রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় শেখ হাসিনাসহ ২৮৬ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন শুনানি ১৪ জুলাই
রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২৮৬ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন বিষয়ে পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ১৪ জুলাই তারিখ নির্ধারণ করেছেন আদালত।
বুধবার ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মঈন উদ্দিন চৌধুরীর আদালতে এ মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানি শেষে আদালত নতুন এই তারিখ ধার্য করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আসামিপক্ষের আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন রাখি।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২৭ মার্চ সিআইডির সহকারী বিশেষ পুলিশ সুপার মো. এনামুল হক বাদী হয়ে শেখ হাসিনাসহ ৭৩ জনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। মামলার অপর আসামিদের মধ্যে রয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ড. রাব্বী আলম।
অভিযোগে বলা হয়, ২০২৪ সালের ১৯ ডিসেম্বর ড. রাব্বী আলমের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত ‘জয় বাংলা ব্রিগেড’-এর একটি অনলাইন সভায় শেখ হাসিনাসহ কয়েক শত নেতা-কর্মী অংশ নেন। সেখানে অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে বক্তব্য দেওয়া এবং সরকারের প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে ক্ষমতা থেকে অপসারণের নির্দেশনা দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরবর্তীতে এসব বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।
সিআইডির এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ওই অনলাইন সভায় ‘জয় বাংলা ব্রিগেড’ গঠন করে অন্তর্বর্তী সরকারকে উৎখাতের মাধ্যমে শেখ হাসিনাকে পুনরায় প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে ফিরিয়ে আনার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়। সভাটিতে মোট ৫৭৭ জন অংশগ্রহণ করেছিলেন বলে তদন্তে উঠে আসে।
মামলার তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ৩০ জুলাই শেখ হাসিনাসহ ২৮৬ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। পরবর্তীতে ১৪ আগস্ট আদালত অভিযোগপত্র গ্রহণ করে আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ১১ সেপ্টেম্বর আসামিদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। এরপর ১৪ অক্টোবর শেখ হাসিনাসহ পলাতক ২৬১ আসামিকে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়ে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আদেশ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ১১ নভেম্বর মামলাটি বিচারের জন্য ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে মহানগর দায়রা জজ আদালতে স্থানান্তর করা হয়।
চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি মামলায় অভিযোগ গঠন বিষয়ে আংশিক শুনানি শুরু হয়। রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী অভিযোগ গঠনের পক্ষে শুনানি উপস্থাপন করেন। পরে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি দ্রুত বিচার ও নিষ্পত্তির স্বার্থে মামলাটি ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতে বদলি করা হয়।
সর্বশেষ শুনানিতে আসামি সাবিনা আক্তার তুহিনসহ কয়েকজনের পক্ষে আইনজীবীরা অব্যাহতির আবেদন করেন। অন্য কয়েকজন আসামির আইনজীবী অভিযোগ গঠনের শুনানি পেছানোর আবেদন জানালে আদালত তা মঞ্জুর করে আগামী ১৪ জুলাই পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেন।

























