ঢাকা ১২:০০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

১৫ আগস্ট: বঙ্গবন্ধু ও পরিবারের সদস্যদের হত্যাকাণ্ডের সেই শোকাবহ দিন

নিজস্ব সংবাদ :

আজ ১৫ আগস্ট। বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম মর্মান্তিক অধ্যায়ের দিন। ১৯৭৫ সালের এই দিনে ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের বাসভবনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের ওপর ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়।

সেদিন বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে প্রাণ হারান তাঁর সহধর্মিণী বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, তিন ছেলে শেখ কামাল, শেখ জামাল ও শেখ রাসেল এবং দুই পুত্রবধূ সুলতানা কামাল ও রোজী জামাল।

একই ঘটনায় নিহত হন বঙ্গবন্ধুর ভাই শেখ আবু নাসের, সামরিক সচিব জামিলউদ্দিন আহমেদ, এসবি কর্মকর্তা সিদ্দিকুর রহমান ও সেনাসদস্য সৈয়দ মাহবুবুল হক।

এ হত্যাকাণ্ডের পরিধি ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের বাসভবনেই সীমাবদ্ধ ছিল না। বঙ্গবন্ধুর ভাগনে শেখ ফজলুল হক মণির বাসভবনেও হামলা চালানো হয়। সেখানে শেখ মণি ও তাঁর অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী আরজু মণি নিহত হন।

এ ছাড়া বঙ্গবন্ধুর ভগ্নিপতি আবদুর রব সেরনিয়াবাতের বাসায়ও হামলা চালানো হয়। ওই ঘটনায় তাঁর মেয়ে বেবি, ছেলে আরিফ সেরনিয়াবাত, নাতি সুকান্ত বাবু, বড় ভাইয়ের ছেলে সজীব সেরনিয়াবাতসহ পরিবারের কয়েকজন সদস্য নিহত হন।

সৌভাগ্যক্রমে সে সময় দেশের বাইরে থাকায় প্রাণে বেঁচে যান বঙ্গবন্ধুর দুই মেয়ে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা। তখন তাঁরা বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে অবস্থান করছিলেন।

দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছিল। দিনটিকে সরকারি ছুটিও ঘোষণা করা হয়েছিল। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে দেশ ছাড়ার পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের মধ্যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ১৫ আগস্টের সরকারি ছুটি বাতিল করে। সেই সিদ্ধান্ত এখনো বহাল রয়েছে।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ড বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে গভীর ও বেদনাবিধুর একটি অধ্যায় হয়ে আছে। সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে রাষ্ট্রীয়ভাবে দিনটি পালনের ধরন বদলালেও ওই দিনের ঘটনাবলি দেশের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে রয়ে গেছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

১৫ আগস্ট: বঙ্গবন্ধু ও পরিবারের সদস্যদের হত্যাকাণ্ডের সেই শোকাবহ দিন

আপডেট সময় ০৬:২৬:২৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬

আজ ১৫ আগস্ট। বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম মর্মান্তিক অধ্যায়ের দিন। ১৯৭৫ সালের এই দিনে ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের বাসভবনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের ওপর ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়।

সেদিন বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে প্রাণ হারান তাঁর সহধর্মিণী বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, তিন ছেলে শেখ কামাল, শেখ জামাল ও শেখ রাসেল এবং দুই পুত্রবধূ সুলতানা কামাল ও রোজী জামাল।

একই ঘটনায় নিহত হন বঙ্গবন্ধুর ভাই শেখ আবু নাসের, সামরিক সচিব জামিলউদ্দিন আহমেদ, এসবি কর্মকর্তা সিদ্দিকুর রহমান ও সেনাসদস্য সৈয়দ মাহবুবুল হক।

এ হত্যাকাণ্ডের পরিধি ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের বাসভবনেই সীমাবদ্ধ ছিল না। বঙ্গবন্ধুর ভাগনে শেখ ফজলুল হক মণির বাসভবনেও হামলা চালানো হয়। সেখানে শেখ মণি ও তাঁর অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী আরজু মণি নিহত হন।

এ ছাড়া বঙ্গবন্ধুর ভগ্নিপতি আবদুর রব সেরনিয়াবাতের বাসায়ও হামলা চালানো হয়। ওই ঘটনায় তাঁর মেয়ে বেবি, ছেলে আরিফ সেরনিয়াবাত, নাতি সুকান্ত বাবু, বড় ভাইয়ের ছেলে সজীব সেরনিয়াবাতসহ পরিবারের কয়েকজন সদস্য নিহত হন।

সৌভাগ্যক্রমে সে সময় দেশের বাইরে থাকায় প্রাণে বেঁচে যান বঙ্গবন্ধুর দুই মেয়ে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা। তখন তাঁরা বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে অবস্থান করছিলেন।

দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছিল। দিনটিকে সরকারি ছুটিও ঘোষণা করা হয়েছিল। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে দেশ ছাড়ার পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের মধ্যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ১৫ আগস্টের সরকারি ছুটি বাতিল করে। সেই সিদ্ধান্ত এখনো বহাল রয়েছে।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ড বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে গভীর ও বেদনাবিধুর একটি অধ্যায় হয়ে আছে। সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে রাষ্ট্রীয়ভাবে দিনটি পালনের ধরন বদলালেও ওই দিনের ঘটনাবলি দেশের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে রয়ে গেছে।