ঢাকা ০২:৫১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৩৫ বছর পর সংসদে ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, ফিরছে প্রতিদ্বন্দ্বিতার উত্তেজনা

নিজস্ব সংবাদ :

নিজস্ব প্রতিবেদক

দীর্ঘ সাড়ে তিন দশক পর বাংলাদেশে আবারও সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। একাধিক প্রার্থী মাঠে থাকায় দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে এবার জাতীয় সংসদে ব্যালটের মাধ্যমে ভোটাভুটি হওয়ার পথ তৈরি হয়েছে, যা দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

১৯৯১ সালের পর যতবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হয়েছে, প্রতিবারই একজন প্রার্থী থাকায় তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। ফলে গত ৩৫ বছরে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কখনও ভোটের পর্যায়ে যায়নি। এবার পরিস্থিতি ভিন্ন হওয়ায় সংসদ সদস্যদের ভোটেই নির্ধারিত হতে পারে দেশের নতুন রাষ্ট্রপতি।


সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর শুরু ইসির প্রস্তুতি

গত ২৪ জুলাই বিকেলে ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন মো. সাহাবুদ্দিন। তিনি ছিলেন বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি। পদত্যাগপত্র জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে জমা দেওয়ার পর রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হয় এবং নির্বাচন কমিশন নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করে।

সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করতে হয়। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, সেই সাংবিধানিক সময়সীমা মেনেই পুরো প্রক্রিয়া পরিচালিত হবে।

নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১ অনুসারে নির্বাচন পরিচালিত হবে এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার নিজেই রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করবেন। নতুন রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব নেওয়ার আগ পর্যন্ত স্পিকার সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।


ঘোষিত তফসিল

নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে। তফসিল অনুযায়ী—

  • ১৩ আগস্ট: মনোনয়নপত্র জমা (সকাল ১০টা–বিকাল ৪টা)
  • ১৬ আগস্ট: মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই
  • ১৮ আগস্ট: প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময়
  • ২০ আগস্ট: জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে ভোটগ্রহণ (দুপুর ২টা–বিকাল ৫টা)

ইসি জানিয়েছে, সংসদ সদস্যদের ভোটার তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে এবং নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে।


১৯৯১: সর্বশেষ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন

বাংলাদেশে সর্বশেষ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ১৯৯১ সালের ৮ অক্টোবর। ওই নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন আব্দুর রহমান বিশ্বাস এবং আওয়ামী লীগের প্রার্থী ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি বদরুল হায়দার চৌধুরী।

সংসদে অনুষ্ঠিত ভোটে আব্দুর রহমান বিশ্বাস ১৭২ ভোট পেয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। বদরুল হায়দার চৌধুরী পান ৯২ ভোট

এরপর থেকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে আর ভোটের প্রয়োজন হয়নি। ফলে ১৯৯১ সালের নির্বাচনই এখন পর্যন্ত দেশের শেষ সংসদীয় ভোটাভুটির রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হিসেবে ইতিহাসে রয়েছে।


এবার কারা মাঠে?

ক্ষমতাসীন বিএনপি নির্বাচন কমিশনের কার্যালয় থেকে দুটি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছে। তবে দলটি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেনি। দলীয় সূত্র বলছে, আরও কিছু সাংগঠনিক প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরই প্রার্থীর নাম প্রকাশ করা হবে।

অন্যদিকে, রাজধানীর মিন্টো রোডে জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ১১ দলীয় জোট লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রমকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী ঘোষণা করেছে।

ফলে নির্বাচনটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হওয়ার সম্ভাবনা আরও জোরালো হয়েছে।


রাষ্ট্রপতি হতে কী যোগ্যতা লাগে?

সংবিধানের ৪৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন জাতীয় সংসদের সদস্যদের ভোটে। রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হওয়ার জন্য—

  • বয়স কমপক্ষে ৩৫ বছর হতে হবে,
  • সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্যতা থাকতে হবে,
  • এবং সংবিধান অনুযায়ী অভিশংসনের মাধ্যমে পূর্বে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে অপসারিত হওয়া যাবে না।

নির্বাচন কমিশন বলছে, সংসদ সদস্য হওয়ার ক্ষেত্রে যে যোগ্যতা ও অযোগ্যতার বিধান রয়েছে, রাষ্ট্রপতি প্রার্থীর ক্ষেত্রেও তা প্রযোজ্য হবে।


যেভাবে হবে ভোট

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১ অনুযায়ী জাতীয় সংসদ কক্ষে সংসদ সদস্যদের বৈঠকের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। একজন প্রার্থীর মনোনয়নপত্রে একজন সংসদ সদস্যের প্রস্তাবক ও একজন সংসদ সদস্যের সমর্থকের স্বাক্ষর থাকতে হবে। প্রার্থীর লিখিত সম্মতিও বাধ্যতামূলক।

যাচাই-বাছাই শেষে একাধিক বৈধ প্রার্থী থাকলে সংসদ কক্ষে ব্যালট পেপারের মাধ্যমে গোপন ভোটে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ভোট গণনা প্রকাশ্যে করা হবে এবং সর্বোচ্চ ভোটপ্রাপ্ত প্রার্থী রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন। সমসংখ্যক ভোট হলে লটারির মাধ্যমে ফল নির্ধারণের বিধান রয়েছে।


ফল কি আগেই নির্ধারিত?

যদিও নির্বাচনটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হচ্ছে, রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে সংসদে বিএনপির বড় ধরনের সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে দলটির মনোনীত প্রার্থীর বিজয়ের সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি। সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের দলীয় অবস্থানের বাধ্যবাধকতাও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

তারপরও ১৯৯১ সালের পর প্রথমবারের মতো সংসদে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে ঘিরে ভোটাভুটির পরিবেশ তৈরি হওয়ায় রাজনৈতিক অঙ্গনে বিরল এক সাংবিধানিক মুহূর্তের অপেক্ষা শুরু হয়েছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

৩৫ বছর পর সংসদে ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, ফিরছে প্রতিদ্বন্দ্বিতার উত্তেজনা

আপডেট সময় ০২:৪০:০১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক

দীর্ঘ সাড়ে তিন দশক পর বাংলাদেশে আবারও সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। একাধিক প্রার্থী মাঠে থাকায় দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে এবার জাতীয় সংসদে ব্যালটের মাধ্যমে ভোটাভুটি হওয়ার পথ তৈরি হয়েছে, যা দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

১৯৯১ সালের পর যতবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হয়েছে, প্রতিবারই একজন প্রার্থী থাকায় তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। ফলে গত ৩৫ বছরে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কখনও ভোটের পর্যায়ে যায়নি। এবার পরিস্থিতি ভিন্ন হওয়ায় সংসদ সদস্যদের ভোটেই নির্ধারিত হতে পারে দেশের নতুন রাষ্ট্রপতি।


সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর শুরু ইসির প্রস্তুতি

গত ২৪ জুলাই বিকেলে ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন মো. সাহাবুদ্দিন। তিনি ছিলেন বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি। পদত্যাগপত্র জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে জমা দেওয়ার পর রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হয় এবং নির্বাচন কমিশন নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করে।

সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করতে হয়। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, সেই সাংবিধানিক সময়সীমা মেনেই পুরো প্রক্রিয়া পরিচালিত হবে।

নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১ অনুসারে নির্বাচন পরিচালিত হবে এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার নিজেই রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করবেন। নতুন রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব নেওয়ার আগ পর্যন্ত স্পিকার সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।


ঘোষিত তফসিল

নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে। তফসিল অনুযায়ী—

  • ১৩ আগস্ট: মনোনয়নপত্র জমা (সকাল ১০টা–বিকাল ৪টা)
  • ১৬ আগস্ট: মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই
  • ১৮ আগস্ট: প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময়
  • ২০ আগস্ট: জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে ভোটগ্রহণ (দুপুর ২টা–বিকাল ৫টা)

ইসি জানিয়েছে, সংসদ সদস্যদের ভোটার তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে এবং নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে।


১৯৯১: সর্বশেষ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন

বাংলাদেশে সর্বশেষ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ১৯৯১ সালের ৮ অক্টোবর। ওই নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন আব্দুর রহমান বিশ্বাস এবং আওয়ামী লীগের প্রার্থী ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি বদরুল হায়দার চৌধুরী।

সংসদে অনুষ্ঠিত ভোটে আব্দুর রহমান বিশ্বাস ১৭২ ভোট পেয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। বদরুল হায়দার চৌধুরী পান ৯২ ভোট

এরপর থেকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে আর ভোটের প্রয়োজন হয়নি। ফলে ১৯৯১ সালের নির্বাচনই এখন পর্যন্ত দেশের শেষ সংসদীয় ভোটাভুটির রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হিসেবে ইতিহাসে রয়েছে।


এবার কারা মাঠে?

ক্ষমতাসীন বিএনপি নির্বাচন কমিশনের কার্যালয় থেকে দুটি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছে। তবে দলটি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেনি। দলীয় সূত্র বলছে, আরও কিছু সাংগঠনিক প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরই প্রার্থীর নাম প্রকাশ করা হবে।

অন্যদিকে, রাজধানীর মিন্টো রোডে জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ১১ দলীয় জোট লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রমকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী ঘোষণা করেছে।

ফলে নির্বাচনটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হওয়ার সম্ভাবনা আরও জোরালো হয়েছে।


রাষ্ট্রপতি হতে কী যোগ্যতা লাগে?

সংবিধানের ৪৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন জাতীয় সংসদের সদস্যদের ভোটে। রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হওয়ার জন্য—

  • বয়স কমপক্ষে ৩৫ বছর হতে হবে,
  • সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্যতা থাকতে হবে,
  • এবং সংবিধান অনুযায়ী অভিশংসনের মাধ্যমে পূর্বে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে অপসারিত হওয়া যাবে না।

নির্বাচন কমিশন বলছে, সংসদ সদস্য হওয়ার ক্ষেত্রে যে যোগ্যতা ও অযোগ্যতার বিধান রয়েছে, রাষ্ট্রপতি প্রার্থীর ক্ষেত্রেও তা প্রযোজ্য হবে।


যেভাবে হবে ভোট

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১ অনুযায়ী জাতীয় সংসদ কক্ষে সংসদ সদস্যদের বৈঠকের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। একজন প্রার্থীর মনোনয়নপত্রে একজন সংসদ সদস্যের প্রস্তাবক ও একজন সংসদ সদস্যের সমর্থকের স্বাক্ষর থাকতে হবে। প্রার্থীর লিখিত সম্মতিও বাধ্যতামূলক।

যাচাই-বাছাই শেষে একাধিক বৈধ প্রার্থী থাকলে সংসদ কক্ষে ব্যালট পেপারের মাধ্যমে গোপন ভোটে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ভোট গণনা প্রকাশ্যে করা হবে এবং সর্বোচ্চ ভোটপ্রাপ্ত প্রার্থী রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন। সমসংখ্যক ভোট হলে লটারির মাধ্যমে ফল নির্ধারণের বিধান রয়েছে।


ফল কি আগেই নির্ধারিত?

যদিও নির্বাচনটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হচ্ছে, রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে সংসদে বিএনপির বড় ধরনের সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে দলটির মনোনীত প্রার্থীর বিজয়ের সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি। সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের দলীয় অবস্থানের বাধ্যবাধকতাও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

তারপরও ১৯৯১ সালের পর প্রথমবারের মতো সংসদে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে ঘিরে ভোটাভুটির পরিবেশ তৈরি হওয়ায় রাজনৈতিক অঙ্গনে বিরল এক সাংবিধানিক মুহূর্তের অপেক্ষা শুরু হয়েছে।