ঢাকা ১০:৫৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এফএসআরইউতে ত্রুটি, জাতীয় গ্রিডে দৈনিক ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস কমে শিল্প ও বিদ্যুতে চাপ

নিজস্ব সংবাদ :

দেশের একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) কারিগরি সমস্যায় পড়ায় জাতীয় গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। টার্মিনালটি সাময়িকভাবে বন্ধ থাকায় জাতীয় গ্রিডে প্রতিদিন প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস কম সরবরাহ হচ্ছে, যার প্রভাব পড়েছে শিল্পকারখানা, বিদ্যুৎকেন্দ্র, সিএনজি স্টেশনসহ বিভিন্ন খাতে।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে তথ্য অধিদফতরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ত্রুটিপূর্ণ এফএসআরইউ থেকে গ্যাস সরবরাহ আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট কারিগরি বিশেষজ্ঞরা দ্রুত সমস্যা সমাধানে কাজ করছেন।

তিনি জানান, কয়েকটি এলাকায় গ্যাসের চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় সিএনজি স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ যানজট ও ভোগান্তির সৃষ্টি হয়েছে। শিল্প ও বিদ্যুৎ খাতেও সরবরাহ সংকটের প্রভাব দেখা দিতে শুরু করেছে।

ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, বর্তমান সংকটের তাৎক্ষণিক কারণ টার্মিনালের কারিগরি ত্রুটি হলেও দেশের জ্বালানি ব্যবস্থায় আমদানিকৃত এলএনজির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা পরিস্থিতিকে আরও স্পর্শকাতর করে তুলেছে। আমদানি অবকাঠামোর কোনো একটি অংশে সমস্যা দেখা দিলেই পুরো সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হয়।

দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বাড়াতে সরকার পর্যায়ক্রমে ১০০টি কূপ খননের পরিকল্পনা নিয়েছে বলেও তিনি জানান। ইতোমধ্যে একনেক বেগমগঞ্জ ও সুনামগঞ্জ এলাকায় প্রায় ৭২৯ কোটি টাকা ব্যয়ে তিনটি নতুন কূপ খননের প্রকল্প অনুমোদন করেছে।

এ ছাড়া স্থলভাগ ও সমুদ্রভিত্তিক অনশোর ও অফশোর মডেল পিএসসির আওতায় দরপত্র আহ্বান, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, পুরোনো কূপের ওয়ার্কওভার এবং নতুন কূপ খননের উদ্যোগ চলমান রয়েছে।

সরকার ভবিষ্যৎ জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারে চতুর্থ এফএসআরইউ স্থাপনের দরপত্র প্রক্রিয়া এগিয়ে নিচ্ছে। পাশাপাশি মালয়েশিয়া থেকে আইএসও ট্যাংকের মাধ্যমে এলএনজি আমদানির সম্ভাব্যতা যাচাই, ভোলার গ্যাস মূল ভূখণ্ডে আনার বিকল্প ব্যবস্থা এবং জ্বালানি আমদানির উৎস বহুমুখীকরণের বিষয়েও কাজ চলছে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি সামাল দিতে দ্রুত কারিগরি ত্রুটি মেরামতের পাশাপাশি দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন বাড়ানোই দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের অন্যতম প্রধান পথ হতে পারে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

এফএসআরইউতে ত্রুটি, জাতীয় গ্রিডে দৈনিক ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস কমে শিল্প ও বিদ্যুতে চাপ

আপডেট সময় ০২:৩০:৫৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

দেশের একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) কারিগরি সমস্যায় পড়ায় জাতীয় গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। টার্মিনালটি সাময়িকভাবে বন্ধ থাকায় জাতীয় গ্রিডে প্রতিদিন প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস কম সরবরাহ হচ্ছে, যার প্রভাব পড়েছে শিল্পকারখানা, বিদ্যুৎকেন্দ্র, সিএনজি স্টেশনসহ বিভিন্ন খাতে।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে তথ্য অধিদফতরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ত্রুটিপূর্ণ এফএসআরইউ থেকে গ্যাস সরবরাহ আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট কারিগরি বিশেষজ্ঞরা দ্রুত সমস্যা সমাধানে কাজ করছেন।

তিনি জানান, কয়েকটি এলাকায় গ্যাসের চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় সিএনজি স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ যানজট ও ভোগান্তির সৃষ্টি হয়েছে। শিল্প ও বিদ্যুৎ খাতেও সরবরাহ সংকটের প্রভাব দেখা দিতে শুরু করেছে।

ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, বর্তমান সংকটের তাৎক্ষণিক কারণ টার্মিনালের কারিগরি ত্রুটি হলেও দেশের জ্বালানি ব্যবস্থায় আমদানিকৃত এলএনজির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা পরিস্থিতিকে আরও স্পর্শকাতর করে তুলেছে। আমদানি অবকাঠামোর কোনো একটি অংশে সমস্যা দেখা দিলেই পুরো সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হয়।

দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বাড়াতে সরকার পর্যায়ক্রমে ১০০টি কূপ খননের পরিকল্পনা নিয়েছে বলেও তিনি জানান। ইতোমধ্যে একনেক বেগমগঞ্জ ও সুনামগঞ্জ এলাকায় প্রায় ৭২৯ কোটি টাকা ব্যয়ে তিনটি নতুন কূপ খননের প্রকল্প অনুমোদন করেছে।

এ ছাড়া স্থলভাগ ও সমুদ্রভিত্তিক অনশোর ও অফশোর মডেল পিএসসির আওতায় দরপত্র আহ্বান, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, পুরোনো কূপের ওয়ার্কওভার এবং নতুন কূপ খননের উদ্যোগ চলমান রয়েছে।

সরকার ভবিষ্যৎ জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারে চতুর্থ এফএসআরইউ স্থাপনের দরপত্র প্রক্রিয়া এগিয়ে নিচ্ছে। পাশাপাশি মালয়েশিয়া থেকে আইএসও ট্যাংকের মাধ্যমে এলএনজি আমদানির সম্ভাব্যতা যাচাই, ভোলার গ্যাস মূল ভূখণ্ডে আনার বিকল্প ব্যবস্থা এবং জ্বালানি আমদানির উৎস বহুমুখীকরণের বিষয়েও কাজ চলছে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি সামাল দিতে দ্রুত কারিগরি ত্রুটি মেরামতের পাশাপাশি দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন বাড়ানোই দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের অন্যতম প্রধান পথ হতে পারে।