ঢাকা ০৬:৩০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আগামীকাল শুরু হচ্ছে ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা, অংশ নিচ্ছেন ১২ লাখের বেশি পরীক্ষার্থী

নিজস্ব সংবাদ :

দেশজুড়ে আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) থেকে শুরু হচ্ছে ২০২৬ সালের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী লিখিত পরীক্ষা চলবে আগামী ৮ আগস্ট পর্যন্ত, আর ব্যবহারিক পরীক্ষা শেষ করতে হবে ১৫ আগস্টের মধ্যে।

শিক্ষা বোর্ডের প্রকাশিত রুটিন অনুযায়ী, প্রথম শিফটের পরীক্ষা সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত এবং দ্বিতীয় শিফটের পরীক্ষা দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। পরীক্ষার্থীদের অবশ্যই পরীক্ষা শুরুর অন্তত ৩০ মিনিট আগে কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে নিজ নিজ আসনে বসতে হবে।

এবার দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে নিয়মিত ও অনিয়মিত মিলিয়ে মোট ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছেন। তাদের জন্য সারা দেশে ২ হাজার ৬৯৭টি কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পূর্ণাঙ্গ সিলেবাসের ভিত্তিতে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে এবং নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়া হবে।

পরীক্ষার ধরন অনুযায়ী প্রথমে বহুনির্বাচনী (এমসিকিউ) এবং পরে সৃজনশীল বা তত্ত্বীয় অংশ অনুষ্ঠিত হবে। ৩০ নম্বরের এমসিকিউ পরীক্ষার জন্য সময় থাকবে ৩০ মিনিট এবং ৭০ নম্বরের সৃজনশীল অংশের জন্য ২ ঘণ্টা ৩০ মিনিট। ব্যবহারিক বিষয়ের ক্ষেত্রে ২৫ নম্বরের এমসিকিউ ২৫ মিনিট এবং ৫০ নম্বরের সৃজনশীল অংশের জন্য সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ২ ঘণ্টা ৩৫ মিনিট। দুটি অংশের মাঝে কোনো বিরতি থাকবে না।

পরীক্ষা সুষ্ঠু ও নকলমুক্ত রাখতে শিক্ষা বোর্ডগুলো কেন্দ্র পরিচালনা, প্রশ্নপত্র সংরক্ষণ, পরীক্ষার্থী প্রবেশ এবং কক্ষ তদারকিসহ বিভিন্ন বিষয়ে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছে। প্রতি ২০ জন পরীক্ষার্থীর জন্য একজন করে কক্ষপরিদর্শক নিয়োজিত থাকবেন এবং কোনো কক্ষে দুইজনের কম পরিদর্শক দায়িত্ব পালন করবেন না। একই সঙ্গে বেঞ্চে পরীক্ষার্থীদের বসার ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট নিয়ম অনুসরণ করা হবে।

প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বহুস্তরীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পরীক্ষা শুরুর কয়েক দিন আগে ট্রেজারি বা থানা লকারে সংরক্ষিত প্রশ্নপত্র যাচাই করা হবে। পরীক্ষার দিন পুলিশি নিরাপত্তায় প্রশ্নপত্র কেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়া হবে এবং নির্ধারিত সেট কোড পাওয়ার পরই খাম খোলা যাবে। নির্ধারিত সেটের বাইরে প্রশ্ন ব্যবহার করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে পরীক্ষা চলাকালে কেন্দ্রের নিরাপত্তা জোরদারে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কেন্দ্রের ২০০ গজের মধ্যে পরীক্ষার্থী ও পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ছাড়া অন্যদের প্রবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে।

পরীক্ষার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা

  • পরীক্ষা শুরুর অন্তত ৩০ মিনিট আগে কেন্দ্রে উপস্থিত থাকতে হবে।
  • প্রথমে এমসিকিউ এবং পরে সৃজনশীল অংশের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।
  • উত্তরপত্রে রোল নম্বর, রেজিস্ট্রেশন নম্বর ও বিষয় কোড নির্ভুলভাবে পূরণ করতে হবে এবং ওএমআর শিটে সঠিকভাবে বৃত্ত ভরাট করতে হবে।
  • উত্তরপত্র ভাঁজ করা বা মার্জিনে লেখা যাবে না।
  • নিবন্ধনপত্র ও প্রবেশপত্রে উল্লেখিত বিষয় ছাড়া অন্য কোনো বিষয়ে পরীক্ষা দেওয়া যাবে না।
  • তত্ত্বীয়, বহুনির্বাচনী ও ব্যবহারিক—প্রযোজ্য প্রতিটি অংশে পৃথকভাবে পাস করতে হবে।
  • শুধু সাধারণ নন-প্রোগ্রামেবল হাতঘড়ি ও শিক্ষা বোর্ড অনুমোদিত নন-প্রোগ্রামেবল সায়েন্টিফিক ক্যালকুলেটর ব্যবহার করা যাবে।
  • পরীক্ষার্থীদের কোনো অবস্থাতেই মোবাইল ফোন কেন্দ্রে আনা যাবে না। কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ছাড়া অন্য কারও মোবাইল ব্যবহারের অনুমতি থাকবে না।

শিক্ষা বোর্ড পরীক্ষার্থীদের সময়মতো কেন্দ্রে উপস্থিত থেকে সব নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ করার আহ্বান জানিয়েছে, যাতে সুষ্ঠু ও নির্বিঘ্ন পরিবেশে পরীক্ষা সম্পন্ন করা সম্ভব হয়।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

আগামীকাল শুরু হচ্ছে ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা, অংশ নিচ্ছেন ১২ লাখের বেশি পরীক্ষার্থী

আপডেট সময় ০২:২২:৫৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬

দেশজুড়ে আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) থেকে শুরু হচ্ছে ২০২৬ সালের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী লিখিত পরীক্ষা চলবে আগামী ৮ আগস্ট পর্যন্ত, আর ব্যবহারিক পরীক্ষা শেষ করতে হবে ১৫ আগস্টের মধ্যে।

শিক্ষা বোর্ডের প্রকাশিত রুটিন অনুযায়ী, প্রথম শিফটের পরীক্ষা সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত এবং দ্বিতীয় শিফটের পরীক্ষা দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। পরীক্ষার্থীদের অবশ্যই পরীক্ষা শুরুর অন্তত ৩০ মিনিট আগে কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে নিজ নিজ আসনে বসতে হবে।

এবার দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে নিয়মিত ও অনিয়মিত মিলিয়ে মোট ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছেন। তাদের জন্য সারা দেশে ২ হাজার ৬৯৭টি কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পূর্ণাঙ্গ সিলেবাসের ভিত্তিতে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে এবং নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়া হবে।

পরীক্ষার ধরন অনুযায়ী প্রথমে বহুনির্বাচনী (এমসিকিউ) এবং পরে সৃজনশীল বা তত্ত্বীয় অংশ অনুষ্ঠিত হবে। ৩০ নম্বরের এমসিকিউ পরীক্ষার জন্য সময় থাকবে ৩০ মিনিট এবং ৭০ নম্বরের সৃজনশীল অংশের জন্য ২ ঘণ্টা ৩০ মিনিট। ব্যবহারিক বিষয়ের ক্ষেত্রে ২৫ নম্বরের এমসিকিউ ২৫ মিনিট এবং ৫০ নম্বরের সৃজনশীল অংশের জন্য সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ২ ঘণ্টা ৩৫ মিনিট। দুটি অংশের মাঝে কোনো বিরতি থাকবে না।

পরীক্ষা সুষ্ঠু ও নকলমুক্ত রাখতে শিক্ষা বোর্ডগুলো কেন্দ্র পরিচালনা, প্রশ্নপত্র সংরক্ষণ, পরীক্ষার্থী প্রবেশ এবং কক্ষ তদারকিসহ বিভিন্ন বিষয়ে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছে। প্রতি ২০ জন পরীক্ষার্থীর জন্য একজন করে কক্ষপরিদর্শক নিয়োজিত থাকবেন এবং কোনো কক্ষে দুইজনের কম পরিদর্শক দায়িত্ব পালন করবেন না। একই সঙ্গে বেঞ্চে পরীক্ষার্থীদের বসার ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট নিয়ম অনুসরণ করা হবে।

প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বহুস্তরীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পরীক্ষা শুরুর কয়েক দিন আগে ট্রেজারি বা থানা লকারে সংরক্ষিত প্রশ্নপত্র যাচাই করা হবে। পরীক্ষার দিন পুলিশি নিরাপত্তায় প্রশ্নপত্র কেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়া হবে এবং নির্ধারিত সেট কোড পাওয়ার পরই খাম খোলা যাবে। নির্ধারিত সেটের বাইরে প্রশ্ন ব্যবহার করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে পরীক্ষা চলাকালে কেন্দ্রের নিরাপত্তা জোরদারে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কেন্দ্রের ২০০ গজের মধ্যে পরীক্ষার্থী ও পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ছাড়া অন্যদের প্রবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে।

পরীক্ষার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা

  • পরীক্ষা শুরুর অন্তত ৩০ মিনিট আগে কেন্দ্রে উপস্থিত থাকতে হবে।
  • প্রথমে এমসিকিউ এবং পরে সৃজনশীল অংশের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।
  • উত্তরপত্রে রোল নম্বর, রেজিস্ট্রেশন নম্বর ও বিষয় কোড নির্ভুলভাবে পূরণ করতে হবে এবং ওএমআর শিটে সঠিকভাবে বৃত্ত ভরাট করতে হবে।
  • উত্তরপত্র ভাঁজ করা বা মার্জিনে লেখা যাবে না।
  • নিবন্ধনপত্র ও প্রবেশপত্রে উল্লেখিত বিষয় ছাড়া অন্য কোনো বিষয়ে পরীক্ষা দেওয়া যাবে না।
  • তত্ত্বীয়, বহুনির্বাচনী ও ব্যবহারিক—প্রযোজ্য প্রতিটি অংশে পৃথকভাবে পাস করতে হবে।
  • শুধু সাধারণ নন-প্রোগ্রামেবল হাতঘড়ি ও শিক্ষা বোর্ড অনুমোদিত নন-প্রোগ্রামেবল সায়েন্টিফিক ক্যালকুলেটর ব্যবহার করা যাবে।
  • পরীক্ষার্থীদের কোনো অবস্থাতেই মোবাইল ফোন কেন্দ্রে আনা যাবে না। কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ছাড়া অন্য কারও মোবাইল ব্যবহারের অনুমতি থাকবে না।

শিক্ষা বোর্ড পরীক্ষার্থীদের সময়মতো কেন্দ্রে উপস্থিত থেকে সব নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ করার আহ্বান জানিয়েছে, যাতে সুষ্ঠু ও নির্বিঘ্ন পরিবেশে পরীক্ষা সম্পন্ন করা সম্ভব হয়।