ঢাকা ০১:০১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সংসদে বক্তব্যের পর ৪৮ ঘণ্টায় ১০৯ ‘উদ্দেশ্যমূলক সংবাদ’, প্রতিকারের দাবি হাসনাতের

নিজস্ব সংবাদ :

সংসদে একটি গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান নিয়ে বক্তব্য দেওয়ার পর মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তাকে ঘিরে ১০৯টি ‘উদ্দেশ্যমূলক সংবাদ’ প্রকাশ করা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। অনলাইন মাধ্যমে প্রকাশিত এসব প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে প্রতিকার চাওয়ার সুযোগ প্রেস কাউন্সিল আইনে না থাকায় বিষয়টি নিয়ে আইন সংশোধনের প্রয়োজনীয়তার কথাও সংসদে তুলেছেন তিনি।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরীর কাছে সম্পূরক প্রশ্ন করার সময় এ অভিযোগ করেন হাসনাত আবদুল্লাহ।

তিনি বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল আইনের আওতায় মূলত সংবাদপত্রের ছাপা সংস্করণে প্রকাশিত ভুল, অপতথ্য বা বিভ্রান্তিকর সংবাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু একই সংবাদপত্রের অনলাইন সংস্করণে কোনো ব্যক্তি সম্পর্কে আক্রমণাত্মক কিংবা বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রকাশিত হলে সেটির বিরুদ্ধে প্রেস কাউন্সিলে যাওয়ার একই ধরনের সুযোগ নেই।

নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, সংসদে একটি গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে বক্তব্য দেওয়ার পর পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তাকে নিয়ে ১০৯টি ‘উদ্দেশ্যমূলক সংবাদ’ প্রকাশ করা হয়। তার দাবি, এসব প্রতিবেদন অনলাইনে প্রকাশিত হওয়ায় বিদ্যমান আইনের কারণে তিনি প্রেস কাউন্সিলে অভিযোগ জানাতে পারেননি।

অনলাইনে বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যদের বিরুদ্ধে অপতথ্য বা বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালানো হলে এর প্রতিকার কীভাবে পাওয়া যাবে—এমন প্রশ্নও রাখেন তিনি। পাশাপাশি অনলাইন সংবাদমাধ্যমকে প্রেস কাউন্সিলের কার্যক্রমের আওতায় আনতে বিদ্যমান আইন পরিবর্তনের কোনো পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে কি না, তা জানতে চান এনসিপির এই সংসদ সদস্য।

জবাবে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, অনলাইনে আক্রমণ বা অপতথ্যের শিকার হওয়ার বিষয়টি শুধু বিরোধীদলের সংসদ সদস্যদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। নারী, সরকারি দলের সদস্য, প্রধানমন্ত্রী এবং তার পরিবারের সদস্যদের নিয়েও অনলাইনে বিভিন্ন ধরনের আক্রমণ ও অপতথ্য ছড়ানো হচ্ছে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলকে আরও আধুনিক ও কার্যকর কাঠামোর মধ্যে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অনলাইন সংবাদমাধ্যমকে প্রেস কাউন্সিলের আওতায় আনার বিষয়টিও সরকারের বিবেচনায় রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, অপতথ্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্য মোকাবিলায় কার্যকর ব্যবস্থা কী হতে পারে, তা নিয়েও সরকার কাজ করছে। এ বিষয়ে বিভিন্ন দেশের প্রচলিত ব্যবস্থা পর্যালোচনা করা হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

সংসদে বক্তব্যের পর ৪৮ ঘণ্টায় ১০৯ ‘উদ্দেশ্যমূলক সংবাদ’, প্রতিকারের দাবি হাসনাতের

আপডেট সময় ০২:৩৬:০৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সংসদে একটি গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান নিয়ে বক্তব্য দেওয়ার পর মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তাকে ঘিরে ১০৯টি ‘উদ্দেশ্যমূলক সংবাদ’ প্রকাশ করা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। অনলাইন মাধ্যমে প্রকাশিত এসব প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে প্রতিকার চাওয়ার সুযোগ প্রেস কাউন্সিল আইনে না থাকায় বিষয়টি নিয়ে আইন সংশোধনের প্রয়োজনীয়তার কথাও সংসদে তুলেছেন তিনি।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরীর কাছে সম্পূরক প্রশ্ন করার সময় এ অভিযোগ করেন হাসনাত আবদুল্লাহ।

তিনি বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল আইনের আওতায় মূলত সংবাদপত্রের ছাপা সংস্করণে প্রকাশিত ভুল, অপতথ্য বা বিভ্রান্তিকর সংবাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু একই সংবাদপত্রের অনলাইন সংস্করণে কোনো ব্যক্তি সম্পর্কে আক্রমণাত্মক কিংবা বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রকাশিত হলে সেটির বিরুদ্ধে প্রেস কাউন্সিলে যাওয়ার একই ধরনের সুযোগ নেই।

নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, সংসদে একটি গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে বক্তব্য দেওয়ার পর পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তাকে নিয়ে ১০৯টি ‘উদ্দেশ্যমূলক সংবাদ’ প্রকাশ করা হয়। তার দাবি, এসব প্রতিবেদন অনলাইনে প্রকাশিত হওয়ায় বিদ্যমান আইনের কারণে তিনি প্রেস কাউন্সিলে অভিযোগ জানাতে পারেননি।

অনলাইনে বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যদের বিরুদ্ধে অপতথ্য বা বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালানো হলে এর প্রতিকার কীভাবে পাওয়া যাবে—এমন প্রশ্নও রাখেন তিনি। পাশাপাশি অনলাইন সংবাদমাধ্যমকে প্রেস কাউন্সিলের কার্যক্রমের আওতায় আনতে বিদ্যমান আইন পরিবর্তনের কোনো পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে কি না, তা জানতে চান এনসিপির এই সংসদ সদস্য।

জবাবে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, অনলাইনে আক্রমণ বা অপতথ্যের শিকার হওয়ার বিষয়টি শুধু বিরোধীদলের সংসদ সদস্যদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। নারী, সরকারি দলের সদস্য, প্রধানমন্ত্রী এবং তার পরিবারের সদস্যদের নিয়েও অনলাইনে বিভিন্ন ধরনের আক্রমণ ও অপতথ্য ছড়ানো হচ্ছে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলকে আরও আধুনিক ও কার্যকর কাঠামোর মধ্যে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অনলাইন সংবাদমাধ্যমকে প্রেস কাউন্সিলের আওতায় আনার বিষয়টিও সরকারের বিবেচনায় রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, অপতথ্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্য মোকাবিলায় কার্যকর ব্যবস্থা কী হতে পারে, তা নিয়েও সরকার কাজ করছে। এ বিষয়ে বিভিন্ন দেশের প্রচলিত ব্যবস্থা পর্যালোচনা করা হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে।