সঠিক পরিকল্পনা থাকলে উন্নয়ন প্রকল্পে সময় ও ব্যয় দুটোই কমবে: প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম
ঢাকা, ১১ জুলাই: উন্নয়ন প্রকল্পের শুরু থেকেই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, বাস্তবসম্মত সম্ভাব্যতা যাচাই (ফিজিবিলিটি স্টাডি) এবং দক্ষ প্রকল্প ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, এমপি। তিনি বলেছেন, পরিকল্পনার দুর্বলতা ও ব্যবস্থাপনায় ঘাটতির কারণেই অনেক প্রকল্প নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ হয় না এবং ব্যয়ও অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। সঠিক পরিকল্পনা ও কার্যকর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে সরকারি অর্থের অপচয় কমিয়ে টেকসই উন্নয়ন অর্জন সম্ভব।
শনিবার (১১ জুলাই ২০২৬) রাজধানীর রমনায় শহীদ প্রকৌশলী ভবনের কাউন্সিল হলে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশের (আইইবি) পুরকৌশল বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত “APMCE 2026”-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ও প্রকল্প ব্যবস্থাপনা বিষয়ক আন্তর্জাতিক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) নির্বাহী প্রকৌশলী প্রকৌশলী মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম (খোকা) রচিত প্রকল্প ব্যবস্থাপনা বিষয়ক একটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়। পরে মূল প্রবন্ধে বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়নে বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ, প্রকল্প বাস্তবায়নের সীমাবদ্ধতা এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর সম্ভাব্য সমাধান তুলে ধরা হয়।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের মেধাবী তরুণদের বড় একটি অংশ প্রকৌশল পেশায় যুক্ত হচ্ছে এবং জাতীয় উন্নয়নে তাদের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রকৌশলীদের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতাকে আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে পারলে উন্নয়ন কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।
তিনি আরও বলেন, বড় প্রকল্প হাতে নেওয়ার আগে উন্নতমানের ফিজিবিলিটি স্টাডি করা অপরিহার্য। প্রকল্পের নকশা, ব্যয়, পরিবেশগত ও সামাজিক প্রভাব এবং ভবিষ্যতের প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়ে পরিকল্পনা করা হলে সময় ও অর্থ—উভয়েরই সাশ্রয় সম্ভব।
মীর শাহে আলম জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল খাতকে অধিক গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, নিরাপদ পানি সরবরাহ, স্যানিটেশন ব্যবস্থা এবং জনস্বাস্থ্য অবকাঠামো উন্নয়ন টেকসই উন্নয়নের অন্যতম ভিত্তি। পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের মতো উদ্ভাবনী উদ্যোগে প্রকৌশলীদের আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে।
তিনি বলেন, উন্নয়ন প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের স্বার্থে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমাতে হবে। ডিপিপি প্রণয়ন থেকে প্রকল্প শেষ হওয়া পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে দক্ষতা, সমন্বয় এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রকৌশল-সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানে যোগ্য প্রকৌশলীদের দায়িত্ব প্রদান এবং অবকাঠামো উন্নয়নসংক্রান্ত সরকারি কমিটিতে আইইবির প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্তির বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা উচিত।
প্রতিমন্ত্রী জানান, সরকার অবকাঠামো উন্নয়ন, গবেষণা, উদ্ভাবন এবং প্রকৌশল খাতের বিকাশে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে। একই সঙ্গে তিনি প্রকৌশলীদের সরকারের সঙ্গে সমন্বয় বাড়িয়ে নিরাপদ, আধুনিক ও টেকসই বাংলাদেশ গড়ে তুলতে আন্তরিকভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আইইবির প্রেসিডেন্ট ও রাজউকের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মোহাম্মদ রিয়াজুল ইসলাম (রিজু), ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইকবাল এবং অ্যাসোসিয়েশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (অ্যাব)-এর আহ্বায়ক প্রকৌশলী শাহরিন ইসলাম তুহিন।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন আইইবির সম্মানী সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী মো. সাব্বির মোস্তফা খান। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী ও আইইবির পুরকৌশল বিভাগের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম (খোকা)। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আইইবির পুরকৌশল বিভাগের ভাইস-চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. আয়নুল কবির এবং সঞ্চালনা করেন বিভাগের সম্পাদক প্রকৌশলী নেসার উদ্দিন।






















