ঢাকা ১০:৫১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইবিতে ‘ম্যানার শেখানোর’ নামে র‍্যাগিং আতঙ্ক: গভীর রাত পর্যন্ত আটকে রাখা, অপমান-হুমকির অভিযোগ

নিজস্ব সংবাদ :

নিজস্ব প্রতিবেদক

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) নবীন শিক্ষার্থীদের পরিচিতি ও শিষ্টাচার শেখানোর আড়ালে র‍্যাগিংয়ের অভিযোগে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছেন, তাদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসিয়ে রাখা, বারবার পরিচয় দিতে বাধ্য করা, অশালীন ভাষায় অপমান করা, জোর করে নাচানো, রাত গভীর পর্যন্ত ক্যাম্পাসে অবস্থান করানো এবং মানসিক চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের ক্লাস শুরু হওয়ার পর ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট, ল অ্যান্ড ল্যান্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেশন, আইন, আল-ফিকহ অ্যান্ড ল, ফাইন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং, পলিটিক্যাল সায়েন্স, ফার্মেসি ও পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বিভাগ থেকে এমন অভিযোগ সামনে এসেছে।

ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, ওরিয়েন্টেশনের কয়েক দিনের মধ্যেই ‘ম্যানার শেখানো’ নামে সিনিয়ররা নবীনদের আলাদা করে ডাকতে শুরু করেন। ক্লাস শেষে ছেলে ও মেয়ে শিক্ষার্থীদের কক্ষে বসিয়ে পরিচয় দিতে বলা হতো। পরিচয়ে সামান্য ভুল হলেই গালিগালাজ, বকাঝকা ও অপমান করা হতো। কয়েকজন শিক্ষার্থী জানিয়েছেন, তাদের বহুবার একই পরিচয় পুনরাবৃত্তি করতে বাধ্য করা হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, প্রতিদিন বিকেলের মধ্যে নির্দিষ্ট স্থানে উপস্থিত থাকতে বলা হতো নবীনদের। কেউ না গেলে ক্লাস প্রতিনিধিকে জবাবদিহি করতে হতো। শুধু দিনেই নয়, রাতেও বিভিন্ন স্থানে ডেকে নেওয়া হতো শিক্ষার্থীদের। কখনো রাত ১২টা, আবার কখনো রাত দেড়টা পর্যন্ত তাদের ক্যাম্পাসে আটকে রাখা হয়েছে বলে দাবি করেছেন কয়েকজন শিক্ষার্থী।

একাধিক শিক্ষার্থী জানান, রাতে জিয়া মোড় এলাকায় ডেকে বিভিন্ন ধরনের ‘শাস্তি’ দেওয়া হয়। কাউকে লাইব্রেরির সামনে গিয়ে ছবি তুলে আনতে, কাউকে ডায়না চত্বরে গিয়ে ল্যাম্পপোস্ট গুনে আসতে বলা হয়। ভুল হলে আবারও একই কাজ করতে বাধ্য করা হতো। এক ক্লাস প্রতিনিধিকে মেয়েদের হলের নাম ভুল বলার কারণে প্রতিটি হলের সামনে গিয়ে সেলফি তুলে আনতে বলা হয়েছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

আরও অভিযোগ রয়েছে, কয়েকজন শিক্ষার্থী সিনিয়রদের ডাকে সাড়া না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর টানা দুই দিন ক্লাসে অনুপস্থিত ছিলেন। পরে তাদের ডেকে অনুপস্থিতির কারণ জানতে চাওয়া হয়।

কুষ্টিয়া শহরে অবস্থানরত কিছু নবীন শিক্ষার্থীকেও ক্যাম্পাসের বাইরে ডেকে নিয়ে হয়রানি করার অভিযোগ উঠেছে। একজন শিক্ষার্থীর দাবি, তাকে পুকুরের ময়লা পানি মুখে নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে বাধ্য করা হয়। আরেকজনকে বিভিন্ন ভঙ্গিতে হাসতে বলা হয় এবং সেই দৃশ্য ভিডিও করা হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তা ছড়িয়ে দেওয়ার ভয়ও দেখানো হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগগুলোর একটি এসেছে এক নারী শিক্ষার্থীর কাছ থেকে। তিনি দাবি করেছেন, এক সিনিয়রের সঙ্গে দেখা করতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে ধর্ষণের হুমকি দেওয়া হয়। বিষয়টি তাকে চরম আতঙ্কের মধ্যে ফেলেছে বলে সহপাঠীরা জানিয়েছেন।

ল অ্যান্ড ল্যান্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বিভাগেও কয়েকজন নবীনকে ক্লাসে দাঁড় করিয়ে অপমান করার অভিযোগ উঠেছে। এতে কয়েকজন শিক্ষার্থী কান্নায় ভেঙে পড়েন বলে জানা গেছে। অন্যদিকে আল-ফিকহ অ্যান্ড ল বিভাগের এক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে এক নবীন ছাত্রীকে বারবার পরিচয় দিতে বাধ্য করা এবং ভুল হলে আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বিভাগের এক শিক্ষার্থী বলেন, পরিচয়পর্বের নামে সিনিয়ররা ক্লাসে এসে পরিচয় নিতেন, ভুল হলে গালিগালাজ করতেন এবং কখনো কখনো মোবাইল ফোনও পরীক্ষা করতেন। ফাইন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং, পলিটিক্যাল সায়েন্স, আইন ও ফার্মেসি বিভাগের শিক্ষার্থীরাও একই ধরনের হয়রানির অভিযোগ করেছেন।

ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের প্রায় ১৬ জন শিক্ষার্থী লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে নিরাপত্তাহীনতা ও সামাজিক চাপে অধিকাংশ শিক্ষার্থী প্রকাশ্যে কথা বলতে চাননি।

অভিযুক্ত কয়েকজন শিক্ষার্থী স্বীকার করেছেন যে নবীনদের বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্থাপনার নাম জিজ্ঞাসা করা, ভুল হলে সেখানে পাঠানো, ল্যাম্পপোস্ট গণনা করানো এবং একাধিকবার পরিচয় নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। তবে তাদের দাবি, উদ্দেশ্য ছিল নতুন শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাসের সঙ্গে পরিচিত করা।

বিভাগীয় চেয়ারম্যান শরিফুল ইসলাম জানিয়েছেন, অভিযোগ পাওয়ার পর শিক্ষকদের সমন্বয়ে তদন্ত করে একটি প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, র‍্যাগিংয়ের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে। সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে এবং প্রতিটি বিভাগে একজন শিক্ষককে র‍্যাগিং প্রতিরোধ কার্যক্রমের দায়িত্ব দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

ছাত্র উপদেষ্টা ড. ওবায়দুল ইসলাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ম্যানার’ বা ফরমাল পরিচয় শেখানোর নামে কোনো অনুমোদিত কার্যক্রম নেই। অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রশাসন ব্যবস্থা নেবে।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান জানিয়েছেন, লিখিত অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখতে বিভাগীয় চেয়ারম্যান ও ডিনদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রক্টরকেও তদন্ত করে দ্রুত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা, এমনকি ছাত্রত্ব বাতিলের সিদ্ধান্তও নেওয়া হতে পারে বলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ইঙ্গিত দিয়েছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ইবিতে ‘ম্যানার শেখানোর’ নামে র‍্যাগিং আতঙ্ক: গভীর রাত পর্যন্ত আটকে রাখা, অপমান-হুমকির অভিযোগ

আপডেট সময় ০৩:২১:২৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) নবীন শিক্ষার্থীদের পরিচিতি ও শিষ্টাচার শেখানোর আড়ালে র‍্যাগিংয়ের অভিযোগে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছেন, তাদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসিয়ে রাখা, বারবার পরিচয় দিতে বাধ্য করা, অশালীন ভাষায় অপমান করা, জোর করে নাচানো, রাত গভীর পর্যন্ত ক্যাম্পাসে অবস্থান করানো এবং মানসিক চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের ক্লাস শুরু হওয়ার পর ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট, ল অ্যান্ড ল্যান্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেশন, আইন, আল-ফিকহ অ্যান্ড ল, ফাইন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং, পলিটিক্যাল সায়েন্স, ফার্মেসি ও পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বিভাগ থেকে এমন অভিযোগ সামনে এসেছে।

ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, ওরিয়েন্টেশনের কয়েক দিনের মধ্যেই ‘ম্যানার শেখানো’ নামে সিনিয়ররা নবীনদের আলাদা করে ডাকতে শুরু করেন। ক্লাস শেষে ছেলে ও মেয়ে শিক্ষার্থীদের কক্ষে বসিয়ে পরিচয় দিতে বলা হতো। পরিচয়ে সামান্য ভুল হলেই গালিগালাজ, বকাঝকা ও অপমান করা হতো। কয়েকজন শিক্ষার্থী জানিয়েছেন, তাদের বহুবার একই পরিচয় পুনরাবৃত্তি করতে বাধ্য করা হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, প্রতিদিন বিকেলের মধ্যে নির্দিষ্ট স্থানে উপস্থিত থাকতে বলা হতো নবীনদের। কেউ না গেলে ক্লাস প্রতিনিধিকে জবাবদিহি করতে হতো। শুধু দিনেই নয়, রাতেও বিভিন্ন স্থানে ডেকে নেওয়া হতো শিক্ষার্থীদের। কখনো রাত ১২টা, আবার কখনো রাত দেড়টা পর্যন্ত তাদের ক্যাম্পাসে আটকে রাখা হয়েছে বলে দাবি করেছেন কয়েকজন শিক্ষার্থী।

একাধিক শিক্ষার্থী জানান, রাতে জিয়া মোড় এলাকায় ডেকে বিভিন্ন ধরনের ‘শাস্তি’ দেওয়া হয়। কাউকে লাইব্রেরির সামনে গিয়ে ছবি তুলে আনতে, কাউকে ডায়না চত্বরে গিয়ে ল্যাম্পপোস্ট গুনে আসতে বলা হয়। ভুল হলে আবারও একই কাজ করতে বাধ্য করা হতো। এক ক্লাস প্রতিনিধিকে মেয়েদের হলের নাম ভুল বলার কারণে প্রতিটি হলের সামনে গিয়ে সেলফি তুলে আনতে বলা হয়েছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

আরও অভিযোগ রয়েছে, কয়েকজন শিক্ষার্থী সিনিয়রদের ডাকে সাড়া না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর টানা দুই দিন ক্লাসে অনুপস্থিত ছিলেন। পরে তাদের ডেকে অনুপস্থিতির কারণ জানতে চাওয়া হয়।

কুষ্টিয়া শহরে অবস্থানরত কিছু নবীন শিক্ষার্থীকেও ক্যাম্পাসের বাইরে ডেকে নিয়ে হয়রানি করার অভিযোগ উঠেছে। একজন শিক্ষার্থীর দাবি, তাকে পুকুরের ময়লা পানি মুখে নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে বাধ্য করা হয়। আরেকজনকে বিভিন্ন ভঙ্গিতে হাসতে বলা হয় এবং সেই দৃশ্য ভিডিও করা হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তা ছড়িয়ে দেওয়ার ভয়ও দেখানো হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগগুলোর একটি এসেছে এক নারী শিক্ষার্থীর কাছ থেকে। তিনি দাবি করেছেন, এক সিনিয়রের সঙ্গে দেখা করতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে ধর্ষণের হুমকি দেওয়া হয়। বিষয়টি তাকে চরম আতঙ্কের মধ্যে ফেলেছে বলে সহপাঠীরা জানিয়েছেন।

ল অ্যান্ড ল্যান্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বিভাগেও কয়েকজন নবীনকে ক্লাসে দাঁড় করিয়ে অপমান করার অভিযোগ উঠেছে। এতে কয়েকজন শিক্ষার্থী কান্নায় ভেঙে পড়েন বলে জানা গেছে। অন্যদিকে আল-ফিকহ অ্যান্ড ল বিভাগের এক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে এক নবীন ছাত্রীকে বারবার পরিচয় দিতে বাধ্য করা এবং ভুল হলে আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বিভাগের এক শিক্ষার্থী বলেন, পরিচয়পর্বের নামে সিনিয়ররা ক্লাসে এসে পরিচয় নিতেন, ভুল হলে গালিগালাজ করতেন এবং কখনো কখনো মোবাইল ফোনও পরীক্ষা করতেন। ফাইন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং, পলিটিক্যাল সায়েন্স, আইন ও ফার্মেসি বিভাগের শিক্ষার্থীরাও একই ধরনের হয়রানির অভিযোগ করেছেন।

ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের প্রায় ১৬ জন শিক্ষার্থী লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে নিরাপত্তাহীনতা ও সামাজিক চাপে অধিকাংশ শিক্ষার্থী প্রকাশ্যে কথা বলতে চাননি।

অভিযুক্ত কয়েকজন শিক্ষার্থী স্বীকার করেছেন যে নবীনদের বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্থাপনার নাম জিজ্ঞাসা করা, ভুল হলে সেখানে পাঠানো, ল্যাম্পপোস্ট গণনা করানো এবং একাধিকবার পরিচয় নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। তবে তাদের দাবি, উদ্দেশ্য ছিল নতুন শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাসের সঙ্গে পরিচিত করা।

বিভাগীয় চেয়ারম্যান শরিফুল ইসলাম জানিয়েছেন, অভিযোগ পাওয়ার পর শিক্ষকদের সমন্বয়ে তদন্ত করে একটি প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, র‍্যাগিংয়ের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে। সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে এবং প্রতিটি বিভাগে একজন শিক্ষককে র‍্যাগিং প্রতিরোধ কার্যক্রমের দায়িত্ব দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

ছাত্র উপদেষ্টা ড. ওবায়দুল ইসলাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ম্যানার’ বা ফরমাল পরিচয় শেখানোর নামে কোনো অনুমোদিত কার্যক্রম নেই। অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রশাসন ব্যবস্থা নেবে।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান জানিয়েছেন, লিখিত অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখতে বিভাগীয় চেয়ারম্যান ও ডিনদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রক্টরকেও তদন্ত করে দ্রুত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা, এমনকি ছাত্রত্ব বাতিলের সিদ্ধান্তও নেওয়া হতে পারে বলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ইঙ্গিত দিয়েছে।