ঢাকা ০৩:০৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য কঠোর ভিসানীতি, বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে বাড়ছে উদ্বেগ

নিজস্ব সংবাদ :

বিদেশে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন দেখা শিক্ষার্থীদের কাছে দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্র অন্যতম আকর্ষণীয় গন্তব্য। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন ভিসানীতির ঘোষণা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের, বিশেষ করে বাংলাদেশিদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হওয়ার কথা থাকা এই নীতিতে শিক্ষার্থী ভিসা, অবস্থানের মেয়াদ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিবর্তন এবং পড়াশোনা শেষে যুক্তরাষ্ট্রে থাকার সুযোগ—সব ক্ষেত্রেই আসছে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন।

নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষার্থী ভিসার মেয়াদ পাঁচ বছর থেকে কমিয়ে চার বছর করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ‘ডিউরেশন অব স্ট্যাটাস’ও চার বছরের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে। এর বেশি সময় যুক্তরাষ্ট্রে থাকতে হলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীকে সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন কর্তৃপক্ষের (USCIS) কাছে মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করতে হবে।

আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেজিগনেটেড স্কুল অফিসিয়াল (DSO) শিক্ষার্থীদের স্ট্যাটাস বাড়ানোর বিষয়টি দেখভাল করতেন। নতুন নিয়মে সেই ক্ষমতা সীমিত করে পুরো প্রক্রিয়া ফেডারেল সরকারের আওতায় আনা হচ্ছে। ফলে দীর্ঘমেয়াদি কোর্স, বিশেষ করে পিএইচডি বা গবেষণাভিত্তিক শিক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় পরিবর্তন, একাডেমিক প্রোগ্রাম বদল এবং স্টুডেন্ট স্ট্যাটাসে বিভিন্ন ধরনের পরিবর্তনের ক্ষেত্রেও নতুন বিধিনিষেধ আরোপ করা হচ্ছে। পড়াশোনা শেষ হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রে থাকার গ্রেস পিরিয়ডও ৬০ দিন থেকে কমিয়ে ৩০ দিন করা হয়েছে। অর্থাৎ, কোর্স শেষ হওয়ার এক মাসের মধ্যেই শিক্ষার্থীকে দেশে ফিরে যাওয়া, নতুন কোর্সে ভর্তি হওয়া অথবা অন্য ভিসার জন্য আবেদন—যেকোনো একটি সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

তবে যুক্তরাষ্ট্রে অধ্যয়নরত অনেক বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মতে, যারা নিয়ম মেনে পড়াশোনা করছেন তাদের জন্য আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। তাদের ধারণা, মূল লক্ষ্য হচ্ছে স্টুডেন্ট ভিসার অপব্যবহার রোধ করা। যারা পড়াশোনার পরিবর্তে অন্য কাজে যুক্ত থাকেন বা শুধু ভিসার স্ট্যাটাস ধরে রাখতে বারবার প্রতিষ্ঠান পরিবর্তন করেন, তাদের ওপরই নতুন নিয়মের প্রভাব বেশি পড়বে।

অভিবাসন আইন বিশেষজ্ঞদেরও মত একই রকম। তাদের মতে, প্রকৃত শিক্ষার্থীরা নির্ধারিত সময়ের আগে যথাযথ নথিপত্র দিয়ে আবেদন করলে স্ট্যাটাস বাড়ানোর অনুমোদন পাওয়ার সম্ভাবনা থাকবে। তবে আগের তুলনায় যাচাই-বাছাই আরও কঠোর হবে।

অন্যদিকে, পড়াশোনা শেষে ‘অপশনাল প্র্যাকটিক্যাল ট্রেনিং (OPT)’-এর আওতায় কাজের সুযোগের মূল কাঠামোতে বড় কোনো পরিবর্তনের ঘোষণা আসেনি। তবে নতুন গ্রেস পিরিয়ডের কারণে চাকরি বা পরবর্তী পরিকল্পনা দ্রুত চূড়ান্ত করতে হবে শিক্ষার্থীদের।

যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের দাবি, নতুন ভিসানীতির উদ্দেশ্য হলো শিক্ষার্থী ভিসার অপব্যবহার রোধ, অভিবাসন ব্যবস্থায় আরও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং জাতীয় নিরাপত্তা জোরদার করা।

বিশ্লেষকদের একাংশের ধারণা, আসন্ন মার্কিন নির্বাচনকে সামনে রেখে অভিবাসন ইস্যুতে কঠোর অবস্থান প্রদর্শনের অংশ হিসেবেই এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। যদিও অতীতে ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসনসংক্রান্ত বেশ কয়েকটি নীতিই আদালতের চ্যালেঞ্জের মুখে স্থগিত বা বাতিল হয়েছে। ফলে নতুন এই নীতিমালার সব অংশ শেষ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে কি না, সেটিও এখন দেখার বিষয়।

বিবিসি বাংলার সৌজন্যে

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য কঠোর ভিসানীতি, বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে বাড়ছে উদ্বেগ

আপডেট সময় ০৪:৩১:৫২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬

বিদেশে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন দেখা শিক্ষার্থীদের কাছে দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্র অন্যতম আকর্ষণীয় গন্তব্য। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন ভিসানীতির ঘোষণা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের, বিশেষ করে বাংলাদেশিদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হওয়ার কথা থাকা এই নীতিতে শিক্ষার্থী ভিসা, অবস্থানের মেয়াদ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিবর্তন এবং পড়াশোনা শেষে যুক্তরাষ্ট্রে থাকার সুযোগ—সব ক্ষেত্রেই আসছে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন।

নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষার্থী ভিসার মেয়াদ পাঁচ বছর থেকে কমিয়ে চার বছর করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ‘ডিউরেশন অব স্ট্যাটাস’ও চার বছরের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে। এর বেশি সময় যুক্তরাষ্ট্রে থাকতে হলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীকে সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন কর্তৃপক্ষের (USCIS) কাছে মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করতে হবে।

আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেজিগনেটেড স্কুল অফিসিয়াল (DSO) শিক্ষার্থীদের স্ট্যাটাস বাড়ানোর বিষয়টি দেখভাল করতেন। নতুন নিয়মে সেই ক্ষমতা সীমিত করে পুরো প্রক্রিয়া ফেডারেল সরকারের আওতায় আনা হচ্ছে। ফলে দীর্ঘমেয়াদি কোর্স, বিশেষ করে পিএইচডি বা গবেষণাভিত্তিক শিক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় পরিবর্তন, একাডেমিক প্রোগ্রাম বদল এবং স্টুডেন্ট স্ট্যাটাসে বিভিন্ন ধরনের পরিবর্তনের ক্ষেত্রেও নতুন বিধিনিষেধ আরোপ করা হচ্ছে। পড়াশোনা শেষ হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রে থাকার গ্রেস পিরিয়ডও ৬০ দিন থেকে কমিয়ে ৩০ দিন করা হয়েছে। অর্থাৎ, কোর্স শেষ হওয়ার এক মাসের মধ্যেই শিক্ষার্থীকে দেশে ফিরে যাওয়া, নতুন কোর্সে ভর্তি হওয়া অথবা অন্য ভিসার জন্য আবেদন—যেকোনো একটি সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

তবে যুক্তরাষ্ট্রে অধ্যয়নরত অনেক বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মতে, যারা নিয়ম মেনে পড়াশোনা করছেন তাদের জন্য আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। তাদের ধারণা, মূল লক্ষ্য হচ্ছে স্টুডেন্ট ভিসার অপব্যবহার রোধ করা। যারা পড়াশোনার পরিবর্তে অন্য কাজে যুক্ত থাকেন বা শুধু ভিসার স্ট্যাটাস ধরে রাখতে বারবার প্রতিষ্ঠান পরিবর্তন করেন, তাদের ওপরই নতুন নিয়মের প্রভাব বেশি পড়বে।

অভিবাসন আইন বিশেষজ্ঞদেরও মত একই রকম। তাদের মতে, প্রকৃত শিক্ষার্থীরা নির্ধারিত সময়ের আগে যথাযথ নথিপত্র দিয়ে আবেদন করলে স্ট্যাটাস বাড়ানোর অনুমোদন পাওয়ার সম্ভাবনা থাকবে। তবে আগের তুলনায় যাচাই-বাছাই আরও কঠোর হবে।

অন্যদিকে, পড়াশোনা শেষে ‘অপশনাল প্র্যাকটিক্যাল ট্রেনিং (OPT)’-এর আওতায় কাজের সুযোগের মূল কাঠামোতে বড় কোনো পরিবর্তনের ঘোষণা আসেনি। তবে নতুন গ্রেস পিরিয়ডের কারণে চাকরি বা পরবর্তী পরিকল্পনা দ্রুত চূড়ান্ত করতে হবে শিক্ষার্থীদের।

যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের দাবি, নতুন ভিসানীতির উদ্দেশ্য হলো শিক্ষার্থী ভিসার অপব্যবহার রোধ, অভিবাসন ব্যবস্থায় আরও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং জাতীয় নিরাপত্তা জোরদার করা।

বিশ্লেষকদের একাংশের ধারণা, আসন্ন মার্কিন নির্বাচনকে সামনে রেখে অভিবাসন ইস্যুতে কঠোর অবস্থান প্রদর্শনের অংশ হিসেবেই এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। যদিও অতীতে ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসনসংক্রান্ত বেশ কয়েকটি নীতিই আদালতের চ্যালেঞ্জের মুখে স্থগিত বা বাতিল হয়েছে। ফলে নতুন এই নীতিমালার সব অংশ শেষ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে কি না, সেটিও এখন দেখার বিষয়।

বিবিসি বাংলার সৌজন্যে