ঢাকা ০১:০০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এসএসসি ফলাফলে ‘প্রকৃত মেধার প্রতিফলন’, কৃত্রিম পাসের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসার দাবি শিক্ষা উপদেষ্টার

নিজস্ব সংবাদ :

চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল শিক্ষার্থীদের প্রকৃত যোগ্যতা ও অর্জনের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ড. মাহদী আমিন। তাঁর দাবি, এবার ফলাফল তৈরিতে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা হয়েছে।

সোমবার সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

ড. মাহদী আমিন বলেন, অতীতের মতো পাসের হার বা জিপিএ-৫ কৃত্রিমভাবে বাড়ানোর কোনো প্রবণতা বর্তমান সরকার অনুসরণ করছে না। শিক্ষার্থীরা যেমন প্রস্তুতি নিয়েছে, তাদের ফলাফলও সেই অনুযায়ী এসেছে। তিনি এটিকে শিক্ষার্থীদের বাস্তব মেধা ও দক্ষতার প্রতিফলন হিসেবে উল্লেখ করেন।

তিনি জানান, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র দুই মাসের মধ্যে গত ২১ এপ্রিল থেকে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু হয়। প্রথমবারের মতো সারাদেশে একক প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা আয়োজন করা হয়েছে। পরীক্ষাকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা ও বডি-ওন ক্যামেরা ব্যবহারের পাশাপাশি পরীক্ষক ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে উত্তরপত্র মূল্যায়নে নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা হয়েছে।

ফলাফল প্রত্যাশামতো না হওয়া শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, হতাশ হওয়ার কোনো কারণ নেই। সরকার প্রতিটি শিক্ষার্থীর পাশে রয়েছে এবং ভবিষ্যতে নিজেদের দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ তাদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিনের নানা অনিয়ম ও দুর্বলতায় দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেই পরিস্থিতি একদিনে বদলানো সম্ভব না হলেও একটি দক্ষ, আত্মনির্ভরশীল ও কর্মমুখী শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে।

শিক্ষা খাতে চলমান সংস্কার কার্যক্রমের বিষয়ে তিনি জানান, আগামী শিক্ষাবর্ষের জন্য পাঠ্যক্রমে পরিবর্তন আনা হচ্ছে। কিছু বিষয় সংযোজন ও বিয়োজনের পাশাপাশি নতুন চারটি বই অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া তৃণমূল থেকে রাজধানী পর্যন্ত বৈষম্যহীন শিক্ষা নিশ্চিত করতে প্রায় ২২ লাখ শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে ফুটবল টুর্নামেন্ট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্টার্টআপ প্রতিযোগিতা এবং বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

ড. মাহদী আমিন বলেন, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ ও সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো, ক্রীড়া ও সংস্কৃতির চর্চা সম্প্রসারণ এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় কাজ করছে।

পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সহযোগিতা করায় শিক্ষক, অভিভাবক, শিক্ষার্থী, শিক্ষা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি। একই সঙ্গে গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, যারা ভালো ফল করেছে তাদের সাফল্য তুলে ধরার পাশাপাশি যেখানে দুর্বলতা রয়েছে তা চিহ্নিত করে শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে গঠনমূলক ভূমিকা রাখতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আবদুল খালেক, আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি এবং ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর সৈয়দ আক্তারুজ্জামানসহ বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানরা উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

এসএসসি ফলাফলে ‘প্রকৃত মেধার প্রতিফলন’, কৃত্রিম পাসের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসার দাবি শিক্ষা উপদেষ্টার

আপডেট সময় ০১:০৩:২৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬

চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল শিক্ষার্থীদের প্রকৃত যোগ্যতা ও অর্জনের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ড. মাহদী আমিন। তাঁর দাবি, এবার ফলাফল তৈরিতে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা হয়েছে।

সোমবার সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

ড. মাহদী আমিন বলেন, অতীতের মতো পাসের হার বা জিপিএ-৫ কৃত্রিমভাবে বাড়ানোর কোনো প্রবণতা বর্তমান সরকার অনুসরণ করছে না। শিক্ষার্থীরা যেমন প্রস্তুতি নিয়েছে, তাদের ফলাফলও সেই অনুযায়ী এসেছে। তিনি এটিকে শিক্ষার্থীদের বাস্তব মেধা ও দক্ষতার প্রতিফলন হিসেবে উল্লেখ করেন।

তিনি জানান, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র দুই মাসের মধ্যে গত ২১ এপ্রিল থেকে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু হয়। প্রথমবারের মতো সারাদেশে একক প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা আয়োজন করা হয়েছে। পরীক্ষাকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা ও বডি-ওন ক্যামেরা ব্যবহারের পাশাপাশি পরীক্ষক ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে উত্তরপত্র মূল্যায়নে নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা হয়েছে।

ফলাফল প্রত্যাশামতো না হওয়া শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, হতাশ হওয়ার কোনো কারণ নেই। সরকার প্রতিটি শিক্ষার্থীর পাশে রয়েছে এবং ভবিষ্যতে নিজেদের দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ তাদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিনের নানা অনিয়ম ও দুর্বলতায় দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেই পরিস্থিতি একদিনে বদলানো সম্ভব না হলেও একটি দক্ষ, আত্মনির্ভরশীল ও কর্মমুখী শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে।

শিক্ষা খাতে চলমান সংস্কার কার্যক্রমের বিষয়ে তিনি জানান, আগামী শিক্ষাবর্ষের জন্য পাঠ্যক্রমে পরিবর্তন আনা হচ্ছে। কিছু বিষয় সংযোজন ও বিয়োজনের পাশাপাশি নতুন চারটি বই অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া তৃণমূল থেকে রাজধানী পর্যন্ত বৈষম্যহীন শিক্ষা নিশ্চিত করতে প্রায় ২২ লাখ শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে ফুটবল টুর্নামেন্ট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্টার্টআপ প্রতিযোগিতা এবং বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

ড. মাহদী আমিন বলেন, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ ও সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো, ক্রীড়া ও সংস্কৃতির চর্চা সম্প্রসারণ এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় কাজ করছে।

পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সহযোগিতা করায় শিক্ষক, অভিভাবক, শিক্ষার্থী, শিক্ষা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি। একই সঙ্গে গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, যারা ভালো ফল করেছে তাদের সাফল্য তুলে ধরার পাশাপাশি যেখানে দুর্বলতা রয়েছে তা চিহ্নিত করে শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে গঠনমূলক ভূমিকা রাখতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আবদুল খালেক, আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি এবং ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর সৈয়দ আক্তারুজ্জামানসহ বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানরা উপস্থিত ছিলেন।