ঢাকা ০১:১৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সক্ষমতা ২৯ হাজার মেগাওয়াট, তবু অন্ধকারে দেশ গ্যাস-ডলার সংকটে বিপর্যস্ত বিদ্যুৎ খাত, গ্রামে বাড়ছে লোডশেডিং

নিজস্ব সংবাদ :

দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনের স্থাপিত সক্ষমতা প্রায় ২৯ হাজার মেগাওয়াট হলেও বাস্তবে চাহিদার অর্ধেকের কিছু বেশি বিদ্যুৎ সরবরাহ করতেই হিমশিম খাচ্ছে বিদ্যুৎ খাত। গ্যাস সংকট, কয়লাভিত্তিক কয়েকটি বড় কেন্দ্রের উৎপাদন হ্রাস এবং ব্যয়বহুল তেলচালিত কেন্দ্র চালানোর আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে সারাদেশে লোডশেডিং আবারও তীব্র আকার ধারণ করেছে। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছে গ্রামাঞ্চলের মানুষ।

বিদ্যুৎ খাত সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, বর্তমানে বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টির কারণে চাহিদা কিছুটা কম থাকলেও তাপমাত্রা বাড়লে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।


মধ্যরাতে সাড়ে ৩ হাজার মেগাওয়াটের বেশি ঘাটতি

পাওয়ার গ্রিড কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী, সোমবার দিবাগত রাত ১টায় দেশে সর্বোচ্চ ৩,৭৫৭ মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়। ওই সময় বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৬,২৬২ মেগাওয়াট, কিন্তু সরবরাহ করা যায় মাত্র ১২,৫০৫ মেগাওয়াট। অর্থাৎ চাহিদার প্রায় ২৩ শতাংশ বিদ্যুৎ ঘাটতি ছিল।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের হিসাব বলছে, একই দিনে ২৪ ঘণ্টার গড় চাহিদা ছিল ১৭,৪০৩ মেগাওয়াট এবং গড় লোডশেডিং ছিল ২,৭২২ মেগাওয়াট। পরিমাণের দিক থেকে ঢাকা অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি ৫৪৭ মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়েছে। তবে সময়ের হিসাবে সিলেট, ময়মনসিংহ ও খুলনা অঞ্চলে বিদ্যুৎ বিভ্রাট বেশি ছিল। চট্টগ্রাম অঞ্চল তুলনামূলকভাবে স্বস্তিতে ছিল।

আগস্টের শুরু থেকে পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ৩ আগস্ট সর্বোচ্চ লোডশেডিং ছিল ৩,৫১২ মেগাওয়াট, পরের দিন তা বেড়ে ৩,৬৭১ মেগাওয়াট হয়, আর সর্বশেষ তা ৩,৭৫৭ মেগাওয়াটে পৌঁছেছে। মঙ্গলবার দুপুরেও ৩ হাজার মেগাওয়াটের বেশি ঘাটতি দেখা গেছে।


তিন সপ্তাহে সাত গুণ বেড়েছে সংকট

মাত্র তিন সপ্তাহ আগেও পরিস্থিতি এতটা নাজুক ছিল না। ২১ জুলাই মহেশখালীর ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে দুর্ঘটনার দিন সর্বোচ্চ লোডশেডিং ছিল মাত্র ৪৮৮ মেগাওয়াট। সেই তুলনায় বর্তমান ঘাটতি সাত গুণেরও বেশি


গ্যাস সংকটেই সবচেয়ে বড় ধাক্কা

বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রধান জ্বালানি এখনো গ্যাস। গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্রগুলোর মোট সক্ষমতা ১২ হাজার মেগাওয়াটের বেশি। কিন্তু পর্যাপ্ত গ্যাস না থাকায় এর বড় অংশ অলস পড়ে আছে।

কিছুদিন আগেও গ্যাস থেকে প্রায় ৫,৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হচ্ছিল। বর্তমানে তা নেমে এসেছে ৩,৮০০ থেকে ৪,০০০ মেগাওয়াটে

মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনালে আগুন লাগার পর দৈনিক গ্যাস সরবরাহ প্রায় ২৬৫ কোটি ঘনফুট থেকে ২১৪ কোটি ঘনফুটে নেমে আসে। পরে আংশিকভাবে টার্মিনাল চালু হলেও সরবরাহ এখনো আগের অবস্থায় ফেরেনি। বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো আগে যেখানে দৈনিক প্রায় ১০০ কোটি ঘনফুট গ্যাস পেত, এখন তা ৭০ কোটি ঘনফুটের আশপাশে নেমে এসেছে।

এর মধ্যে বৈরী আবহাওয়ার কারণে আমদানি করা একটি এলএনজি কার্গো নির্ধারিত সময়ে অন্য ভাসমান টার্মিনালে যুক্ত হতে না পারায় জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ আরও কমে যায়।


কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রও পুরোপুরি ভরসা দিতে পারছে না

গ্যাসের ঘাটতি সামাল দিতে এখন প্রধান ভরসা কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। এ খাতে মোট সক্ষমতা প্রায় ৭,৯৪৫ মেগাওয়াট, কিন্তু উৎপাদন হচ্ছে প্রায় সাড়ে ৫ হাজার মেগাওয়াট

পটুয়াখালীর পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বন্ধ থাকায় উৎপাদন কমে গিয়েছিল। অন্য একটি কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রে সমুদ্রের বৈরী আবহাওয়ার কারণে কয়লা খালাসে বিলম্ব হচ্ছে। ফলে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।

এদিকে ভারতের ঝাড়খণ্ডে আদানি পাওয়ারের কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশে সরবরাহও কমেছে। সাধারণত ১,৪০০–১,৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া গেলেও সাম্প্রতিক সময়ে তা ৮০০–১,০০০ মেগাওয়াটে নেমে এসেছে।

রামপাল কেন্দ্রেও উৎপাদন কমেছে এবং বড়পুকুরিয়ার তিন ইউনিটের মধ্যে দুটি কারিগরি সমস্যায় বন্ধ রয়েছে। ফলে কয়লার ওপর নির্ভরতা বাড়ানোর সুযোগও সীমিত হয়ে পড়েছে।


তেলচালিত কেন্দ্র চালানো যাচ্ছে সীমিতভাবে

গ্যাস ও কয়লার ঘাটতি হলে দ্রুত বিদ্যুৎ উৎপাদনের উপায় হলো ফার্নেস অয়েল ও ডিজেলভিত্তিক কেন্দ্র চালানো। কিন্তু এসব কেন্দ্রের উৎপাদন ব্যয় অত্যন্ত বেশি। যেখানে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুতের উৎপাদন ব্যয় তুলনামূলক কম, সেখানে তেলভিত্তিক বিদ্যুতের ইউনিটপ্রতি ব্যয় প্রায় ২০ টাকার কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে।

এ কারণে সন্ধ্যার সর্বোচ্চ চাহিদার সময় কিছু তেলচালিত কেন্দ্র চালু রাখা হলেও গভীর রাতে অনেক কেন্দ্রের উৎপাদন কমিয়ে দেওয়া হচ্ছে। ফলে মধ্যরাতের পর লোডশেডিং অনেক সময় আরও বেড়ে যাচ্ছে।


বকেয়ার চাপে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোও বিপাকে

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের কাছে সরকারি ও বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর মোট পাওনা প্রায় ৪৮ থেকে ৫০ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে তেলভিত্তিক বেসরকারি কেন্দ্রগুলোর পাওনাই প্রায় ১৭ হাজার কোটি টাকা

দীর্ঘদিন বকেয়া না পাওয়ায় অনেক কেন্দ্র নতুন করে জ্বালানি কিনতে হিমশিম খাচ্ছে। সীমিত মজুত নিয়ে উৎপাদন চালিয়ে পরে তা কমিয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছে।

সরকার সম্প্রতি পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম গড়ে ১৯.৮৫ শতাংশ এবং গ্রাহক পর্যায়ে ১৬.৬৮ শতাংশ বাড়িয়েছে। তবে সেই অতিরিক্ত অর্থ দিয়েও বিপুল বকেয়া দ্রুত পরিশোধ করা সম্ভব হচ্ছে না।


মূল সংকট জ্বালানি, অর্থ ও ডলারের

বিদ্যুৎ খাতের বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতির মূল কারণ জ্বালানি সংকটের পাশাপাশি অর্থ ও ডলারের ঘাটতি। বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হলেও সেগুলো চালানোর মতো পর্যাপ্ত গ্যাস, কয়লা ও তেল নিশ্চিত করা যায়নি।

তারা মনে করছেন, এলএনজি টার্মিনাল পূর্ণ সক্ষমতায় চালু হওয়া, কয়লা সরবরাহ স্বাভাবিক করা এবং বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর বকেয়া দ্রুত পরিশোধ করা না গেলে আগামী দিনে লোডশেডিং আরও তীব্র হতে পারে। বিশেষ করে গরম বাড়লে বিদ্যুতের চাহিদা ১৮ হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়ে গেলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া বিদ্যুৎ খাতের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

সক্ষমতা ২৯ হাজার মেগাওয়াট, তবু অন্ধকারে দেশ গ্যাস-ডলার সংকটে বিপর্যস্ত বিদ্যুৎ খাত, গ্রামে বাড়ছে লোডশেডিং

আপডেট সময় ০২:৪২:২৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬

দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনের স্থাপিত সক্ষমতা প্রায় ২৯ হাজার মেগাওয়াট হলেও বাস্তবে চাহিদার অর্ধেকের কিছু বেশি বিদ্যুৎ সরবরাহ করতেই হিমশিম খাচ্ছে বিদ্যুৎ খাত। গ্যাস সংকট, কয়লাভিত্তিক কয়েকটি বড় কেন্দ্রের উৎপাদন হ্রাস এবং ব্যয়বহুল তেলচালিত কেন্দ্র চালানোর আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে সারাদেশে লোডশেডিং আবারও তীব্র আকার ধারণ করেছে। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছে গ্রামাঞ্চলের মানুষ।

বিদ্যুৎ খাত সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, বর্তমানে বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টির কারণে চাহিদা কিছুটা কম থাকলেও তাপমাত্রা বাড়লে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।


মধ্যরাতে সাড়ে ৩ হাজার মেগাওয়াটের বেশি ঘাটতি

পাওয়ার গ্রিড কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী, সোমবার দিবাগত রাত ১টায় দেশে সর্বোচ্চ ৩,৭৫৭ মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়। ওই সময় বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৬,২৬২ মেগাওয়াট, কিন্তু সরবরাহ করা যায় মাত্র ১২,৫০৫ মেগাওয়াট। অর্থাৎ চাহিদার প্রায় ২৩ শতাংশ বিদ্যুৎ ঘাটতি ছিল।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের হিসাব বলছে, একই দিনে ২৪ ঘণ্টার গড় চাহিদা ছিল ১৭,৪০৩ মেগাওয়াট এবং গড় লোডশেডিং ছিল ২,৭২২ মেগাওয়াট। পরিমাণের দিক থেকে ঢাকা অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি ৫৪৭ মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়েছে। তবে সময়ের হিসাবে সিলেট, ময়মনসিংহ ও খুলনা অঞ্চলে বিদ্যুৎ বিভ্রাট বেশি ছিল। চট্টগ্রাম অঞ্চল তুলনামূলকভাবে স্বস্তিতে ছিল।

আগস্টের শুরু থেকে পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ৩ আগস্ট সর্বোচ্চ লোডশেডিং ছিল ৩,৫১২ মেগাওয়াট, পরের দিন তা বেড়ে ৩,৬৭১ মেগাওয়াট হয়, আর সর্বশেষ তা ৩,৭৫৭ মেগাওয়াটে পৌঁছেছে। মঙ্গলবার দুপুরেও ৩ হাজার মেগাওয়াটের বেশি ঘাটতি দেখা গেছে।


তিন সপ্তাহে সাত গুণ বেড়েছে সংকট

মাত্র তিন সপ্তাহ আগেও পরিস্থিতি এতটা নাজুক ছিল না। ২১ জুলাই মহেশখালীর ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে দুর্ঘটনার দিন সর্বোচ্চ লোডশেডিং ছিল মাত্র ৪৮৮ মেগাওয়াট। সেই তুলনায় বর্তমান ঘাটতি সাত গুণেরও বেশি


গ্যাস সংকটেই সবচেয়ে বড় ধাক্কা

বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রধান জ্বালানি এখনো গ্যাস। গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্রগুলোর মোট সক্ষমতা ১২ হাজার মেগাওয়াটের বেশি। কিন্তু পর্যাপ্ত গ্যাস না থাকায় এর বড় অংশ অলস পড়ে আছে।

কিছুদিন আগেও গ্যাস থেকে প্রায় ৫,৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হচ্ছিল। বর্তমানে তা নেমে এসেছে ৩,৮০০ থেকে ৪,০০০ মেগাওয়াটে

মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনালে আগুন লাগার পর দৈনিক গ্যাস সরবরাহ প্রায় ২৬৫ কোটি ঘনফুট থেকে ২১৪ কোটি ঘনফুটে নেমে আসে। পরে আংশিকভাবে টার্মিনাল চালু হলেও সরবরাহ এখনো আগের অবস্থায় ফেরেনি। বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো আগে যেখানে দৈনিক প্রায় ১০০ কোটি ঘনফুট গ্যাস পেত, এখন তা ৭০ কোটি ঘনফুটের আশপাশে নেমে এসেছে।

এর মধ্যে বৈরী আবহাওয়ার কারণে আমদানি করা একটি এলএনজি কার্গো নির্ধারিত সময়ে অন্য ভাসমান টার্মিনালে যুক্ত হতে না পারায় জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ আরও কমে যায়।


কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রও পুরোপুরি ভরসা দিতে পারছে না

গ্যাসের ঘাটতি সামাল দিতে এখন প্রধান ভরসা কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। এ খাতে মোট সক্ষমতা প্রায় ৭,৯৪৫ মেগাওয়াট, কিন্তু উৎপাদন হচ্ছে প্রায় সাড়ে ৫ হাজার মেগাওয়াট

পটুয়াখালীর পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বন্ধ থাকায় উৎপাদন কমে গিয়েছিল। অন্য একটি কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রে সমুদ্রের বৈরী আবহাওয়ার কারণে কয়লা খালাসে বিলম্ব হচ্ছে। ফলে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।

এদিকে ভারতের ঝাড়খণ্ডে আদানি পাওয়ারের কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশে সরবরাহও কমেছে। সাধারণত ১,৪০০–১,৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া গেলেও সাম্প্রতিক সময়ে তা ৮০০–১,০০০ মেগাওয়াটে নেমে এসেছে।

রামপাল কেন্দ্রেও উৎপাদন কমেছে এবং বড়পুকুরিয়ার তিন ইউনিটের মধ্যে দুটি কারিগরি সমস্যায় বন্ধ রয়েছে। ফলে কয়লার ওপর নির্ভরতা বাড়ানোর সুযোগও সীমিত হয়ে পড়েছে।


তেলচালিত কেন্দ্র চালানো যাচ্ছে সীমিতভাবে

গ্যাস ও কয়লার ঘাটতি হলে দ্রুত বিদ্যুৎ উৎপাদনের উপায় হলো ফার্নেস অয়েল ও ডিজেলভিত্তিক কেন্দ্র চালানো। কিন্তু এসব কেন্দ্রের উৎপাদন ব্যয় অত্যন্ত বেশি। যেখানে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুতের উৎপাদন ব্যয় তুলনামূলক কম, সেখানে তেলভিত্তিক বিদ্যুতের ইউনিটপ্রতি ব্যয় প্রায় ২০ টাকার কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে।

এ কারণে সন্ধ্যার সর্বোচ্চ চাহিদার সময় কিছু তেলচালিত কেন্দ্র চালু রাখা হলেও গভীর রাতে অনেক কেন্দ্রের উৎপাদন কমিয়ে দেওয়া হচ্ছে। ফলে মধ্যরাতের পর লোডশেডিং অনেক সময় আরও বেড়ে যাচ্ছে।


বকেয়ার চাপে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোও বিপাকে

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের কাছে সরকারি ও বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর মোট পাওনা প্রায় ৪৮ থেকে ৫০ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে তেলভিত্তিক বেসরকারি কেন্দ্রগুলোর পাওনাই প্রায় ১৭ হাজার কোটি টাকা

দীর্ঘদিন বকেয়া না পাওয়ায় অনেক কেন্দ্র নতুন করে জ্বালানি কিনতে হিমশিম খাচ্ছে। সীমিত মজুত নিয়ে উৎপাদন চালিয়ে পরে তা কমিয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছে।

সরকার সম্প্রতি পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম গড়ে ১৯.৮৫ শতাংশ এবং গ্রাহক পর্যায়ে ১৬.৬৮ শতাংশ বাড়িয়েছে। তবে সেই অতিরিক্ত অর্থ দিয়েও বিপুল বকেয়া দ্রুত পরিশোধ করা সম্ভব হচ্ছে না।


মূল সংকট জ্বালানি, অর্থ ও ডলারের

বিদ্যুৎ খাতের বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতির মূল কারণ জ্বালানি সংকটের পাশাপাশি অর্থ ও ডলারের ঘাটতি। বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হলেও সেগুলো চালানোর মতো পর্যাপ্ত গ্যাস, কয়লা ও তেল নিশ্চিত করা যায়নি।

তারা মনে করছেন, এলএনজি টার্মিনাল পূর্ণ সক্ষমতায় চালু হওয়া, কয়লা সরবরাহ স্বাভাবিক করা এবং বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর বকেয়া দ্রুত পরিশোধ করা না গেলে আগামী দিনে লোডশেডিং আরও তীব্র হতে পারে। বিশেষ করে গরম বাড়লে বিদ্যুতের চাহিদা ১৮ হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়ে গেলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া বিদ্যুৎ খাতের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।