ঢাকা ১০:৫১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৩০ বিশ্ববিদ্যালয়ে চালু হচ্ছে তৃতীয় ভাষা শিক্ষা, অগ্রাধিকার ৫ ভাষায়

নিজস্ব সংবাদ :

দেশের ৩০টি সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে তৃতীয় ভাষা শেখানোর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে দক্ষ জনশক্তির চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে শিক্ষার্থীদের ভাষাগত দক্ষতা বাড়াতে ২০২৭ সালের জানুয়ারির মধ্যে এ কার্যক্রম চালুর পরিকল্পনা করা হয়েছে।

বুধবার (১৯ আগস্ট) ইউজিসি কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় এ পরিকল্পনার কথা জানান কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মামুন আহমেদ।

ইউজিসির পরিকল্পনা অনুযায়ী, বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের আরও একটি বিদেশি ভাষা শেখার সুযোগ তৈরি করা হবে। প্রস্তাবিত কর্মসূচিতে আরবি, চীনা, জাপানি, কোরীয়, ফরাসি, জার্মান, স্প্যানিশ ও ইতালীয়—মোট আটটি ভাষা রাখা হয়েছে। তবে শুরুতে আরবি, জাপানি, কোরীয়, চীনা ও ইতালীয় ভাষাকে তুলনামূলক বেশি গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে কোন ভাষার কোর্স চালু করা হবে, তা এককভাবে নির্ধারণ করা হবে না। সংশ্লিষ্ট এলাকার কর্মসংস্থানের চাহিদা, শিক্ষার্থীদের আগ্রহ, বিশ্ববিদ্যালয়ের সক্ষমতা, প্রশিক্ষক এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো বিবেচনায় নিয়ে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

ইউজিসি জানিয়েছে, দেশের আট বিভাগের সব অঞ্চলকে এই উদ্যোগের আওতায় আনার লক্ষ্য রয়েছে। এজন্য বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন, ভাষা নির্ধারণ এবং প্রয়োজনীয় জনবল ও অবকাঠামো যাচাইয়ের দায়িত্বে থাকা কমিটি পুনর্গঠন করা হয়েছে।

বর্তমানে দেশের ১০টি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাষা শিক্ষা কেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সবচেয়ে বেশি, ১৩টি ভাষা শেখার সুযোগ রয়েছে।

নতুন কর্মসূচির আওতায় কোথাও নতুন ভাষা শিক্ষা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা হবে, আবার যেসব বিশ্ববিদ্যালয়ে আগে থেকেই এ ধরনের কেন্দ্র রয়েছে, সেগুলোর সক্ষমতা ও অবকাঠামো আধুনিকায়ন করা হবে। পাশাপাশি বিদ্যমান কেন্দ্রগুলোর কোর্স, প্রশিক্ষক, জনবল ও সুযোগ-সুবিধা পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

সভায় দক্ষ প্রশিক্ষক তৈরির বিষয়টিকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রশিক্ষক দল গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর অভিজ্ঞ ভাষাবিশেষজ্ঞ ও প্রতিষ্ঠানগুলোর সহযোগিতাও নেওয়া হবে।

অধ্যাপক মামুন আহমেদ বলেন, ভবিষ্যৎ কর্মবাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শিক্ষার্থীদের বহুভাষিক দক্ষতা গড়ে তোলাই এ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। এতে শিক্ষার্থীদের পেশাগত সক্ষমতা বাড়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক যোগাযোগের ক্ষেত্রও বিস্তৃত হবে। দেশের পাশাপাশি বিদেশে কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরিতেও তৃতীয় ভাষা শিক্ষা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

প্রাথমিক ধাপে ৩০টি সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়কে এই কার্যক্রমের আওতায় এনে নতুন কেন্দ্র স্থাপন কিংবা বিদ্যমান কেন্দ্রগুলোর উন্নয়ন করার পরিকল্পনা রয়েছে ইউজিসির।

সভায় ইউজিসি চেয়ারম্যানের সভাপতিত্বে কমিশনের সদস্য অধ্যাপক মাছুমা হাবিব, অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল-মামুন, অধ্যাপক মো. মেহেদী হাসান খান, অধ্যাপক মো. আসলাম হোসেন, অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদ এবং ইউজিসি সচিবালয়ের সচিব মো. ফখরুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

৩০ বিশ্ববিদ্যালয়ে চালু হচ্ছে তৃতীয় ভাষা শিক্ষা, অগ্রাধিকার ৫ ভাষায়

আপডেট সময় ০৪:২১:৫৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬

দেশের ৩০টি সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে তৃতীয় ভাষা শেখানোর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে দক্ষ জনশক্তির চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে শিক্ষার্থীদের ভাষাগত দক্ষতা বাড়াতে ২০২৭ সালের জানুয়ারির মধ্যে এ কার্যক্রম চালুর পরিকল্পনা করা হয়েছে।

বুধবার (১৯ আগস্ট) ইউজিসি কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় এ পরিকল্পনার কথা জানান কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মামুন আহমেদ।

ইউজিসির পরিকল্পনা অনুযায়ী, বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের আরও একটি বিদেশি ভাষা শেখার সুযোগ তৈরি করা হবে। প্রস্তাবিত কর্মসূচিতে আরবি, চীনা, জাপানি, কোরীয়, ফরাসি, জার্মান, স্প্যানিশ ও ইতালীয়—মোট আটটি ভাষা রাখা হয়েছে। তবে শুরুতে আরবি, জাপানি, কোরীয়, চীনা ও ইতালীয় ভাষাকে তুলনামূলক বেশি গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে কোন ভাষার কোর্স চালু করা হবে, তা এককভাবে নির্ধারণ করা হবে না। সংশ্লিষ্ট এলাকার কর্মসংস্থানের চাহিদা, শিক্ষার্থীদের আগ্রহ, বিশ্ববিদ্যালয়ের সক্ষমতা, প্রশিক্ষক এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো বিবেচনায় নিয়ে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

ইউজিসি জানিয়েছে, দেশের আট বিভাগের সব অঞ্চলকে এই উদ্যোগের আওতায় আনার লক্ষ্য রয়েছে। এজন্য বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন, ভাষা নির্ধারণ এবং প্রয়োজনীয় জনবল ও অবকাঠামো যাচাইয়ের দায়িত্বে থাকা কমিটি পুনর্গঠন করা হয়েছে।

বর্তমানে দেশের ১০টি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাষা শিক্ষা কেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সবচেয়ে বেশি, ১৩টি ভাষা শেখার সুযোগ রয়েছে।

নতুন কর্মসূচির আওতায় কোথাও নতুন ভাষা শিক্ষা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা হবে, আবার যেসব বিশ্ববিদ্যালয়ে আগে থেকেই এ ধরনের কেন্দ্র রয়েছে, সেগুলোর সক্ষমতা ও অবকাঠামো আধুনিকায়ন করা হবে। পাশাপাশি বিদ্যমান কেন্দ্রগুলোর কোর্স, প্রশিক্ষক, জনবল ও সুযোগ-সুবিধা পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

সভায় দক্ষ প্রশিক্ষক তৈরির বিষয়টিকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রশিক্ষক দল গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর অভিজ্ঞ ভাষাবিশেষজ্ঞ ও প্রতিষ্ঠানগুলোর সহযোগিতাও নেওয়া হবে।

অধ্যাপক মামুন আহমেদ বলেন, ভবিষ্যৎ কর্মবাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শিক্ষার্থীদের বহুভাষিক দক্ষতা গড়ে তোলাই এ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। এতে শিক্ষার্থীদের পেশাগত সক্ষমতা বাড়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক যোগাযোগের ক্ষেত্রও বিস্তৃত হবে। দেশের পাশাপাশি বিদেশে কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরিতেও তৃতীয় ভাষা শিক্ষা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

প্রাথমিক ধাপে ৩০টি সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়কে এই কার্যক্রমের আওতায় এনে নতুন কেন্দ্র স্থাপন কিংবা বিদ্যমান কেন্দ্রগুলোর উন্নয়ন করার পরিকল্পনা রয়েছে ইউজিসির।

সভায় ইউজিসি চেয়ারম্যানের সভাপতিত্বে কমিশনের সদস্য অধ্যাপক মাছুমা হাবিব, অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল-মামুন, অধ্যাপক মো. মেহেদী হাসান খান, অধ্যাপক মো. আসলাম হোসেন, অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদ এবং ইউজিসি সচিবালয়ের সচিব মো. ফখরুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।