ঢাকা ১২:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘কারফিউ ভেঙে রাজপথে নেমেছিলেন শিক্ষকরা’ — জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সাদা দলের ভূমিকার দাবি

নিজস্ব সংবাদ :

অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খান

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি: জুলাই গণঅভ্যুত্থান ২০২৪–এর দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাদা দলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খান দাবি করেছেন, গত ১৭ বছর ধরে গণতন্ত্র, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও নাগরিক অধিকারের পক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষক ধারাবাহিকভাবে সোচ্চার ছিলেন।

রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে অনুষ্ঠিত সভায় তিনি বলেন, দমন-পীড়নের নানা পর্যায়েও শিক্ষক সমাজ তাঁদের নৈতিক অবস্থান থেকে সরে আসেননি। প্রতিবাদী অবস্থান বজায় রাখতে গিয়ে অনেক শিক্ষক হয়রানি, কারাবরণ, মিথ্যা মামলা ও পেশাগত বৈষম্যের শিকার হয়েছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

ড. মোর্শেদ হাসান বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সংকটময় পরিস্থিতিতে শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সচেষ্ট ছিলেন এবং দেশ-বিদেশে জনমত গঠনে ভূমিকা রাখেন।

তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সাদা দল ও ইউট্যাবের নেতৃত্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা কারফিউ উপেক্ষা করে রাজপথে নামেন। তাঁর মতে, সেই পদক্ষেপ আন্দোলনে নতুন গতি সঞ্চার করেছিল এবং ছাত্র-জনতার মধ্যে বিজয়ের প্রত্যয় জাগিয়ে তুলেছিল।

আলোচনা সভায় তিনি জুলাই আন্দোলনে নিহতদের স্মরণ করে বলেন, আবু সাঈদ, ওয়াসিম আকরাম, মীর মুগ্ধ, ফারহান ফাইয়াজ, তাহমিদসহ পরিচিত ও অজ্ঞাত বহু শহীদ এবং আহত ব্যক্তির আত্মত্যাগ নতুন বাংলাদেশের পথ নির্মাণে অবদান রেখেছে। তাঁদের ত্যাগ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দীন আহমদ। তাঁকে স্বাগত জানিয়ে ড. মোর্শেদ হাসান বলেন, গুম ও দীর্ঘ সময় পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন থাকার অভিজ্ঞতা তাঁকে নিপীড়নের একটি প্রতীকী উদাহরণে পরিণত করেছে।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. বি. এম. ওবায়দুল ইসলাম। রিজভী আহমেদের রাজনৈতিক ভূমিকার প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, দীর্ঘ প্রতিকূলতার সময়েও তিনি দলীয় কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিলেন এবং সংগঠনকে ধরে রাখতে ভূমিকা রেখেছেন।

সভায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের পরিবারের সদস্য ও কয়েকজন শহীদ জননীও উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বক্তারা বলেন, পরিবারের এই আত্মত্যাগ জাতির জন্য এক গভীর প্রেরণা হয়ে থাকবে।

সভাপতির বক্তব্যে ড. মোর্শেদ হাসান খান বলেন, ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে কেউ কেবল দর্শক থাকেন, আবার কেউ ইতিহাস নির্মাণে ভূমিকা রাখেন। তাঁর মতে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে দেশের বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমাজ সেই নির্মাণপ্রক্রিয়ার অংশ ছিল।

তিনি বলেন, এ আয়োজন শুধু অতীত স্মরণের জন্য নয়; বরং জুলাইয়ের আদর্শ, ত্যাগ ও দায়িত্ববোধ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার অঙ্গীকার। শেষে তিনি গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও মানবিক মর্যাদাকে রাষ্ট্র পরিচালনার মূল ভিত্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান এবং নতুন গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গঠনে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

‘কারফিউ ভেঙে রাজপথে নেমেছিলেন শিক্ষকরা’ — জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সাদা দলের ভূমিকার দাবি

আপডেট সময় ০৩:২৮:২৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি: জুলাই গণঅভ্যুত্থান ২০২৪–এর দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাদা দলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খান দাবি করেছেন, গত ১৭ বছর ধরে গণতন্ত্র, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও নাগরিক অধিকারের পক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষক ধারাবাহিকভাবে সোচ্চার ছিলেন।

রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে অনুষ্ঠিত সভায় তিনি বলেন, দমন-পীড়নের নানা পর্যায়েও শিক্ষক সমাজ তাঁদের নৈতিক অবস্থান থেকে সরে আসেননি। প্রতিবাদী অবস্থান বজায় রাখতে গিয়ে অনেক শিক্ষক হয়রানি, কারাবরণ, মিথ্যা মামলা ও পেশাগত বৈষম্যের শিকার হয়েছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

ড. মোর্শেদ হাসান বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সংকটময় পরিস্থিতিতে শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সচেষ্ট ছিলেন এবং দেশ-বিদেশে জনমত গঠনে ভূমিকা রাখেন।

তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সাদা দল ও ইউট্যাবের নেতৃত্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা কারফিউ উপেক্ষা করে রাজপথে নামেন। তাঁর মতে, সেই পদক্ষেপ আন্দোলনে নতুন গতি সঞ্চার করেছিল এবং ছাত্র-জনতার মধ্যে বিজয়ের প্রত্যয় জাগিয়ে তুলেছিল।

আলোচনা সভায় তিনি জুলাই আন্দোলনে নিহতদের স্মরণ করে বলেন, আবু সাঈদ, ওয়াসিম আকরাম, মীর মুগ্ধ, ফারহান ফাইয়াজ, তাহমিদসহ পরিচিত ও অজ্ঞাত বহু শহীদ এবং আহত ব্যক্তির আত্মত্যাগ নতুন বাংলাদেশের পথ নির্মাণে অবদান রেখেছে। তাঁদের ত্যাগ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দীন আহমদ। তাঁকে স্বাগত জানিয়ে ড. মোর্শেদ হাসান বলেন, গুম ও দীর্ঘ সময় পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন থাকার অভিজ্ঞতা তাঁকে নিপীড়নের একটি প্রতীকী উদাহরণে পরিণত করেছে।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. বি. এম. ওবায়দুল ইসলাম। রিজভী আহমেদের রাজনৈতিক ভূমিকার প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, দীর্ঘ প্রতিকূলতার সময়েও তিনি দলীয় কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিলেন এবং সংগঠনকে ধরে রাখতে ভূমিকা রেখেছেন।

সভায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের পরিবারের সদস্য ও কয়েকজন শহীদ জননীও উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বক্তারা বলেন, পরিবারের এই আত্মত্যাগ জাতির জন্য এক গভীর প্রেরণা হয়ে থাকবে।

সভাপতির বক্তব্যে ড. মোর্শেদ হাসান খান বলেন, ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে কেউ কেবল দর্শক থাকেন, আবার কেউ ইতিহাস নির্মাণে ভূমিকা রাখেন। তাঁর মতে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে দেশের বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমাজ সেই নির্মাণপ্রক্রিয়ার অংশ ছিল।

তিনি বলেন, এ আয়োজন শুধু অতীত স্মরণের জন্য নয়; বরং জুলাইয়ের আদর্শ, ত্যাগ ও দায়িত্ববোধ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার অঙ্গীকার। শেষে তিনি গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও মানবিক মর্যাদাকে রাষ্ট্র পরিচালনার মূল ভিত্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান এবং নতুন গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গঠনে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।