ঢাকা ০১:১৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সিংগাইরে জবির ‘কালীগঙ্গা’ বাসে হামলা: কাচ ভাঙচুরে আহত অন্তত ১০ শিক্ষার্থী

নিজস্ব সংবাদ :

নিজস্ব প্রতিবেদক

মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বহনকারী ‘কালীগঙ্গা’ বাসে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর বলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপজেলার ধল্লা ইউনিয়নের ভূমদক্ষিণ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা মেট্রো-স ১৪-০১৯৪ নম্বরের বাসটি শিক্ষার্থীদের নিয়ে সিংগাইরের দিকে যাচ্ছিল।

জানা গেছে, এর আগে সাভারের হেমায়েতপুর এলাকায় একটি অটোরিকশার সঙ্গে বাসটির ধাক্কা লাগে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে অটোরিকশার যাত্রী কাউসারের সঙ্গে বাসের কিছু যাত্রী ও স্টাফের কথা-কাটাকাটি হয়। পরে বিষয়টি ধাক্কাধাক্কি পর্যন্ত গড়ায়।

কাউসারের পরিবারের দাবি, ওই সময় বাসের স্টাফ ও কয়েকজন শিক্ষার্থী তাকে মারধর করেন। এর জেরে পরবর্তীতে ভূমদক্ষিণ এলাকায় পৌঁছালে কাউসার কয়েকজন সহযোগী নিয়ে বাসটির ওপর হামলা চালান।

হামলাকারীরা গ্যাসের পাইপসহ বিভিন্ন বস্তু ব্যবহার করে বাসের জানালার কাচ ভাঙচুর করে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। এতে এন্ডোক্রিনোলজি বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী রিম্বি আক্তার এবং ইতিহাস বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী পূর্ণিমা আক্তারসহ অন্তত ১০ জন আহত হন।

আহতদের প্রথমে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে কয়েকজনকে মানিকগঞ্জ ও সিংগাইরের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গুরুতর আহতদের একজনের মাথায় আঘাত লেগেছে এবং আরেকজনের শরীরে ভাঙা কাচ ঢুকে জখম হয়েছে বলে চিকিৎসা সূত্রে জানা গেছে।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন প্রশাসক ড. তারেক বিন আতিক বলেন, হামলায় কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন এবং তাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করার কাজ চলছে এবং এ বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের পরিবহন সম্পাদক মাহিদ হোসেন জানান, ঘটনার খবর পাওয়ার পর তারা ঘটনাস্থলে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছেন। প্রাথমিক তথ্যে চালকসহ একাধিক ব্যক্তি আহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।

এদিকে কাউসারের বাবা আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, হেমায়েতপুর এলাকায় তার ছেলের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বাগ্‌বিতণ্ডা হয়েছিল। পরে ক্ষোভের বশে কাউসার কয়েকজনকে নিয়ে বাসের কাচ ভাঙচুর করেছে বলে তিনি স্বীকার করেন।

সিংগাইর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাজহারুল ইসলাম জানান, সড়কে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনার পর স্থানীয়ভাবে বাসটিকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসটি মূল ঘটনার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত ছিল না।

তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ লিখিত অভিযোগ দিলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুলিশ ইতোমধ্যে ঘটনাটি তদন্ত শুরু করেছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

সিংগাইরে জবির ‘কালীগঙ্গা’ বাসে হামলা: কাচ ভাঙচুরে আহত অন্তত ১০ শিক্ষার্থী

আপডেট সময় ০৩:২৪:৪৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক

মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বহনকারী ‘কালীগঙ্গা’ বাসে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর বলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপজেলার ধল্লা ইউনিয়নের ভূমদক্ষিণ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা মেট্রো-স ১৪-০১৯৪ নম্বরের বাসটি শিক্ষার্থীদের নিয়ে সিংগাইরের দিকে যাচ্ছিল।

জানা গেছে, এর আগে সাভারের হেমায়েতপুর এলাকায় একটি অটোরিকশার সঙ্গে বাসটির ধাক্কা লাগে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে অটোরিকশার যাত্রী কাউসারের সঙ্গে বাসের কিছু যাত্রী ও স্টাফের কথা-কাটাকাটি হয়। পরে বিষয়টি ধাক্কাধাক্কি পর্যন্ত গড়ায়।

কাউসারের পরিবারের দাবি, ওই সময় বাসের স্টাফ ও কয়েকজন শিক্ষার্থী তাকে মারধর করেন। এর জেরে পরবর্তীতে ভূমদক্ষিণ এলাকায় পৌঁছালে কাউসার কয়েকজন সহযোগী নিয়ে বাসটির ওপর হামলা চালান।

হামলাকারীরা গ্যাসের পাইপসহ বিভিন্ন বস্তু ব্যবহার করে বাসের জানালার কাচ ভাঙচুর করে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। এতে এন্ডোক্রিনোলজি বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী রিম্বি আক্তার এবং ইতিহাস বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী পূর্ণিমা আক্তারসহ অন্তত ১০ জন আহত হন।

আহতদের প্রথমে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে কয়েকজনকে মানিকগঞ্জ ও সিংগাইরের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গুরুতর আহতদের একজনের মাথায় আঘাত লেগেছে এবং আরেকজনের শরীরে ভাঙা কাচ ঢুকে জখম হয়েছে বলে চিকিৎসা সূত্রে জানা গেছে।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন প্রশাসক ড. তারেক বিন আতিক বলেন, হামলায় কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন এবং তাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করার কাজ চলছে এবং এ বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের পরিবহন সম্পাদক মাহিদ হোসেন জানান, ঘটনার খবর পাওয়ার পর তারা ঘটনাস্থলে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছেন। প্রাথমিক তথ্যে চালকসহ একাধিক ব্যক্তি আহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।

এদিকে কাউসারের বাবা আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, হেমায়েতপুর এলাকায় তার ছেলের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বাগ্‌বিতণ্ডা হয়েছিল। পরে ক্ষোভের বশে কাউসার কয়েকজনকে নিয়ে বাসের কাচ ভাঙচুর করেছে বলে তিনি স্বীকার করেন।

সিংগাইর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাজহারুল ইসলাম জানান, সড়কে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনার পর স্থানীয়ভাবে বাসটিকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসটি মূল ঘটনার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত ছিল না।

তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ লিখিত অভিযোগ দিলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুলিশ ইতোমধ্যে ঘটনাটি তদন্ত শুরু করেছে।