ঢাকা ১২:৫৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ডাক বিভাগে  স্পিড পোস্টে নতুন গতি: মাত্র ১০ টাকায় ১ কেজি পার্সেল, ঢাকায় ২৪ ঘণ্টা ও সারা দেশে ৪৮ ঘণ্টায় ডেলিভারি

নিজস্ব সংবাদ :

ডিজিটাল প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে সেবার পরিধি ও মান বাড়িয়েছে বাংলাদেশ ডাক বিভাগ। আধুনিক অবকাঠামো, অনলাইন সুবিধা এবং দ্রুত পার্সেল পরিবহনের মাধ্যমে সরকারি এই প্রতিষ্ঠান এখন দেশের সাধারণ মানুষ, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও ই-কমার্স ব্যবসায়ীদের জন্য আরও কার্যকর সেবা নিশ্চিত করছে। এরই অংশ হিসেবে স্পিড পোস্ট সেবাকে আরও আধুনিক ও গতিশীল করা হয়েছে।

‘আজ বুকিং, আগামীকাল ঢাকা, ৪৮ ঘণ্টায় সারা বাংলাদেশ’—এই প্রতিশ্রুতি নিয়ে পরিচালিত স্পিড পোস্টের মাধ্যমে এখন দ্রুত, নিরাপদ এবং কম খরচে দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে পার্সেল পাঠানো যাচ্ছে। ডাক বিভাগের দাবি, সরকারি এই কুরিয়ার সেবা বর্তমানে দেশের সবচেয়ে সাশ্রয়ী পার্সেল পরিবহন ব্যবস্থাগুলোর একটি।

সেবার সম্প্রসারণে দেশজুড়ে পরীক্ষামূলকভাবে ১১টি ফ্র্যাঞ্চাইজি মডেল পোস্ট অফিস চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ই-কমার্স খাতকে আরও শক্তিশালী করতে দেশের বিভিন্ন স্থানে ১৪টি আধুনিক ফুলফিলমেন্ট সেন্টার স্থাপনের কাজ চলছে। এতে অনলাইন ব্যবসায়ীদের পণ্য সংরক্ষণ ও সরবরাহ ব্যবস্থা আরও সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

স্পিড পোস্টের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এর স্বল্প খরচ। প্রথম এক কেজি পার্সেল পাঠাতে গুনতে হবে মাত্র ১০ টাকা, আর অতিরিক্ত প্রতি কেজির জন্য লাগবে মাত্র ৫ টাকা। ফলে বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও নারী উদ্যোক্তাদের জন্য পণ্য পরিবহন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।

গ্রাহকদের সুবিধার্থে ডাক বিভাগ চালু করেছে অনলাইন ডাক মাশুল ক্যালকুলেটর। এর মাধ্যমে পার্সেল পাঠানোর আগেই নির্ধারিত ওয়েবসাইটে গিয়ে সহজে খরচের হিসাব জানা যাবে।https://booking.bpodms.gov.bd/mashul

এ ছাড়া স্পিড পোস্টে যুক্ত হয়েছে ডিজিটাল ট্র্যাকিং সুবিধা। বুকিংয়ের সময় পাওয়া ট্র্যাকিং নম্বর ব্যবহার করে অনলাইনে যেকোনো সময় পার্সেলের বর্তমান অবস্থান জানা সম্ভব। দেশের ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত বিস্তৃত ডাকঘর নেটওয়ার্কের কারণে প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকেও সহজে পার্সেল পাঠানো ও গ্রহণ করা যাচ্ছে।https://report.dms.bdpost.gov.bd/

আন্তর্জাতিক পর্যায়েও রয়েছে ডাক বিভাগের ইএমএস (এক্সপ্রেস মেইল সার্ভিস), যার মাধ্যমে বিদেশে পার্সেল পাঠানো যায় এবং গ্লোবাল ট্র্যাকিং ব্যবস্থায় সেটির অবস্থানও অনুসরণ করা সম্ভব।https://globaltracktrace.ptc.post/gtt.web/

পার্সেল পাঠানোর প্রক্রিয়াও রাখা হয়েছে সহজ। নিকটস্থ নির্ধারিত ডাকঘরে পার্সেল জমা দিয়ে নির্ধারিত মাশুল পরিশোধ করলেই ট্র্যাকিং নম্বরসহ অফিসিয়াল রসিদ দেওয়া হয়। এরপর ঢাকার মধ্যে সাধারণত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এবং ঢাকার বাইরে সর্বোচ্চ ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পার্সেল পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে ডাক বিভাগ।

রাজধানী ঢাকায় দ্রুত সেবা নিশ্চিত করতে ঢাকা জিপিও, গুলশান, বনানী, মিরপুর, উত্তরা, খিলগাঁও, মতিঝিল, ধানমন্ডি, ওয়ারীসহ মোট ২১টি সাব-পোস্ট অফিস থেকে সরাসরি পার্সেল গ্রহণ ও বিতরণের সুবিধা রাখা হয়েছে।

স্পিড পোস্ট কিংবা ডাক বিভাগের অন্যান্য সেবা সম্পর্কে তথ্য, অভিযোগ বা সহায়তার জন্য সংশ্লিষ্ট সার্কেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে নির্ধারিত হটলাইন নম্বরে যোগাযোগ করা যাবে। পাশাপাশি সেবাসংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য ও নিকটস্থ ডাকঘরের অবস্থান জানতে ডাক বিভাগের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ডাক বিভাগে  স্পিড পোস্টে নতুন গতি: মাত্র ১০ টাকায় ১ কেজি পার্সেল, ঢাকায় ২৪ ঘণ্টা ও সারা দেশে ৪৮ ঘণ্টায় ডেলিভারি

আপডেট সময় ০৯:০৫:৪৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬

ডিজিটাল প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে সেবার পরিধি ও মান বাড়িয়েছে বাংলাদেশ ডাক বিভাগ। আধুনিক অবকাঠামো, অনলাইন সুবিধা এবং দ্রুত পার্সেল পরিবহনের মাধ্যমে সরকারি এই প্রতিষ্ঠান এখন দেশের সাধারণ মানুষ, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও ই-কমার্স ব্যবসায়ীদের জন্য আরও কার্যকর সেবা নিশ্চিত করছে। এরই অংশ হিসেবে স্পিড পোস্ট সেবাকে আরও আধুনিক ও গতিশীল করা হয়েছে।

‘আজ বুকিং, আগামীকাল ঢাকা, ৪৮ ঘণ্টায় সারা বাংলাদেশ’—এই প্রতিশ্রুতি নিয়ে পরিচালিত স্পিড পোস্টের মাধ্যমে এখন দ্রুত, নিরাপদ এবং কম খরচে দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে পার্সেল পাঠানো যাচ্ছে। ডাক বিভাগের দাবি, সরকারি এই কুরিয়ার সেবা বর্তমানে দেশের সবচেয়ে সাশ্রয়ী পার্সেল পরিবহন ব্যবস্থাগুলোর একটি।

সেবার সম্প্রসারণে দেশজুড়ে পরীক্ষামূলকভাবে ১১টি ফ্র্যাঞ্চাইজি মডেল পোস্ট অফিস চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ই-কমার্স খাতকে আরও শক্তিশালী করতে দেশের বিভিন্ন স্থানে ১৪টি আধুনিক ফুলফিলমেন্ট সেন্টার স্থাপনের কাজ চলছে। এতে অনলাইন ব্যবসায়ীদের পণ্য সংরক্ষণ ও সরবরাহ ব্যবস্থা আরও সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

স্পিড পোস্টের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এর স্বল্প খরচ। প্রথম এক কেজি পার্সেল পাঠাতে গুনতে হবে মাত্র ১০ টাকা, আর অতিরিক্ত প্রতি কেজির জন্য লাগবে মাত্র ৫ টাকা। ফলে বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও নারী উদ্যোক্তাদের জন্য পণ্য পরিবহন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।

গ্রাহকদের সুবিধার্থে ডাক বিভাগ চালু করেছে অনলাইন ডাক মাশুল ক্যালকুলেটর। এর মাধ্যমে পার্সেল পাঠানোর আগেই নির্ধারিত ওয়েবসাইটে গিয়ে সহজে খরচের হিসাব জানা যাবে।https://booking.bpodms.gov.bd/mashul

এ ছাড়া স্পিড পোস্টে যুক্ত হয়েছে ডিজিটাল ট্র্যাকিং সুবিধা। বুকিংয়ের সময় পাওয়া ট্র্যাকিং নম্বর ব্যবহার করে অনলাইনে যেকোনো সময় পার্সেলের বর্তমান অবস্থান জানা সম্ভব। দেশের ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত বিস্তৃত ডাকঘর নেটওয়ার্কের কারণে প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকেও সহজে পার্সেল পাঠানো ও গ্রহণ করা যাচ্ছে।https://report.dms.bdpost.gov.bd/

আন্তর্জাতিক পর্যায়েও রয়েছে ডাক বিভাগের ইএমএস (এক্সপ্রেস মেইল সার্ভিস), যার মাধ্যমে বিদেশে পার্সেল পাঠানো যায় এবং গ্লোবাল ট্র্যাকিং ব্যবস্থায় সেটির অবস্থানও অনুসরণ করা সম্ভব।https://globaltracktrace.ptc.post/gtt.web/

পার্সেল পাঠানোর প্রক্রিয়াও রাখা হয়েছে সহজ। নিকটস্থ নির্ধারিত ডাকঘরে পার্সেল জমা দিয়ে নির্ধারিত মাশুল পরিশোধ করলেই ট্র্যাকিং নম্বরসহ অফিসিয়াল রসিদ দেওয়া হয়। এরপর ঢাকার মধ্যে সাধারণত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এবং ঢাকার বাইরে সর্বোচ্চ ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পার্সেল পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে ডাক বিভাগ।

রাজধানী ঢাকায় দ্রুত সেবা নিশ্চিত করতে ঢাকা জিপিও, গুলশান, বনানী, মিরপুর, উত্তরা, খিলগাঁও, মতিঝিল, ধানমন্ডি, ওয়ারীসহ মোট ২১টি সাব-পোস্ট অফিস থেকে সরাসরি পার্সেল গ্রহণ ও বিতরণের সুবিধা রাখা হয়েছে।

স্পিড পোস্ট কিংবা ডাক বিভাগের অন্যান্য সেবা সম্পর্কে তথ্য, অভিযোগ বা সহায়তার জন্য সংশ্লিষ্ট সার্কেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে নির্ধারিত হটলাইন নম্বরে যোগাযোগ করা যাবে। পাশাপাশি সেবাসংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য ও নিকটস্থ ডাকঘরের অবস্থান জানতে ডাক বিভাগের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।