ঢাকা ১০:১০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সবুজবাগে কাতারপ্রবাসী সিফাত হত্যা: প্রেমের বিরোধে ছুরিকাঘাত, প্রধান আসামিসহ গ্রেপ্তার ২

নিজস্ব সংবাদ :

রাজধানীর সবুজবাগের মাদারটেক এলাকায় কাতারপ্রবাসী সিফাত উল্লাহ (২৭) হত্যার ঘটনায় প্রধান আসামিসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—আল আমিন হোসেন (২৭) ও মো. সাজিদুল ইসলাম সাজিদ (২৪)।

র‌্যাব জানিয়েছে, সোমবার দিবাগত রাত ও ভোরে খিলগাঁও থানার পৃথক দুটি এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। হত্যাকাণ্ডের প্রায় ১১ ঘণ্টার মধ্যেই সাজিদকে আটক করা হয়। পরে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে প্রধান আসামি আল আমিনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

র‌্যাবের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, প্রায় দেড় মাস আগে কাতার থেকে দেশে ফেরেন সিফাত। দেশে ফেরার পর এক তরুণীর সঙ্গে তাঁর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তবে ওই তরুণীর সঙ্গে সাজিদেরও চার বছরের বেশি সময় ধরে সম্পর্ক ছিল। সিফাতের সঙ্গে তরুণীর সম্পর্কের বিষয়টি সাজিদ আগে জানতেন না।

গত ২৫ আগস্ট তরুণীর জন্মদিনের অনুষ্ঠানে গিয়ে সিফাতের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের কথা জানতে পারেন সাজিদ। এরপর তাঁদের নিজেদের সম্পর্কের অবসান ঘটে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাজিদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয় বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

অন্যদিকে, একই তরুণীর সঙ্গে আগে একই বিদ্যালয়ে পড়াশোনার সূত্রে আল আমিনের পরিচয় ও বন্ধুত্ব ছিল। র‌্যাবের দাবি, এলাকায় আল আমিন সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত এবং ওই তরুণীর বাসায় তিনি মাঝেমধ্যে বন্ধুদের নিয়ে মাদক সেবন করতেন। বিষয়টি জানতে পেরে সিফাত তাঁদের ওই বাসায় আসতে নিষেধ করেন। এ নিয়েও আল আমিনের সঙ্গে সিফাতের বিরোধ তৈরি হয়।

র‌্যাব জানায়, রোববার বেলা তিনটার দিকে মাদারটেকের বরইতলা এলাকায় তরুণীর ভাড়া বাসায় দেখা করতে যান সিফাত। তাঁর সেখানে যাওয়ার খবর পেয়ে আল আমিনের সহযোগী ইয়াছিন, অনিক, তুহিন, রাজুসহ কয়েকজন ওই বাসায় উপস্থিত হন। এ সময় আল আমিন ভবনের নিচে অবস্থান করছিলেন।

তাঁর সহযোগীরা বাসায় ঢোকার পর সিফাতের সঙ্গে তাঁদের কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে ধস্তাধস্তিতে ইয়াছিন ও রাজু আহত হন। পরে তাঁরা সবাই নিচে নেমে আসেন। তাঁদের পেছনে সিফাতও নিচে এসে মোটরসাইকেলে করে ঘটনাস্থল ত্যাগের চেষ্টা করেন।

এ সময় তাঁকে লক্ষ্য করে ইট ছোড়া হয়। ইটের আঘাতে সিফাত রাস্তায় পড়ে গেলে আল আমিন লাঠি দিয়ে তাঁর মাথায় আঘাত করেন বলে র‌্যাবের ভাষ্য। এরপর আল আমিনের সহযোগীরা তাঁকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করে গুরুতর আহত অবস্থায় রাস্তায় ফেলে রেখে পালিয়ে যান। এ সময় তাঁর মোটরসাইকেলটিও ভাঙচুর করা হয়।

পরে স্থানীয় লোকজন রক্তাক্ত অবস্থায় সিফাতকে উদ্ধার করে মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তাঁর অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান-স্টপ ইমার্জেন্সি বিভাগে স্থানান্তর করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়।

র‌্যাব জানায়, হত্যাকাণ্ডের পর অভিযান চালিয়ে সোমবার দিবাগত রাত দুইটার দিকে খিলগাঁওয়ের হাজীবাড়ি বালুরপাড় এলাকা থেকে সাজিদকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ভোর পাঁচটার দিকে শেখের জায়গা বাজার এলাকা থেকে আল আমিনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

সবুজবাগে কাতারপ্রবাসী সিফাত হত্যা: প্রেমের বিরোধে ছুরিকাঘাত, প্রধান আসামিসহ গ্রেপ্তার ২

আপডেট সময় ০৩:১৩:১৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাজধানীর সবুজবাগের মাদারটেক এলাকায় কাতারপ্রবাসী সিফাত উল্লাহ (২৭) হত্যার ঘটনায় প্রধান আসামিসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—আল আমিন হোসেন (২৭) ও মো. সাজিদুল ইসলাম সাজিদ (২৪)।

র‌্যাব জানিয়েছে, সোমবার দিবাগত রাত ও ভোরে খিলগাঁও থানার পৃথক দুটি এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। হত্যাকাণ্ডের প্রায় ১১ ঘণ্টার মধ্যেই সাজিদকে আটক করা হয়। পরে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে প্রধান আসামি আল আমিনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

র‌্যাবের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, প্রায় দেড় মাস আগে কাতার থেকে দেশে ফেরেন সিফাত। দেশে ফেরার পর এক তরুণীর সঙ্গে তাঁর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তবে ওই তরুণীর সঙ্গে সাজিদেরও চার বছরের বেশি সময় ধরে সম্পর্ক ছিল। সিফাতের সঙ্গে তরুণীর সম্পর্কের বিষয়টি সাজিদ আগে জানতেন না।

গত ২৫ আগস্ট তরুণীর জন্মদিনের অনুষ্ঠানে গিয়ে সিফাতের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের কথা জানতে পারেন সাজিদ। এরপর তাঁদের নিজেদের সম্পর্কের অবসান ঘটে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাজিদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয় বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

অন্যদিকে, একই তরুণীর সঙ্গে আগে একই বিদ্যালয়ে পড়াশোনার সূত্রে আল আমিনের পরিচয় ও বন্ধুত্ব ছিল। র‌্যাবের দাবি, এলাকায় আল আমিন সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত এবং ওই তরুণীর বাসায় তিনি মাঝেমধ্যে বন্ধুদের নিয়ে মাদক সেবন করতেন। বিষয়টি জানতে পেরে সিফাত তাঁদের ওই বাসায় আসতে নিষেধ করেন। এ নিয়েও আল আমিনের সঙ্গে সিফাতের বিরোধ তৈরি হয়।

র‌্যাব জানায়, রোববার বেলা তিনটার দিকে মাদারটেকের বরইতলা এলাকায় তরুণীর ভাড়া বাসায় দেখা করতে যান সিফাত। তাঁর সেখানে যাওয়ার খবর পেয়ে আল আমিনের সহযোগী ইয়াছিন, অনিক, তুহিন, রাজুসহ কয়েকজন ওই বাসায় উপস্থিত হন। এ সময় আল আমিন ভবনের নিচে অবস্থান করছিলেন।

তাঁর সহযোগীরা বাসায় ঢোকার পর সিফাতের সঙ্গে তাঁদের কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে ধস্তাধস্তিতে ইয়াছিন ও রাজু আহত হন। পরে তাঁরা সবাই নিচে নেমে আসেন। তাঁদের পেছনে সিফাতও নিচে এসে মোটরসাইকেলে করে ঘটনাস্থল ত্যাগের চেষ্টা করেন।

এ সময় তাঁকে লক্ষ্য করে ইট ছোড়া হয়। ইটের আঘাতে সিফাত রাস্তায় পড়ে গেলে আল আমিন লাঠি দিয়ে তাঁর মাথায় আঘাত করেন বলে র‌্যাবের ভাষ্য। এরপর আল আমিনের সহযোগীরা তাঁকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করে গুরুতর আহত অবস্থায় রাস্তায় ফেলে রেখে পালিয়ে যান। এ সময় তাঁর মোটরসাইকেলটিও ভাঙচুর করা হয়।

পরে স্থানীয় লোকজন রক্তাক্ত অবস্থায় সিফাতকে উদ্ধার করে মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তাঁর অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান-স্টপ ইমার্জেন্সি বিভাগে স্থানান্তর করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়।

র‌্যাব জানায়, হত্যাকাণ্ডের পর অভিযান চালিয়ে সোমবার দিবাগত রাত দুইটার দিকে খিলগাঁওয়ের হাজীবাড়ি বালুরপাড় এলাকা থেকে সাজিদকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ভোর পাঁচটার দিকে শেখের জায়গা বাজার এলাকা থেকে আল আমিনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে র‌্যাব।