বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটিতে সম্প্রতি যুক্ত হওয়া চার নেতা দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বিকেল ৫টার দিকে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। প্রায় এক ঘণ্টা তারা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে ছিলেন। এ সময় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ উপস্থিত ছিলেন।
নতুন সদস্য হিসেবে সাক্ষাতে অংশ নেন বিএনপির রুহুল কবির রিজভী, আমান উল্লাহ আমান, ফরহাদ হালিম ডোনার ও ইসমাইল জবিউল্লাহ।
সাক্ষাৎ শেষে রুহুল কবির রিজভী সাংবাদিকদের বলেন, দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটিতে তাদের অন্তর্ভুক্ত করার জন্য তারা দলের চেয়ারম্যানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। দলের পক্ষ থেকে যে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তা যথাসম্ভব নিষ্ঠার সঙ্গে পালনের প্রত্যয়ও জানান তিনি।
এর আগে মঙ্গলবার সকালে নতুন চার সদস্য রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করেন। সেখানে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে তারা শ্রদ্ধা জানান।
গত ১৫ আগস্ট বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান রুহুল কবির রিজভী, আমান উল্লাহ আমান, ফরহাদ হালিম ডোনার ও ইসমাইল জবিউল্লাহকে জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে মনোনীত করেন। দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, সাংগঠনিক কার্যক্রমে আরও গতি আনা এবং নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার সমন্বয় ঘটাতেই চার নেতাকে কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
বিএনপির জাতীয় কাউন্সিল সর্বশেষ অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ। ওই কাউন্সিলের পর স্থায়ী কমিটি পুনর্গঠন করা হয়। পরবর্তী সময়ে সদস্যদের মৃত্যু, পদত্যাগ ও নিষ্ক্রিয়তার কারণে কয়েকটি পদ শূন্য হয়। এবার একসঙ্গে চারজনকে অন্তর্ভুক্ত করার মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিনের শূন্যতা অনেকটাই পূরণ হলো।
দলীয় কাঠামো অনুযায়ী বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটিতে মোট ১৯টি পদ রয়েছে। নতুন চারজন যুক্ত হওয়ার আগে কমিটিতে ১৩ জন সদস্য ছিলেন। তাদের মধ্যে ছিলেন তারেক রহমান, খন্দকার মোশাররফ হোসেন, রফিকুল ইসলাম মিয়া, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ও এ জেড এম জাহিদ হোসেন।
তবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি পদে দলের প্রার্থী করার পর তিনি মহাসচিবসহ দলীয় দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। ফলে তার পদটিও বর্তমানে শূন্য রয়েছে। অন্যদিকে রফিকুল ইসলাম মিয়া দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় রাজনীতির বাইরে রয়েছেন। ফলে নতুন চার সদস্য যুক্ত হলেও স্থায়ী কমিটির সব পদ এখনো পূর্ণ হয়নি।























