ঢাকা ০১:০৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শতভাগ পাস, শতভাগ জিপিএ-৫: নরসিংদীর নাছিমা কাদির মোল্লা স্কুলে আনন্দের জোয়ার

নিজস্ব সংবাদ :

নিজস্ব প্রতিবেদক

এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর নরসিংদীর নাছিমা কাদির মোল্লা হাইস্কুল অ্যান্ড হোমস যেন পরিণত হয় উৎসবের মঞ্চে। এবার প্রতিষ্ঠানটি থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ৩৮২ জন শিক্ষার্থীই শতভাগ পাসের পাশাপাশি জিপিএ-৫ অর্জন করেছে, যা এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

সোমবার সকাল ১০টায় ফলাফল প্রকাশের পরপরই বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শুরু হয় আনন্দ-উল্লাস। পরীক্ষার্থী ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা নাচ-গান আর উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠে। শিক্ষক, অভিভাবক ও শুভানুধ্যায়ীরাও যোগ দেন সেই আনন্দঘন মুহূর্তে। অনেক অভিভাবক মিষ্টি নিয়ে এসে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের শুভেচ্ছা জানান।

শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, বিদ্যালয়ের নিয়মিত পাঠদান, বিশেষ প্রস্তুতি ক্লাস, টিউটোরিয়াল পরীক্ষা, মাসিক মূল্যায়ন এবং গাইড শিক্ষকদের তত্ত্বাবধান তাদের ভালো ফলের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থী মিলয় দেবনাথ জানায়, “আমাদের পুরো ব্যাচই জিপিএ-৫ পেয়েছে। বন্ধুদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করতে পেরে খুব ভালো লাগছে। দীর্ঘদিনের পরিশ্রম সার্থক হয়েছে। সবচেয়ে বেশি খুশি হয়েছেন মা-বাবা।”

বিদ্যালয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৮ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই নাছিমা কাদির মোল্লা হাইস্কুল অ্যান্ড হোমস ধারাবাহিকভাবে ভালো ফল করে আসছে। চলতি বছর বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ৩৭৬ জন এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ থেকে ৬ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। সবাই জিপিএ-৫ অর্জন করেছে।

গত কয়েক বছরেও প্রতিষ্ঠানটির সাফল্য ছিল চোখে পড়ার মতো। ২০২৫ সালে ৩২০ জনের সবাই জিপিএ-৫ পায়। এর আগে ২০২৪ সালে ২৯৪ জনের মধ্যে ২৯৩ জন, ২০২৩ সালে ২৭৮ জনের মধ্যে ২৭০ জন, ২০২২ সালে ২৬৬ জনের সবাই, ২০২১ সালে ২৪৭ জনের মধ্যে ২৩৭ জন, ২০২০ সালে ২১৪ জনের মধ্যে ২০০ জন, ২০১৯ সালে ১৭১ জনের মধ্যে ১৬৮ জন, ২০১৮ সালে ১৩৯ জনের মধ্যে ১৩৭ জন এবং ২০১৭ সালে ১৬৪ জনের সবাই জিপিএ-৫ অর্জন করে

শিক্ষকরা মনে করছেন, শিক্ষার্থীদের প্রতি নিবিড় তদারকি, অভিভাবকদের সহযোগিতা এবং সময়োপযোগী শিক্ষা কার্যক্রমের সমন্বয়েই এই অনন্য সাফল্য সম্ভব হয়েছে। ধারাবাহিক এমন ফলাফল নরসিংদীর শিক্ষা অঙ্গনে নাছিমা কাদির মোল্লা হাইস্কুল অ্যান্ড হোমসকে একটি অনুকরণীয় প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

শতভাগ পাস, শতভাগ জিপিএ-৫: নরসিংদীর নাছিমা কাদির মোল্লা স্কুলে আনন্দের জোয়ার

আপডেট সময় ০২:৪৯:১৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক

এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর নরসিংদীর নাছিমা কাদির মোল্লা হাইস্কুল অ্যান্ড হোমস যেন পরিণত হয় উৎসবের মঞ্চে। এবার প্রতিষ্ঠানটি থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ৩৮২ জন শিক্ষার্থীই শতভাগ পাসের পাশাপাশি জিপিএ-৫ অর্জন করেছে, যা এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

সোমবার সকাল ১০টায় ফলাফল প্রকাশের পরপরই বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শুরু হয় আনন্দ-উল্লাস। পরীক্ষার্থী ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা নাচ-গান আর উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠে। শিক্ষক, অভিভাবক ও শুভানুধ্যায়ীরাও যোগ দেন সেই আনন্দঘন মুহূর্তে। অনেক অভিভাবক মিষ্টি নিয়ে এসে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের শুভেচ্ছা জানান।

শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, বিদ্যালয়ের নিয়মিত পাঠদান, বিশেষ প্রস্তুতি ক্লাস, টিউটোরিয়াল পরীক্ষা, মাসিক মূল্যায়ন এবং গাইড শিক্ষকদের তত্ত্বাবধান তাদের ভালো ফলের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থী মিলয় দেবনাথ জানায়, “আমাদের পুরো ব্যাচই জিপিএ-৫ পেয়েছে। বন্ধুদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করতে পেরে খুব ভালো লাগছে। দীর্ঘদিনের পরিশ্রম সার্থক হয়েছে। সবচেয়ে বেশি খুশি হয়েছেন মা-বাবা।”

বিদ্যালয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৮ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই নাছিমা কাদির মোল্লা হাইস্কুল অ্যান্ড হোমস ধারাবাহিকভাবে ভালো ফল করে আসছে। চলতি বছর বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ৩৭৬ জন এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ থেকে ৬ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। সবাই জিপিএ-৫ অর্জন করেছে।

গত কয়েক বছরেও প্রতিষ্ঠানটির সাফল্য ছিল চোখে পড়ার মতো। ২০২৫ সালে ৩২০ জনের সবাই জিপিএ-৫ পায়। এর আগে ২০২৪ সালে ২৯৪ জনের মধ্যে ২৯৩ জন, ২০২৩ সালে ২৭৮ জনের মধ্যে ২৭০ জন, ২০২২ সালে ২৬৬ জনের সবাই, ২০২১ সালে ২৪৭ জনের মধ্যে ২৩৭ জন, ২০২০ সালে ২১৪ জনের মধ্যে ২০০ জন, ২০১৯ সালে ১৭১ জনের মধ্যে ১৬৮ জন, ২০১৮ সালে ১৩৯ জনের মধ্যে ১৩৭ জন এবং ২০১৭ সালে ১৬৪ জনের সবাই জিপিএ-৫ অর্জন করে

শিক্ষকরা মনে করছেন, শিক্ষার্থীদের প্রতি নিবিড় তদারকি, অভিভাবকদের সহযোগিতা এবং সময়োপযোগী শিক্ষা কার্যক্রমের সমন্বয়েই এই অনন্য সাফল্য সম্ভব হয়েছে। ধারাবাহিক এমন ফলাফল নরসিংদীর শিক্ষা অঙ্গনে নাছিমা কাদির মোল্লা হাইস্কুল অ্যান্ড হোমসকে একটি অনুকরণীয় প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেছে।