ঢাকা ১০:৪০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আগস্টেই নতুন রাষ্ট্রপতি? আলোচনায় সবচেয়ে এগিয়ে মির্জা ফখরুল

নিজস্ব সংবাদ :

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর দেশের নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। সরকার-সংশ্লিষ্ট উচ্চপর্যায়ের সূত্রগুলো বলছে, জাতীয় সংসদের পরবর্তী অধিবেশনের জন্য অপেক্ষা না করে আগামী আগস্টের দ্বিতীয় বা তৃতীয় সপ্তাহেই নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে ভাবা হচ্ছে। যদিও এখনো এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা আসেনি।

বিএনপিতে জোর আলোচনা

বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি প্রার্থী নিয়ে আলোচনা চলছে। শুরুতে কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতার নাম শোনা গেলেও বর্তমানে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে ঘিরেই আলোচনা বেশি। দলীয় ও রাজনৈতিক মহলে তাঁর নাম সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে বলে জানা গেছে।

তবে বিএনপির স্থায়ী কমিটিতে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। মির্জা ফখরুল নিজেও বিষয়টি নিয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন। সম্প্রতি সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি পদে কাকে মনোনয়ন দেওয়া হবে, সে সিদ্ধান্ত সংবিধান ও আইন অনুযায়ী দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটিই নেবে।

সংসদ অধিবেশন ছাড়াও নির্বাচন সম্ভব

এর আগে ধারণা করা হয়েছিল, সেপ্টেম্বরে সংসদের পরবর্তী অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে। তবে আইন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে বিশেষ সংসদ অধিবেশন ডাকার বাধ্যবাধকতা নেই। সংসদ অধিবেশন না থাকলেও আইন অনুযায়ী পৃথক ব্যবস্থায় নির্বাচন আয়োজন করা সম্ভব।

সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। ২৪ জুলাই রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করার পর বর্তমানে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন।

কেন আলোচনায় মির্জা ফখরুল?

দলীয় সূত্রগুলো বলছে, কয়েকটি কারণে মির্জা ফখরুল সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় এগিয়ে আছেন—

  • দীর্ঘ সময় ধরে বিএনপির মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন
  • কঠিন রাজনৈতিক সময়ে দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখা
  • পরিচ্ছন্ন ও সংঘাতমুক্ত রাজনৈতিক ভাবমূর্তি
  • দলীয় গণ্ডির বাইরে তুলনামূলক গ্রহণযোগ্যতা

অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুলসহ কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তিও প্রকাশ্যে তাঁকে রাষ্ট্রপতি পদে উপযুক্ত ব্যক্তি হিসেবে মত দিয়েছেন বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে।

নির্বাচিত হলে বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা

মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে সরকার ও দলে একাধিক পরিবর্তন আসতে পারে। সে ক্ষেত্রে তাঁকে মন্ত্রিসভার দায়িত্ব ছাড়তে হবে এবং বিএনপির মহাসচিব পদেও নতুন নেতৃত্ব আসার প্রয়োজন হবে। পাশাপাশি সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিলে তাঁর ঠাকুরগাঁও-১ সংসদীয় আসন শূন্য হবে, ফলে সেখানে উপনির্বাচন আয়োজন করতে হবে।

প্রস্তুতি শুরু করেছে ইসি

নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আয়োজনের প্রাথমিক প্রস্তুতি শুরু করেছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দীন জানিয়েছেন, কমিশন নির্বাচন আয়োজনের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন অনুযায়ী স্পিকারের সঙ্গে পরামর্শ করেই তফসিল ঘোষণা করা হবে।

তিনি আরও জানান, সংসদ সচিবালয় থেকে সংসদ সদস্যদের হালনাগাদ ভোটার তালিকা পাওয়ার পর নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক তফসিল ঘোষণা করা হবে। একাধিক বৈধ প্রার্থী থাকলে জাতীয় সংসদ ভবনে প্রকাশ্য ব্যালটে ভোট গ্রহণ করা হবে। আর একজন বৈধ প্রার্থী থাকলে তাঁকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করা হবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সংসদে বিএনপির সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে দলটির মনোনীত প্রার্থীই শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। এখন নজর বিএনপির স্থায়ী কমিটির সিদ্ধান্ত এবং নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিলের দিকে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

আগস্টেই নতুন রাষ্ট্রপতি? আলোচনায় সবচেয়ে এগিয়ে মির্জা ফখরুল

আপডেট সময় ০৩:২৭:২০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর দেশের নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। সরকার-সংশ্লিষ্ট উচ্চপর্যায়ের সূত্রগুলো বলছে, জাতীয় সংসদের পরবর্তী অধিবেশনের জন্য অপেক্ষা না করে আগামী আগস্টের দ্বিতীয় বা তৃতীয় সপ্তাহেই নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে ভাবা হচ্ছে। যদিও এখনো এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা আসেনি।

বিএনপিতে জোর আলোচনা

বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি প্রার্থী নিয়ে আলোচনা চলছে। শুরুতে কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতার নাম শোনা গেলেও বর্তমানে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে ঘিরেই আলোচনা বেশি। দলীয় ও রাজনৈতিক মহলে তাঁর নাম সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে বলে জানা গেছে।

তবে বিএনপির স্থায়ী কমিটিতে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। মির্জা ফখরুল নিজেও বিষয়টি নিয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন। সম্প্রতি সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি পদে কাকে মনোনয়ন দেওয়া হবে, সে সিদ্ধান্ত সংবিধান ও আইন অনুযায়ী দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটিই নেবে।

সংসদ অধিবেশন ছাড়াও নির্বাচন সম্ভব

এর আগে ধারণা করা হয়েছিল, সেপ্টেম্বরে সংসদের পরবর্তী অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে। তবে আইন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে বিশেষ সংসদ অধিবেশন ডাকার বাধ্যবাধকতা নেই। সংসদ অধিবেশন না থাকলেও আইন অনুযায়ী পৃথক ব্যবস্থায় নির্বাচন আয়োজন করা সম্ভব।

সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। ২৪ জুলাই রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করার পর বর্তমানে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন।

কেন আলোচনায় মির্জা ফখরুল?

দলীয় সূত্রগুলো বলছে, কয়েকটি কারণে মির্জা ফখরুল সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় এগিয়ে আছেন—

  • দীর্ঘ সময় ধরে বিএনপির মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন
  • কঠিন রাজনৈতিক সময়ে দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখা
  • পরিচ্ছন্ন ও সংঘাতমুক্ত রাজনৈতিক ভাবমূর্তি
  • দলীয় গণ্ডির বাইরে তুলনামূলক গ্রহণযোগ্যতা

অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুলসহ কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তিও প্রকাশ্যে তাঁকে রাষ্ট্রপতি পদে উপযুক্ত ব্যক্তি হিসেবে মত দিয়েছেন বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে।

নির্বাচিত হলে বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা

মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে সরকার ও দলে একাধিক পরিবর্তন আসতে পারে। সে ক্ষেত্রে তাঁকে মন্ত্রিসভার দায়িত্ব ছাড়তে হবে এবং বিএনপির মহাসচিব পদেও নতুন নেতৃত্ব আসার প্রয়োজন হবে। পাশাপাশি সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিলে তাঁর ঠাকুরগাঁও-১ সংসদীয় আসন শূন্য হবে, ফলে সেখানে উপনির্বাচন আয়োজন করতে হবে।

প্রস্তুতি শুরু করেছে ইসি

নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আয়োজনের প্রাথমিক প্রস্তুতি শুরু করেছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দীন জানিয়েছেন, কমিশন নির্বাচন আয়োজনের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন অনুযায়ী স্পিকারের সঙ্গে পরামর্শ করেই তফসিল ঘোষণা করা হবে।

তিনি আরও জানান, সংসদ সচিবালয় থেকে সংসদ সদস্যদের হালনাগাদ ভোটার তালিকা পাওয়ার পর নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক তফসিল ঘোষণা করা হবে। একাধিক বৈধ প্রার্থী থাকলে জাতীয় সংসদ ভবনে প্রকাশ্য ব্যালটে ভোট গ্রহণ করা হবে। আর একজন বৈধ প্রার্থী থাকলে তাঁকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করা হবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সংসদে বিএনপির সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে দলটির মনোনীত প্রার্থীই শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। এখন নজর বিএনপির স্থায়ী কমিটির সিদ্ধান্ত এবং নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিলের দিকে।