ঢাকা ১০:১০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নিউইয়র্কের স্কুলে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত জেনারেটিভ এআই নিষিদ্ধ

নিজস্ব সংবাদ :

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটির সরকারি স্কুলগুলোতে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের জেনারেটিভ এআই ব্যবহারে এক বছরের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে পরীক্ষামূলকভাবে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হবে। এর আওতায় পড়বে প্রায় ৬ লাখ শিক্ষার্থী।

গত ২ সেপ্টেম্বর ব্রুকলিন নেভি ইয়ার্ডের ব্রুকলিন স্টিম সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি ও স্কুল চ্যান্সেলর কামার স্যামুয়েলস নতুন এ নীতির ঘোষণা দেন।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ২-কে থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের জন্য তৈরি জেনারেটিভ এআইভিত্তিক বিভিন্ন সফটওয়্যার ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা থাকবে। পাশাপাশি কোনো শ্রেণির শিক্ষার্থীকেই এআই-চালিত ‘কম্প্যানিয়ন চ্যাটবট’ ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হবে না।

আগামী ১০ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হতে যাওয়া নতুন শিক্ষাবর্ষজুড়ে এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে। এ সময় এআই প্রযুক্তি শিক্ষার্থীদের শেখার ওপর কী ধরনের প্রভাব ফেলছে, তা পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন করা হবে। এক বছর পর সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে পরবর্তী শিক্ষাবর্ষের জন্য দীর্ঘমেয়াদি নীতি নির্ধারণ করা হবে।

তবে উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে পুরোপুরি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়নি। সেখানে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার শিক্ষার্থীকে নিয়ে পাঁচটি সীমিত পরিসরের এআই পাইলট প্রকল্প পরিচালনার সিদ্ধান্ত হয়েছে। প্রতিটি উচ্চমাধ্যমিক স্কুলে সর্বোচ্চ পাঁচটি শ্রেণিতে এসব কার্যক্রম চালানো যাবে।

এআই ব্যবহারের পুরো প্রক্রিয়ায় প্রশিক্ষিত শিক্ষকের সরাসরি নজরদারি থাকবে। অনুমোদিত টুলগুলোর মধ্যে রয়েছে কুইল, এডিয়া, ব্রিস্ক টিচিং, প্লেল্যাব এবং ইন্টেল ওল-রেডি স্কুলস।

তবে এসব প্রযুক্তি শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্তভাবে ব্যবহারের সুযোগ থাকবে না। নির্দিষ্ট বিষয়, নির্ধারিত সময় এবং শিক্ষকের তত্ত্বাবধানেই এগুলো ব্যবহার করতে হবে। যেমন ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য ক্লাসে কুইল সপ্তাহে সর্বোচ্চ ১৫ মিনিট এবং গণিত ক্লাসে এডিয়া সর্বোচ্চ ২০ মিনিট ব্যবহারের সুযোগ থাকবে।

এ ছাড়া উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য বছরে দুবার ৪৫ মিনিটের এআই-সাক্ষরতা ক্লাস চালুর পরিকল্পনা করা হয়েছে। এসব ক্লাসে এআইয়ের কার্যপদ্ধতি, এআই তৈরি তথ্যের সত্যতা যাচাই, অ্যালগরিদমিক পক্ষপাত, ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা, গোপনীয়তা, নৈতিক ব্যবহার এবং ভবিষ্যৎ চাকরির বাজারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাব সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের ধারণা দেওয়া হবে।

নতুন নীতিতে কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে এআই ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে। প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের শিক্ষা সহায়তা, বহুভাষী শিক্ষার্থীদের ভাষাগত সহযোগিতা এবং কম্পিউটার সায়েন্স বা ক্যারিয়ারভিত্তিক শিক্ষায় প্রয়োজন অনুযায়ী অনুমোদিত এআই টুল ব্যবহার করা যাবে।

শিক্ষক ও স্কুলের কর্মীরাও পাঠ প্রস্তুত, প্রশাসনিক কাজ এবং অন্যান্য পেশাগত প্রয়োজনে এআই ব্যবহার করতে পারবেন। তবে সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তিকে নিউইয়র্ক সিটি পাবলিক স্কুলসের নির্ধারিত তথ্যের গোপনীয়তা, নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিগত মানদণ্ড মেনে চলতে হবে।

এআই ব্যবহারের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের স্ক্রিন টাইম কমানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত শিক্ষামূলক ডিভাইস ব্যবহারের সময় দিনে সর্বোচ্চ ৩০ মিনিট এবং ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণির ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৪৫ মিনিট রাখার সুপারিশ করা হয়েছে।

তবে এই সীমা শিক্ষার্থীদের সার্বিক ডিভাইস ব্যবহারের সময় নয়। স্কুলের কাজে ব্যক্তিগতভাবে বরাদ্দ করা শিক্ষামূলক ডিভাইস বা ‘১:১ ডিভাইস’ ব্যবহারের সময়কে কেন্দ্র করেই এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

মেয়র জোহরান মামদানি বলেন, শিশুদের শেখা ও মানসিক বিকাশে শিক্ষক এবং মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সহপাঠীদের সঙ্গে কাজ করা, শিক্ষকদের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করা এবং জটিল সমস্যার সমাধান নিজেরা শেখার সুযোগ শিক্ষার্থীদের দিতে হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

মামদানি আরও বলেন, প্রযুক্তি খাতের একটি অংশ মনে করে প্রাথমিক শিক্ষায় এআইয়ের ব্যবহার অনিবার্য এবং প্রয়োজনীয়। তবে নিউইয়র্ক নগর কর্তৃপক্ষ বিষয়টিকে একইভাবে দেখছে না।

এ কারণে ২-কে থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের জেনারেটিভ এআই ব্যবহারে এক বছরের জন্য বিরতি দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

নতুন নীতির প্রভাব মূল্যায়নে আগামী এক বছর শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক, শিক্ষা বিশেষজ্ঞসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষকে নিয়ে কাজ করবে একটি বিশেষ জোট। তাদের মূল্যায়ন ও সুপারিশের ওপর ভিত্তি করেই ভবিষ্যতে নিউইয়র্কের সরকারি স্কুলগুলোতে এআই ব্যবহারের বিষয়ে স্থায়ী নীতি নির্ধারণ করা হবে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

নিউইয়র্কের স্কুলে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত জেনারেটিভ এআই নিষিদ্ধ

আপডেট সময় ০২:৪৮:৩৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটির সরকারি স্কুলগুলোতে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের জেনারেটিভ এআই ব্যবহারে এক বছরের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে পরীক্ষামূলকভাবে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হবে। এর আওতায় পড়বে প্রায় ৬ লাখ শিক্ষার্থী।

গত ২ সেপ্টেম্বর ব্রুকলিন নেভি ইয়ার্ডের ব্রুকলিন স্টিম সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি ও স্কুল চ্যান্সেলর কামার স্যামুয়েলস নতুন এ নীতির ঘোষণা দেন।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ২-কে থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের জন্য তৈরি জেনারেটিভ এআইভিত্তিক বিভিন্ন সফটওয়্যার ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা থাকবে। পাশাপাশি কোনো শ্রেণির শিক্ষার্থীকেই এআই-চালিত ‘কম্প্যানিয়ন চ্যাটবট’ ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হবে না।

আগামী ১০ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হতে যাওয়া নতুন শিক্ষাবর্ষজুড়ে এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে। এ সময় এআই প্রযুক্তি শিক্ষার্থীদের শেখার ওপর কী ধরনের প্রভাব ফেলছে, তা পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন করা হবে। এক বছর পর সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে পরবর্তী শিক্ষাবর্ষের জন্য দীর্ঘমেয়াদি নীতি নির্ধারণ করা হবে।

তবে উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে পুরোপুরি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়নি। সেখানে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার শিক্ষার্থীকে নিয়ে পাঁচটি সীমিত পরিসরের এআই পাইলট প্রকল্প পরিচালনার সিদ্ধান্ত হয়েছে। প্রতিটি উচ্চমাধ্যমিক স্কুলে সর্বোচ্চ পাঁচটি শ্রেণিতে এসব কার্যক্রম চালানো যাবে।

এআই ব্যবহারের পুরো প্রক্রিয়ায় প্রশিক্ষিত শিক্ষকের সরাসরি নজরদারি থাকবে। অনুমোদিত টুলগুলোর মধ্যে রয়েছে কুইল, এডিয়া, ব্রিস্ক টিচিং, প্লেল্যাব এবং ইন্টেল ওল-রেডি স্কুলস।

তবে এসব প্রযুক্তি শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্তভাবে ব্যবহারের সুযোগ থাকবে না। নির্দিষ্ট বিষয়, নির্ধারিত সময় এবং শিক্ষকের তত্ত্বাবধানেই এগুলো ব্যবহার করতে হবে। যেমন ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য ক্লাসে কুইল সপ্তাহে সর্বোচ্চ ১৫ মিনিট এবং গণিত ক্লাসে এডিয়া সর্বোচ্চ ২০ মিনিট ব্যবহারের সুযোগ থাকবে।

এ ছাড়া উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য বছরে দুবার ৪৫ মিনিটের এআই-সাক্ষরতা ক্লাস চালুর পরিকল্পনা করা হয়েছে। এসব ক্লাসে এআইয়ের কার্যপদ্ধতি, এআই তৈরি তথ্যের সত্যতা যাচাই, অ্যালগরিদমিক পক্ষপাত, ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা, গোপনীয়তা, নৈতিক ব্যবহার এবং ভবিষ্যৎ চাকরির বাজারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাব সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের ধারণা দেওয়া হবে।

নতুন নীতিতে কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে এআই ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে। প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের শিক্ষা সহায়তা, বহুভাষী শিক্ষার্থীদের ভাষাগত সহযোগিতা এবং কম্পিউটার সায়েন্স বা ক্যারিয়ারভিত্তিক শিক্ষায় প্রয়োজন অনুযায়ী অনুমোদিত এআই টুল ব্যবহার করা যাবে।

শিক্ষক ও স্কুলের কর্মীরাও পাঠ প্রস্তুত, প্রশাসনিক কাজ এবং অন্যান্য পেশাগত প্রয়োজনে এআই ব্যবহার করতে পারবেন। তবে সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তিকে নিউইয়র্ক সিটি পাবলিক স্কুলসের নির্ধারিত তথ্যের গোপনীয়তা, নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিগত মানদণ্ড মেনে চলতে হবে।

এআই ব্যবহারের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের স্ক্রিন টাইম কমানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত শিক্ষামূলক ডিভাইস ব্যবহারের সময় দিনে সর্বোচ্চ ৩০ মিনিট এবং ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণির ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৪৫ মিনিট রাখার সুপারিশ করা হয়েছে।

তবে এই সীমা শিক্ষার্থীদের সার্বিক ডিভাইস ব্যবহারের সময় নয়। স্কুলের কাজে ব্যক্তিগতভাবে বরাদ্দ করা শিক্ষামূলক ডিভাইস বা ‘১:১ ডিভাইস’ ব্যবহারের সময়কে কেন্দ্র করেই এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

মেয়র জোহরান মামদানি বলেন, শিশুদের শেখা ও মানসিক বিকাশে শিক্ষক এবং মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সহপাঠীদের সঙ্গে কাজ করা, শিক্ষকদের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করা এবং জটিল সমস্যার সমাধান নিজেরা শেখার সুযোগ শিক্ষার্থীদের দিতে হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

মামদানি আরও বলেন, প্রযুক্তি খাতের একটি অংশ মনে করে প্রাথমিক শিক্ষায় এআইয়ের ব্যবহার অনিবার্য এবং প্রয়োজনীয়। তবে নিউইয়র্ক নগর কর্তৃপক্ষ বিষয়টিকে একইভাবে দেখছে না।

এ কারণে ২-কে থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের জেনারেটিভ এআই ব্যবহারে এক বছরের জন্য বিরতি দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

নতুন নীতির প্রভাব মূল্যায়নে আগামী এক বছর শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক, শিক্ষা বিশেষজ্ঞসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষকে নিয়ে কাজ করবে একটি বিশেষ জোট। তাদের মূল্যায়ন ও সুপারিশের ওপর ভিত্তি করেই ভবিষ্যতে নিউইয়র্কের সরকারি স্কুলগুলোতে এআই ব্যবহারের বিষয়ে স্থায়ী নীতি নির্ধারণ করা হবে।