ঢাকা ০১:১৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নিউমার্কেটে ফুটপাতের দোকান ঘিরে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, ঢামেকে ১৪ জন

নিজস্ব সংবাদ :

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকায় ফুটপাতে দোকান বসানো ও সেখান থেকে চাঁদা আদায়কে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সন্ধ্যার পর বলাকা সিনেমা হল ও প্রিয়াঙ্গন মার্কেট সংলগ্ন এলাকায় দফায় দফায় সংঘর্ষে অন্তত ১৪ জন আহত হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।

স্থানীয় সূত্র ও আহতদের অভিযোগ অনুযায়ী, নিউমার্কেট থানা যুবদল ও ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের দুটি গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে ফুটপাতের দোকান নিয়ন্ত্রণ নিয়ে উত্তেজনা চলছিল। সন্ধ্যার দিকে সেই বিরোধ সংঘর্ষে রূপ নেয়।

আহতদের দাবি, বলাকা সিনেমা হলের সামনে ফুটপাতে বসানো দোকান থেকে চাঁদা আদায়কে কেন্দ্র করে এ কে এম চঞ্চল, ইফতেখার, শাহাদাত, সোহেল, সুমন ও আজিমসহ ৪০ থেকে ৫০ জনের একটি দল ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মীর ওপর হামলা চালায়। হামলায় লাঠি, ধারালো অস্ত্র ও ছুরি ব্যবহার করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

প্রথম দফার হামলার পর খবর পেয়ে ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী ও মিল্লাত হোসেন গ্রুপের নেতাকর্মীরা প্রিয়াঙ্গন মার্কেটের পাশের একটি গলিতে জড়ো হন। সেখানে আবারও দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেঁধে যায়। পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। দোকানপাট ভাঙচুর, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং হামলার ঘটনায় আশপাশের ব্যবসায়ী ও পথচারীরা নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছুটোছুটি করেন।

প্রাথমিকভাবে আহতদের কয়েকজনকে ধানমন্ডির একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে রাতে তাদের ঢামেকে স্থানান্তর করা হয়।

ঢামেকে চিকিৎসাধীনদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক প্রিন্স খন্দকার, সুমন সিকদার, আহ্বায়ক সদস্য সাগর খান, সায়মন ইসলাম, সদস্য মুসফিকুর রহিম, জিহাদুল ইসলাম, শাকিব হাসান ও ইমরান হোসেন। অপরদিকে নিউমার্কেট এলাকার চঞ্চল গ্রুপের আহতদের মধ্যে রয়েছেন জাকির, সুমন, শাহ আলম, ইদ্রিস ও রাকিবসহ কয়েকজন।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ ইন্সপেক্টর মো. ফারুক জানান, রাত ১১টা পর্যন্ত সংঘর্ষে আহত ১৪ জন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। আহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বর্তমানে তারা জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ঘটনার পর নিউমার্কেট এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সংঘর্ষের কারণ ও জড়িতদের শনাক্ত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তদন্ত শুরু করেছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

নিউমার্কেটে ফুটপাতের দোকান ঘিরে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, ঢামেকে ১৪ জন

আপডেট সময় ০৩:৪৩:৩৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকায় ফুটপাতে দোকান বসানো ও সেখান থেকে চাঁদা আদায়কে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সন্ধ্যার পর বলাকা সিনেমা হল ও প্রিয়াঙ্গন মার্কেট সংলগ্ন এলাকায় দফায় দফায় সংঘর্ষে অন্তত ১৪ জন আহত হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।

স্থানীয় সূত্র ও আহতদের অভিযোগ অনুযায়ী, নিউমার্কেট থানা যুবদল ও ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের দুটি গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে ফুটপাতের দোকান নিয়ন্ত্রণ নিয়ে উত্তেজনা চলছিল। সন্ধ্যার দিকে সেই বিরোধ সংঘর্ষে রূপ নেয়।

আহতদের দাবি, বলাকা সিনেমা হলের সামনে ফুটপাতে বসানো দোকান থেকে চাঁদা আদায়কে কেন্দ্র করে এ কে এম চঞ্চল, ইফতেখার, শাহাদাত, সোহেল, সুমন ও আজিমসহ ৪০ থেকে ৫০ জনের একটি দল ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মীর ওপর হামলা চালায়। হামলায় লাঠি, ধারালো অস্ত্র ও ছুরি ব্যবহার করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

প্রথম দফার হামলার পর খবর পেয়ে ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী ও মিল্লাত হোসেন গ্রুপের নেতাকর্মীরা প্রিয়াঙ্গন মার্কেটের পাশের একটি গলিতে জড়ো হন। সেখানে আবারও দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেঁধে যায়। পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। দোকানপাট ভাঙচুর, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং হামলার ঘটনায় আশপাশের ব্যবসায়ী ও পথচারীরা নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছুটোছুটি করেন।

প্রাথমিকভাবে আহতদের কয়েকজনকে ধানমন্ডির একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে রাতে তাদের ঢামেকে স্থানান্তর করা হয়।

ঢামেকে চিকিৎসাধীনদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক প্রিন্স খন্দকার, সুমন সিকদার, আহ্বায়ক সদস্য সাগর খান, সায়মন ইসলাম, সদস্য মুসফিকুর রহিম, জিহাদুল ইসলাম, শাকিব হাসান ও ইমরান হোসেন। অপরদিকে নিউমার্কেট এলাকার চঞ্চল গ্রুপের আহতদের মধ্যে রয়েছেন জাকির, সুমন, শাহ আলম, ইদ্রিস ও রাকিবসহ কয়েকজন।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ ইন্সপেক্টর মো. ফারুক জানান, রাত ১১টা পর্যন্ত সংঘর্ষে আহত ১৪ জন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। আহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বর্তমানে তারা জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ঘটনার পর নিউমার্কেট এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সংঘর্ষের কারণ ও জড়িতদের শনাক্ত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তদন্ত শুরু করেছে।