ঢাকা ০৬:৩০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাজেট অধিবেশনে এমপিদের অনুপস্থিতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর অসন্তোষ, কারণ দর্শানোর নির্দেশ

নিজস্ব সংবাদ :

২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট পাসের দিন জাতীয় সংসদের সকালের অধিবেশনে ক্ষমতাসীন দলের বেশ কয়েকজন সংসদ সদস্যের অনুপস্থিতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট এমপিদের কাছ থেকে ব্যাখ্যা নেওয়ার জন্য হুইপদের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

সংসদ অধিবেশন শেষ হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী তাঁর সংসদ কার্যালয়ে হুইপ এবং যেসব সংসদ সদস্য নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত ছিলেন না, তাঁদের ডেকে পাঠান। সরকারদলীয় একাধিক হুইপ ও সংসদ সদস্য গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে এবার বাজেট-পরবর্তী ঐতিহ্যবাহী নৈশভোজ আয়োজন করা হয়নি। প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, এ সিদ্ধান্তের ফলে সরকারি ব্যয়ে প্রায় ৫০ লাখ টাকা সাশ্রয় হয়েছে।

মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট পাস হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্ধারিত সময়েরও আগে, সকাল পৌনে ১০টার দিকে সংসদ ভবনে উপস্থিত হন। যদিও অধিবেশন শুরুর অন্তত ১৫ মিনিট আগে সকল সংসদ সদস্যকে উপস্থিত থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল, তবুও সকালের অধিবেশনে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সরকারদলীয় এমপিকে অনুপস্থিত দেখা যায়। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে এলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে অসন্তোষ প্রকাশ করেন।

পরে সন্ধ্যায় সংসদ কার্যালয়ে হুইপদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি অনুপস্থিত সদস্যদের বিষয়ে জানতে চান এবং তাঁদের কাছ থেকে লিখিত বা মৌখিক ব্যাখ্যা নেওয়ার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট এমপিদের অধিবেশন শেষে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাতের জন্যও বলা হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ফরিদপুর অঞ্চলের এক সংসদ সদস্য বলেন, নির্ধারিত সময়ে সংসদে উপস্থিত না থাকায় প্রধানমন্ত্রীর তলব পেয়েছেন তিনি। অন্যদিকে আরেকজন সংসদ সদস্য রসিকতার ছলে বলেন, সাধারণত প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি দেখা করার সুযোগ খুব একটা হয় না, তাই এই উপলক্ষে অন্তত সাক্ষাতের সুযোগ মিলবে।

প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, প্রধানমন্ত্রী পুরো অধিবেশনজুড়েই সংসদ কক্ষে উপস্থিত ছিলেন। বাজেটের বিভিন্ন ধাপে ভোটগ্রহণ, আইন প্রণয়ন এবং অন্যান্য সংসদীয় কার্যক্রমে তিনি অংশ নেন। অধিবেশনের বিরতির সময়ও তিনি সরকারি গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্রে স্বাক্ষরসহ দাপ্তরিক কাজ সম্পন্ন করেন।

তিনি আরও বলেন, সরকারের ব্যয় কমানোর নীতির অংশ হিসেবে এবার বাজেট পাসের পর আয়োজিত নৈশভোজ বাতিল করা হয়েছে। প্রতি বছর অর্থ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত ওই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেতা, মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্য, ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা এবং গণমাধ্যমকর্মীরা অংশ নিতেন।

আতিকুর রহমান রুমনের ভাষ্য অনুযায়ী, আগের সরকারের সময় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আপ্যায়ন বাবদ বছরে গড়ে ৩০ থেকে ৫৫ কোটি টাকা ব্যয় হতো। এর বাইরে অতিরিক্ত ১০ থেকে ১২ কোটি টাকাও বিভিন্ন খাতে ব্যয় করা হয়েছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি জানান, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে শুধু এই খাতেই ব্যয় হয়েছিল ৩০ কোটি ২ লাখ ৯৭ হাজার ৩৩৫ টাকা।

তিনি বলেন, সে সময় বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে খাবার সরবরাহ করলেও বিপুল পরিমাণ অর্থ এখনো বকেয়া রয়েছে, যা বর্তমান সরকার ধাপে ধাপে পরিশোধ করছে।

অতিরিক্ত প্রেস সচিবের দাবি, দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আপ্যায়ন খাতে ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে এনেছেন। তাঁর তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আপ্যায়নে ব্যয় হয়েছে মাত্র ১১ লাখ ৬৯ হাজার টাকা। এছাড়া দুই ঈদ উপলক্ষে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে আপ্যায়ন বাবদ ব্যয় হয়েছে প্রায় ৯০ লাখ টাকা।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ১১ জুন জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। পরবর্তী আলোচনা শেষে মঙ্গলবার সংসদে বাজেটটি পাস হয়।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

বাজেট অধিবেশনে এমপিদের অনুপস্থিতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর অসন্তোষ, কারণ দর্শানোর নির্দেশ

আপডেট সময় ০২:২৯:২০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬

২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট পাসের দিন জাতীয় সংসদের সকালের অধিবেশনে ক্ষমতাসীন দলের বেশ কয়েকজন সংসদ সদস্যের অনুপস্থিতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট এমপিদের কাছ থেকে ব্যাখ্যা নেওয়ার জন্য হুইপদের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

সংসদ অধিবেশন শেষ হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী তাঁর সংসদ কার্যালয়ে হুইপ এবং যেসব সংসদ সদস্য নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত ছিলেন না, তাঁদের ডেকে পাঠান। সরকারদলীয় একাধিক হুইপ ও সংসদ সদস্য গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে এবার বাজেট-পরবর্তী ঐতিহ্যবাহী নৈশভোজ আয়োজন করা হয়নি। প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, এ সিদ্ধান্তের ফলে সরকারি ব্যয়ে প্রায় ৫০ লাখ টাকা সাশ্রয় হয়েছে।

মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট পাস হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্ধারিত সময়েরও আগে, সকাল পৌনে ১০টার দিকে সংসদ ভবনে উপস্থিত হন। যদিও অধিবেশন শুরুর অন্তত ১৫ মিনিট আগে সকল সংসদ সদস্যকে উপস্থিত থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল, তবুও সকালের অধিবেশনে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সরকারদলীয় এমপিকে অনুপস্থিত দেখা যায়। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে এলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে অসন্তোষ প্রকাশ করেন।

পরে সন্ধ্যায় সংসদ কার্যালয়ে হুইপদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি অনুপস্থিত সদস্যদের বিষয়ে জানতে চান এবং তাঁদের কাছ থেকে লিখিত বা মৌখিক ব্যাখ্যা নেওয়ার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট এমপিদের অধিবেশন শেষে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাতের জন্যও বলা হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ফরিদপুর অঞ্চলের এক সংসদ সদস্য বলেন, নির্ধারিত সময়ে সংসদে উপস্থিত না থাকায় প্রধানমন্ত্রীর তলব পেয়েছেন তিনি। অন্যদিকে আরেকজন সংসদ সদস্য রসিকতার ছলে বলেন, সাধারণত প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি দেখা করার সুযোগ খুব একটা হয় না, তাই এই উপলক্ষে অন্তত সাক্ষাতের সুযোগ মিলবে।

প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, প্রধানমন্ত্রী পুরো অধিবেশনজুড়েই সংসদ কক্ষে উপস্থিত ছিলেন। বাজেটের বিভিন্ন ধাপে ভোটগ্রহণ, আইন প্রণয়ন এবং অন্যান্য সংসদীয় কার্যক্রমে তিনি অংশ নেন। অধিবেশনের বিরতির সময়ও তিনি সরকারি গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্রে স্বাক্ষরসহ দাপ্তরিক কাজ সম্পন্ন করেন।

তিনি আরও বলেন, সরকারের ব্যয় কমানোর নীতির অংশ হিসেবে এবার বাজেট পাসের পর আয়োজিত নৈশভোজ বাতিল করা হয়েছে। প্রতি বছর অর্থ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত ওই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেতা, মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্য, ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা এবং গণমাধ্যমকর্মীরা অংশ নিতেন।

আতিকুর রহমান রুমনের ভাষ্য অনুযায়ী, আগের সরকারের সময় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আপ্যায়ন বাবদ বছরে গড়ে ৩০ থেকে ৫৫ কোটি টাকা ব্যয় হতো। এর বাইরে অতিরিক্ত ১০ থেকে ১২ কোটি টাকাও বিভিন্ন খাতে ব্যয় করা হয়েছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি জানান, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে শুধু এই খাতেই ব্যয় হয়েছিল ৩০ কোটি ২ লাখ ৯৭ হাজার ৩৩৫ টাকা।

তিনি বলেন, সে সময় বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে খাবার সরবরাহ করলেও বিপুল পরিমাণ অর্থ এখনো বকেয়া রয়েছে, যা বর্তমান সরকার ধাপে ধাপে পরিশোধ করছে।

অতিরিক্ত প্রেস সচিবের দাবি, দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আপ্যায়ন খাতে ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে এনেছেন। তাঁর তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আপ্যায়নে ব্যয় হয়েছে মাত্র ১১ লাখ ৬৯ হাজার টাকা। এছাড়া দুই ঈদ উপলক্ষে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে আপ্যায়ন বাবদ ব্যয় হয়েছে প্রায় ৯০ লাখ টাকা।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ১১ জুন জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। পরবর্তী আলোচনা শেষে মঙ্গলবার সংসদে বাজেটটি পাস হয়।