ঢাকা ০৪:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে নতুন আশার ইঙ্গিত, বাংলাদেশ থেকে ৩ লাখকে নিতে সম্মতির দাবি মিয়ানমারের

নিজস্ব সংবাদ :

দীর্ঘদিন ধরে অমীমাংসিত রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে নতুন আশার কথা শোনালেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। তার দাবি, বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া প্রায় তিন লাখ রোহিঙ্গাকে নিজ দেশে ফিরিয়ে নিতে নীতিগতভাবে সম্মতি দিয়েছে মিয়ানমার। একই সঙ্গে মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের মধ্য থেকে প্রাথমিকভাবে পাঁচ হাজার জনকে গ্রহণ করতেও রাজি হয়েছে দেশটি।

বুধবার এক অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর দাবি অনেকেই তুললেও এতদিন বড় সমস্যা ছিল—মিয়ানমার তাদের নাগরিক হিসেবে গ্রহণ করতে আগ্রহ দেখায়নি। তিনি উল্লেখ করেন, মিয়ানমারের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রাখার ফলেই এই ইতিবাচক অগ্রগতি সম্ভব হয়েছে।

তুর্কি বার্তা সংস্থা আনাদোলু ও মালয়েশিয়ার সংবাদমাধ্যম ফ্রি মালয়েশিয়া টুডের তথ্য অনুযায়ী, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী এই উদ্যোগকে রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় একটি প্রাথমিক অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন। তার মতে, এটি শুধু মানবিক দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ নয়, বরং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও মালয়েশিয়ার অভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্যও তাৎপর্যপূর্ণ হতে পারে।

তবে বাংলাদেশ থেকে তিন লাখ রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের বিষয়ে তিনি কোনো সময়সূচি বা বাস্তবায়ন পদ্ধতি উল্লেখ করেননি। ফলে ঘোষণাটি এখনো কূটনৈতিক পর্যায়ের অগ্রগতি হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।

সম্প্রতি মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত শতাধিক রোহিঙ্গা পেনাংয়ের একটি আবাসন ত্যাগ করে কুয়ালালামপুরে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআরের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন। পরে স্থানীয় প্রশাসন তাদের কুয়ালালামপুর, সেলানগোর ও পেনাংয়ের বিভিন্ন অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে স্থানান্তর করে। এই ঘটনার পরপরই প্রত্যাবাসন নিয়ে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর এমন বক্তব্য বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।

রোহিঙ্গারা বহু বছর ধরে মিয়ানমারে নাগরিকত্বহীনতা, বৈষম্য ও নিপীড়নের শিকার। বিশেষ করে ২০১৭ সালে রাখাইন রাজ্যে সামরিক অভিযান শুরুর পর প্রাণ বাঁচাতে লাখো রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। বর্তমানে কক্সবাজারসহ বিভিন্ন আশ্রয়শিবিরে ১৩ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বসবাস করছে।

নিজ দেশে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের সুস্পষ্ট নিশ্চয়তা না থাকায় হতাশায় থাকা অনেক রোহিঙ্গা এখনও সাগরপথে মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ায় পৌঁছানোর ঝুঁকিপূর্ণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে মিয়ানমারের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দিয়েছেন আনোয়ার ইব্রাহিম, যা রোহিঙ্গা সংকট সমাধানের প্রচেষ্টায় নতুন করে আন্তর্জাতিক মনোযোগ আকর্ষণ করতে পারে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে নতুন আশার ইঙ্গিত, বাংলাদেশ থেকে ৩ লাখকে নিতে সম্মতির দাবি মিয়ানমারের

আপডেট সময় ০২:০৭:১২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬

দীর্ঘদিন ধরে অমীমাংসিত রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে নতুন আশার কথা শোনালেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। তার দাবি, বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া প্রায় তিন লাখ রোহিঙ্গাকে নিজ দেশে ফিরিয়ে নিতে নীতিগতভাবে সম্মতি দিয়েছে মিয়ানমার। একই সঙ্গে মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের মধ্য থেকে প্রাথমিকভাবে পাঁচ হাজার জনকে গ্রহণ করতেও রাজি হয়েছে দেশটি।

বুধবার এক অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর দাবি অনেকেই তুললেও এতদিন বড় সমস্যা ছিল—মিয়ানমার তাদের নাগরিক হিসেবে গ্রহণ করতে আগ্রহ দেখায়নি। তিনি উল্লেখ করেন, মিয়ানমারের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রাখার ফলেই এই ইতিবাচক অগ্রগতি সম্ভব হয়েছে।

তুর্কি বার্তা সংস্থা আনাদোলু ও মালয়েশিয়ার সংবাদমাধ্যম ফ্রি মালয়েশিয়া টুডের তথ্য অনুযায়ী, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী এই উদ্যোগকে রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় একটি প্রাথমিক অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন। তার মতে, এটি শুধু মানবিক দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ নয়, বরং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও মালয়েশিয়ার অভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্যও তাৎপর্যপূর্ণ হতে পারে।

তবে বাংলাদেশ থেকে তিন লাখ রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের বিষয়ে তিনি কোনো সময়সূচি বা বাস্তবায়ন পদ্ধতি উল্লেখ করেননি। ফলে ঘোষণাটি এখনো কূটনৈতিক পর্যায়ের অগ্রগতি হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।

সম্প্রতি মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত শতাধিক রোহিঙ্গা পেনাংয়ের একটি আবাসন ত্যাগ করে কুয়ালালামপুরে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআরের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন। পরে স্থানীয় প্রশাসন তাদের কুয়ালালামপুর, সেলানগোর ও পেনাংয়ের বিভিন্ন অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে স্থানান্তর করে। এই ঘটনার পরপরই প্রত্যাবাসন নিয়ে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর এমন বক্তব্য বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।

রোহিঙ্গারা বহু বছর ধরে মিয়ানমারে নাগরিকত্বহীনতা, বৈষম্য ও নিপীড়নের শিকার। বিশেষ করে ২০১৭ সালে রাখাইন রাজ্যে সামরিক অভিযান শুরুর পর প্রাণ বাঁচাতে লাখো রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। বর্তমানে কক্সবাজারসহ বিভিন্ন আশ্রয়শিবিরে ১৩ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বসবাস করছে।

নিজ দেশে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের সুস্পষ্ট নিশ্চয়তা না থাকায় হতাশায় থাকা অনেক রোহিঙ্গা এখনও সাগরপথে মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ায় পৌঁছানোর ঝুঁকিপূর্ণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে মিয়ানমারের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দিয়েছেন আনোয়ার ইব্রাহিম, যা রোহিঙ্গা সংকট সমাধানের প্রচেষ্টায় নতুন করে আন্তর্জাতিক মনোযোগ আকর্ষণ করতে পারে।