ইবি হলে গোপনে সহপাঠীদের ব্যক্তিগত ছবি তোলার অভিযোগ, নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ
ইবি প্রতিনিধি: ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ছাত্রী হল ‘জুলাই ৩৬’-এ এক আবাসিক শিক্ষার্থীকে ঘিরে সহপাঠীদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, তিনি অন্তত ১০ জন ছাত্রীর অজান্তে বিভিন্ন সময় ছবি তুলে সেগুলো বিদেশে অবস্থানরত এক পরিচিত ব্যক্তির কাছে পাঠাতেন। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর হলজুড়ে উদ্বেগ, ক্ষোভ ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর সঙ্গে লন্ডনে থাকা আবিদ নামের এক যুবকের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। তাকে খুশি করতে হলের ভেতরে ছাত্রীদের অসতর্ক অবস্থার ছবি গোপনে সংগ্রহ করে পাঠানো হতো বলে অভিযোগ করেন তারা। সম্প্রতি দুজনের সম্পর্কের অবনতি হলে ওই যুবক কিছু ছবি মেসেঞ্জারের মাধ্যমে অন্য শিক্ষার্থীদের কাছে পাঠিয়ে দেন। এরপর বিষয়টি দ্রুত হলের বিভিন্ন কক্ষে ছড়িয়ে পড়ে।
শিক্ষার্থীরা জানান, আবাসিক হলকে নিরাপদ পরিবেশ মনে করে তারা স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতেন। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, ঘুমন্ত অবস্থায়, সাধারণ পোশাকে কিংবা ওড়না ছাড়া থাকা অবস্থার ছবিও গোপনে ধারণ করা হয়েছে। এমনকি পর্দানশীল ও নিকাব পরা কয়েকজন ছাত্রীর ব্যক্তিগত মুহূর্তের ছবিও তোলা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এতে নিজেদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে মনে করছেন ভুক্তভোগীরা।
ঘটনার পর সহপাঠীদের মুখোমুখি হয়ে অভিযুক্ত ছাত্রী নিজের কর্মকাণ্ডের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন বলে জানা গেছে। তিনি দাবি করেন, কোনো অসৎ উদ্দেশ্যে নয়, বরং ভুল বোঝাবুঝি ও অপরিণত সিদ্ধান্তের কারণে তিনি এমন কাজ করেছেন। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কথোপকথনের কিছু অডিও নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
এ বিষয়ে হল প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে ভুক্তভোগীরা শুক্রবার লিখিত অভিযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহিনুজ্জামান ঘটনাটিকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও নিন্দনীয় উল্লেখ করে বলেন, আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত বিধি অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনার পর ক্যাম্পাসজুড়ে আবাসিক হলের নিরাপত্তা, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা এবং সাইবার সচেতনতা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেক শিক্ষার্থী হলগুলোতে মোবাইল ব্যবহার ও ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষায় আরও কঠোর নীতিমালা প্রণয়নের দাবি জানিয়েছেন


























