সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ‘হাল আমলের মুফতি’ বললেন জামায়াত এমপি, পাল্টা জবাব বিএনপি সদস্যের
জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যদের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে উদ্দেশ করে কড়া মন্তব্য করেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী।
বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে চট্টগ্রাম-১৫ আসনের এই সংসদ সদস্য বলেন, এখন নাকি ধর্মীয় বিষয়ে মতামত বা ফতোয়া জানতে মাদ্রাসায় যাওয়ার প্রয়োজন নেই, কারণ সংসদ থেকেই এসব মন্তব্য দেওয়া হচ্ছে। তিনি ব্যঙ্গ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ‘হাল আমলের মুফতি’ আখ্যা দেন এবং দাবি করেন, যিনি ইসলামী জ্ঞানের মৌলিক বিষয়ও জানেন না, তিনি ধর্মীয় বিষয়ে মন্তব্য করছেন।
তিনি আরও বলেন, যারা জামায়াতে ইসলামকে ইসলামী দল নয় বলে মন্তব্য করছেন, তাদের আগে দলটির শতবর্ষের ইতিহাস সম্পর্কে ধারণা নেওয়া উচিত।
শাহজাহান চৌধুরীর বক্তব্যের পর বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে বিএনপির সংসদ সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুক তার বক্তব্যের সমালোচনা করেন। তিনি সংসদে উত্তেজনাপূর্ণ পরিবেশ তৈরি না করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, নিজেদের বক্তব্যের মূল্যায়ন নিজেদেরই করা উচিত।
একই সঙ্গে তিনি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় জামায়াতের ভূমিকার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, স্বাধীনতার প্রাক্কালে যারা দেশের মেধাবী সন্তানদের হত্যা করেছিল, সেই ইতিহাস ভুলে গেলে চলবে না। পাশাপাশি তিনি জুলাই আন্দোলনের শহীদদের স্মরণ করার পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকেও সমান গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান এবং মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা বৃদ্ধির দাবি তোলেন।
অন্যদিকে বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. শাহজাহান কর ফাঁকির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেন। তিনি অভিযোগ করেন, বড় বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠান ও কোম্পানির অনেকেই যথাযথ কর পরিশোধ করছে না এবং এ ক্ষেত্রে তদারকির ঘাটতি রয়েছে।
তিনি দেশের অর্থবছরের সময়সূচি জুন-জুলাইয়ের পরিবর্তে জানুয়ারি-ডিসেম্বর করার প্রস্তাব দেন। এছাড়া প্রতি তিন বা ছয় মাস অন্তর সংসদে রাজস্ব আদায় ও বাজেট বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়ে ব্রিফিং আয়োজনের মাধ্যমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার পরামর্শ দেন। অতীতে ‘উন্নয়নের জন্য দুর্নীতি’ সংস্কৃতির কারণে টেকসই উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
শনিবারের বাজেট আলোচনায় এসব বক্তব্যকে কেন্দ্র করে জাতীয় সংসদে সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যদের মধ্যে তীব্র বাক্যবিনিময় হয়।

























