্নান জানান, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হওয়া সুস্পষ্ট লঘুচাপ এবং সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে। আগামী আরও দুই দিন এ ধরনের বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ।