ঢাকা ০৮:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাত দিনের হোয়াটসঅ্যাপ প্রেম, ‘লন্ডনপ্রবাসী’ প্রেমিকের ফাঁদে হারালেন ৮০ হাজার টাকা

নিজস্ব সংবাদ :

হোয়াটসঅ্যাপে মাত্র এক সপ্তাহের পরিচয়। অল্প সময়ের কথোপকথনেই গড়ে ওঠে বিশ্বাস, এরপর সেই বিশ্বাসই পরিণত হয় প্রতারণার ভয়াবহ ফাঁদে। নিজেকে যুক্তরাজ্যপ্রবাসী বলে পরিচয় দেওয়া এক ব্যক্তি প্রেমের সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে বরিশালের এক নারীর কাছ থেকে ৮০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।

ভুক্তভোগী লিমা জানান, পরিচয়ের কয়েক দিনের মধ্যেই কথিত প্রেমিক ইমরান তাকে জানায়, তিনি বাংলাদেশে আসছেন। সঙ্গে প্রেমিকার জন্য মূল্যবান উপহার হিসেবে স্বর্ণের বার এবং প্রায় ৪২ লাখ টাকা সমমূল্যের ডলার নিয়ে রওনা হয়েছেন বলেও দাবি করেন। বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি করতে তিনি বিমানের টিকিটের একটি ছবিও হোয়াটসঅ্যাপে পাঠান।

এর কিছু সময় পর লিমার কাছে ফোন আসে। ফোনের অপর প্রান্তের ব্যক্তি নিজেকে ঢাকা বিমানবন্দরের একজন নারী কাস্টমস কর্মকর্তা, তামান্না আক্তার হিসেবে পরিচয় দেন। তিনি জানান, ইমরান ভিসা-সংক্রান্ত জটিলতা এবং সঙ্গে থাকা বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ও স্বর্ণের কারণে কাস্টমসের হাতে আটক হয়েছেন। তাকে মুক্ত করতে জরুরি ভিত্তিতে ৮০ হাজার টাকা পরিশোধ করতে হবে, অন্যথায় তাকে কারাগারে পাঠানো হবে এবং সঙ্গে থাকা সব সম্পদ জব্দ করা হবে।

প্রেমিককে বিপদ থেকে উদ্ধার করার আশায় লিমা নিজের শ্রমে উপার্জিত ও সঞ্চয় করা ৮০ হাজার টাকা বিকাশের মাধ্যমে পাঠিয়ে দেন। কিন্তু টাকা পাঠানোর পরও কথিত প্রেমিকের মুক্তির কোনো খবর পাওয়া যায়নি। বরং প্রতারক চক্র আরও অর্থ দাবি করতে শুরু করে।

পরবর্তীতে অতিরিক্ত টাকা জোগাড় করতে স্বজনদের সঙ্গে কথা বলার সময় পুরো ঘটনাটি নিয়ে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। বিষয়টি যাচাই করতে গিয়ে লিমা বুঝতে পারেন, তিনি একটি সুপরিকল্পিত অনলাইন প্রতারণার শিকার হয়েছেন।

ঘটনার পর তিন দিন আগে তিনি বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানায় প্রতারণার অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেন।

এ বিষয়ে কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্ত শুরু হয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় প্রতারণার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। তদন্তে সত্যতা মিললে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অচেনা ব্যক্তির সঙ্গে আর্থিক লেনদেনের আগে সতর্ক থাকতে এবং বিদেশ থেকে উপহার, ডলার বা স্বর্ণ পাঠানোর নামে অর্থ দাবি করা হলে অবশ্যই বিষয়টি যাচাই করে পদক্ষেপ নিতে।

প্রয়োজনে এটিকে আরও সংবাদপত্রের প্রথম পাতার উপযোগী বা অনলাইন নিউজ পোর্টালের স্টাইলে আরও আকর্ষণীয় করে সাজিয়ে দিন।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

সাত দিনের হোয়াটসঅ্যাপ প্রেম, ‘লন্ডনপ্রবাসী’ প্রেমিকের ফাঁদে হারালেন ৮০ হাজার টাকা

আপডেট সময় ০২:৪৫:০৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬

হোয়াটসঅ্যাপে মাত্র এক সপ্তাহের পরিচয়। অল্প সময়ের কথোপকথনেই গড়ে ওঠে বিশ্বাস, এরপর সেই বিশ্বাসই পরিণত হয় প্রতারণার ভয়াবহ ফাঁদে। নিজেকে যুক্তরাজ্যপ্রবাসী বলে পরিচয় দেওয়া এক ব্যক্তি প্রেমের সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে বরিশালের এক নারীর কাছ থেকে ৮০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।

ভুক্তভোগী লিমা জানান, পরিচয়ের কয়েক দিনের মধ্যেই কথিত প্রেমিক ইমরান তাকে জানায়, তিনি বাংলাদেশে আসছেন। সঙ্গে প্রেমিকার জন্য মূল্যবান উপহার হিসেবে স্বর্ণের বার এবং প্রায় ৪২ লাখ টাকা সমমূল্যের ডলার নিয়ে রওনা হয়েছেন বলেও দাবি করেন। বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি করতে তিনি বিমানের টিকিটের একটি ছবিও হোয়াটসঅ্যাপে পাঠান।

এর কিছু সময় পর লিমার কাছে ফোন আসে। ফোনের অপর প্রান্তের ব্যক্তি নিজেকে ঢাকা বিমানবন্দরের একজন নারী কাস্টমস কর্মকর্তা, তামান্না আক্তার হিসেবে পরিচয় দেন। তিনি জানান, ইমরান ভিসা-সংক্রান্ত জটিলতা এবং সঙ্গে থাকা বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ও স্বর্ণের কারণে কাস্টমসের হাতে আটক হয়েছেন। তাকে মুক্ত করতে জরুরি ভিত্তিতে ৮০ হাজার টাকা পরিশোধ করতে হবে, অন্যথায় তাকে কারাগারে পাঠানো হবে এবং সঙ্গে থাকা সব সম্পদ জব্দ করা হবে।

প্রেমিককে বিপদ থেকে উদ্ধার করার আশায় লিমা নিজের শ্রমে উপার্জিত ও সঞ্চয় করা ৮০ হাজার টাকা বিকাশের মাধ্যমে পাঠিয়ে দেন। কিন্তু টাকা পাঠানোর পরও কথিত প্রেমিকের মুক্তির কোনো খবর পাওয়া যায়নি। বরং প্রতারক চক্র আরও অর্থ দাবি করতে শুরু করে।

পরবর্তীতে অতিরিক্ত টাকা জোগাড় করতে স্বজনদের সঙ্গে কথা বলার সময় পুরো ঘটনাটি নিয়ে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। বিষয়টি যাচাই করতে গিয়ে লিমা বুঝতে পারেন, তিনি একটি সুপরিকল্পিত অনলাইন প্রতারণার শিকার হয়েছেন।

ঘটনার পর তিন দিন আগে তিনি বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানায় প্রতারণার অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেন।

এ বিষয়ে কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্ত শুরু হয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় প্রতারণার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। তদন্তে সত্যতা মিললে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অচেনা ব্যক্তির সঙ্গে আর্থিক লেনদেনের আগে সতর্ক থাকতে এবং বিদেশ থেকে উপহার, ডলার বা স্বর্ণ পাঠানোর নামে অর্থ দাবি করা হলে অবশ্যই বিষয়টি যাচাই করে পদক্ষেপ নিতে।

প্রয়োজনে এটিকে আরও সংবাদপত্রের প্রথম পাতার উপযোগী বা অনলাইন নিউজ পোর্টালের স্টাইলে আরও আকর্ষণীয় করে সাজিয়ে দিন।