শেরওয়ানির জন্য ট্যাক্সিওয়ে থেকে ফিরল বিমান! ক্ষমতার প্রভাবের অভিযোগে তোলপাড়, ভোগান্তিতে শতাধিক যাত্রী
একটি শেরওয়ানি আনতে গিয়ে উড্ডয়নের প্রস্তুতি নেওয়া একটি যাত্রীবাহী বিমান ট্যাক্সিওয়ে থেকে আবার টার্মিনালে ফিরিয়ে আনার ঘটনায় দেশের বিমান চলাচল খাতে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। ব্যক্তিগত প্রয়োজনকে কেন্দ্র করে এমন সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা নীতিমালা ও অপারেশনাল প্রটোকলের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
শুক্রবার সকালে রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে চট্টগ্রামগামী এয়ার অ্যাস্ট্রার একটি নির্ধারিত ফ্লাইট বোর্ডিং সম্পন্ন করে রানওয়ের উদ্দেশে ট্যাক্সি করছিল। ঠিক সেই সময় এক যাত্রী বিমান থেকে নামার অনুরোধ জানান। কেবিন ক্রু নিয়ম অনুযায়ী জানিয়ে দেন, জরুরি চিকিৎসা, নিরাপত্তা ঝুঁকি বা বিশেষ পরিস্থিতি ছাড়া ট্যাক্সিওয়ে থেকে বিমান ফিরিয়ে আনার সুযোগ নেই।
অভিযোগ রয়েছে, এরপর ওই যাত্রী নিজেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একজন ফার্স্ট অফিসার হিসেবে পরিচয় দিয়ে পরিচয়পত্র প্রদর্শন করেন এবং বিমান থামানোর জন্য চাপ সৃষ্টি করেন। পরে ফ্লাইটটি পুনরায় টার্মিনালে ফিরিয়ে আনা হয়।
জানা গেছে, পরিবারের সদস্যদের নিয়ে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে চট্টগ্রাম যাচ্ছিলেন ওই কর্মকর্তা। তাড়াহুড়োয় নিজের শেরওয়ানি বাসায় ফেলে আসার বিষয়টি বুঝতে পেরে তিনি বিমান থেকে নামার সিদ্ধান্ত নেন। পরে শেরওয়ানি এনে আবার বিমানবন্দরে ফিরে আসার পর প্রায় তিন ঘণ্টা বিলম্বে ফ্লাইটটি চট্টগ্রামের উদ্দেশে ছেড়ে যায়।
এ ঘটনায় বিমানে থাকা প্রায় শতাধিক যাত্রীকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। কয়েকজন যাত্রীর অভিযোগ, বিলম্বের পুরো সময় এয়ারলাইন্সের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় খাবার বা পানীয়ও সরবরাহ করা হয়নি। ফলে শিশু, বয়স্ক ও জরুরি কাজে যাওয়া যাত্রীরা চরম দুর্ভোগের মুখে পড়েন।
অ্যাভিয়েশন বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (ICAO) নির্দেশিকা অনুযায়ী গুরুতর নিরাপত্তা ঝুঁকি, চিকিৎসাজনিত জরুরি অবস্থা, যান্ত্রিক ত্রুটি অথবা এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের নির্দেশ ছাড়া ট্যাক্সিওয়ে থেকে একটি বাণিজ্যিক বিমান ফিরিয়ে আনা গ্রহণযোগ্য নয়। কোনো যাত্রী নেমে গেলে তার লাগেজও পুনরায় নামিয়ে নিরাপত্তা পরীক্ষা সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি ব্যক্তিগত প্রয়োজনে বিমান ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে এটি শুধু অপারেশনাল সিদ্ধান্ত নয়, বরং নিরাপত্তা নীতিমালা ও পেশাগত নৈতিকতা—উভয়ের ক্ষেত্রেই গুরুতর প্রশ্নের জন্ম দেয়। একই সঙ্গে এ ঘটনায় দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা ঘটনাটিকে অত্যন্ত গুরুতর উল্লেখ করে বলেছেন, অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করা হবে এবং প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তদন্তের আওতায় এয়ার অ্যাস্ট্রা এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত পাইলটের ভূমিকাও থাকবে বলে তিনি জানিয়েছেন।
এদিকে ভুক্তভোগী যাত্রীদের দাবি, ব্যক্তিগত কারণে একটি বাণিজ্যিক ফ্লাইট বিলম্বিত হওয়ায় তারা আর্থিক ও পেশাগতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। নিরপেক্ষ তদন্তের পাশাপাশি দায়ীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা এবং ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীদের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।


























