ঢাকা ০৪:১১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিক্ষায় সর্বোচ্চ বরাদ্দ, প্রযুক্তিনির্ভর ও মানবিক শিক্ষা ব্যবস্থার রূপরেখা তুলে ধরলেন শিক্ষামন্ত্রী

নিজস্ব সংবাদ :

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে শিক্ষাখাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ. ন. ম. এহছানুল হক মিলন। জাতীয় সংসদে বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দক্ষ, মানবিক এবং প্রযুক্তি-সক্ষম নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতেই ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ শিক্ষা বাজেট প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সঙ্গে শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, ডিজিটাল রূপান্তর এবং বৈষম্য কমাতে নেওয়া হয়েছে একাধিক নতুন উদ্যোগ।

বক্তব্যের শুরুতে মন্ত্রী বান্দরবানের দুর্গম থানচি উপজেলার তিন্দু নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বাম খিয়াং ম্ল্যাংকের ব্যতিক্রমী উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, বিদ্যালয়টি চালু রাখতে ওই প্রধান শিক্ষক পর্যটক পরিবহনের জন্য ইঞ্জিনচালিত নৌকা চালিয়ে যে আয় করেন, তার একটি বড় অংশ শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতনে ব্যয় করেন। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নজরে আসার পর বিদ্যালয়টি জাতীয়করণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, এবারের বাজেটে শিক্ষাখাতে প্রায় ১ লাখ ৩৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ২ শতাংশ। এছাড়া অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমেও শিক্ষা উন্নয়নে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় হবে। পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের শিক্ষা উন্নয়নে পৃথকভাবে ১০৭ কোটি ২৪ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, সরকার শুধু নতুন ভবন নির্মাণে নয়, শিক্ষার মানোন্নয়নেও সমান গুরুত্ব দিচ্ছে। এ লক্ষ্যে ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ কর্মসূচির আওতায় শিক্ষকদের হাতে ট্যাব তুলে দেওয়া হবে। পাশাপাশি ২৫ হাজার মাল্টিমিডিয়া শ্রেণিকক্ষ স্থাপন করা হবে, যাতে ডিজিটাল কনটেন্টের মাধ্যমে পাঠদান আরও কার্যকর করা যায়।

তিনি আরও জানান, ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ কর্মসূচির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের জন্য আনন্দমুখর শিক্ষার পরিবেশ তৈরি করা হবে। এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে ৩০ হাজার শিক্ষককে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা পর্যায়ে আরও ২০ হাজার মাল্টিমিডিয়া শ্রেণিকক্ষ স্থাপনের কাজ এগিয়ে চলছে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দেশের প্রায় ৫০ হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জিওগ্রাফিক ইনফরমেশন সিস্টেম (জিআইএস) ম্যাপিং করা হবে, যাতে শিক্ষা ক্ষেত্রে ভৌগোলিক ও সামাজিক বৈষম্য চিহ্নিত করে পরিকল্পিত উন্নয়ন সম্ভব হয়। একই সঙ্গে ১৫ হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিনামূল্যে ওয়াই-ফাই সংযোগ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্য ইউনিক এডুকেশন আইডি চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। তবে ব্যক্তিগত মতামত হিসেবে বলেন, জন্মের সময় থেকেই যদি জাতীয় পরিচয়ভিত্তিক একটি স্থায়ী নম্বর চালু থাকত, তাহলে আলাদা শিক্ষা আইডির প্রয়োজন হতো না।

পরিবেশ সুরক্ষায় শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করতে ‘ওয়ান চাইল্ড, ওয়ান ট্রি’ কর্মসূচির আওতায় প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে বছরে অন্তত একটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তরুণদের উদ্ভাবনী সক্ষমতা তুলে ধরতে চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে স্টার্টআপ ইনোভেশন শোকেস আয়োজনের কথাও জানান তিনি।

সহশিক্ষা কার্যক্রম সম্প্রসারণে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, অলিম্পিয়াড, বিতর্ক, স্কাউট, বিএনসিসি ও গার্লস গাইড কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করা হবে। আগামী বছর থেকে সারা দেশে ২৪ হাজার নতুন বিএনসিসি ইউনিট গঠনের প্রস্তুতি চলছে।

তিনি জানান, প্রাথমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত বিদ্যমান উপবৃত্তি কর্মসূচিকে সম্প্রসারণ করে স্নাতক পর্যায় পর্যন্ত নিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

উচ্চশিক্ষা ও দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক চীন সফরে শিক্ষা খাতে একাধিক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়েছে। বিশেষ করে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষাকে (টিভিইটি) অধিক গুরুত্ব দিয়ে কর্মসংস্থানের উপযোগী দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

এছাড়া প্রাথমিক স্তর থেকেই ক্রীড়া, সংস্কৃতি, নৈতিক শিক্ষা, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও প্রযুক্তি শিক্ষার সমন্বিত চর্চার ওপর জোর দেওয়া হবে। ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে বিতর্ক ও কারিগরি শিক্ষার সুযোগও বাড়ানো হবে।

বিদ্যালয়বহির্ভূত শিশুদের জন্য উপ-আনুষ্ঠানিক শিক্ষা কার্যক্রম সম্প্রসারণের পাশাপাশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ধাপে ধাপে স্কুল ড্রেস, জুতা, মোজা ও ব্যাগ সরবরাহ এবং সারা দেশে মিড-ডে মিল কর্মসূচি চালুর পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন শিক্ষামন্ত্রী।

তিনি জানান, পূর্ববর্তী সরকারের সময় নিয়োগ পাওয়া প্রায় ১৭ হাজার মাদ্রাসা শিক্ষকের বেতন নিয়ে যে জটিলতা তৈরি হয়েছিল, তা নিরসনে অর্থ মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে এবং আগামী জুলাইয়ে প্রয়োজনীয় অবশিষ্ট অর্থ ছাড় করা হবে।

অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের বকেয়া অবসর ভাতা ও কল্যাণ ট্রাস্টের অর্থ পরিশোধেও সরকার উদ্যোগ নিয়েছে। এ জন্য প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানান তিনি।

বক্তব্যের শেষাংশে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সরকার এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়, যেখানে প্রযুক্তি, মানবিক মূল্যবোধ, দক্ষতা ও সৃজনশীলতার সমন্বয়ে প্রতিটি শিক্ষার্থীর পূর্ণ বিকাশ নিশ্চিত হবে। তাঁর আশা, প্রস্তাবিত বাজেট বাস্তবায়িত হলে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় একটি ইতিবাচক পরিবর্তনের নতুন অধ্যায় সূচিত হবে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

শিক্ষায় সর্বোচ্চ বরাদ্দ, প্রযুক্তিনির্ভর ও মানবিক শিক্ষা ব্যবস্থার রূপরেখা তুলে ধরলেন শিক্ষামন্ত্রী

আপডেট সময় ১২:১৭:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে শিক্ষাখাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ. ন. ম. এহছানুল হক মিলন। জাতীয় সংসদে বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দক্ষ, মানবিক এবং প্রযুক্তি-সক্ষম নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতেই ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ শিক্ষা বাজেট প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সঙ্গে শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, ডিজিটাল রূপান্তর এবং বৈষম্য কমাতে নেওয়া হয়েছে একাধিক নতুন উদ্যোগ।

বক্তব্যের শুরুতে মন্ত্রী বান্দরবানের দুর্গম থানচি উপজেলার তিন্দু নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বাম খিয়াং ম্ল্যাংকের ব্যতিক্রমী উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, বিদ্যালয়টি চালু রাখতে ওই প্রধান শিক্ষক পর্যটক পরিবহনের জন্য ইঞ্জিনচালিত নৌকা চালিয়ে যে আয় করেন, তার একটি বড় অংশ শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতনে ব্যয় করেন। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নজরে আসার পর বিদ্যালয়টি জাতীয়করণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, এবারের বাজেটে শিক্ষাখাতে প্রায় ১ লাখ ৩৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ২ শতাংশ। এছাড়া অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমেও শিক্ষা উন্নয়নে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় হবে। পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের শিক্ষা উন্নয়নে পৃথকভাবে ১০৭ কোটি ২৪ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, সরকার শুধু নতুন ভবন নির্মাণে নয়, শিক্ষার মানোন্নয়নেও সমান গুরুত্ব দিচ্ছে। এ লক্ষ্যে ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ কর্মসূচির আওতায় শিক্ষকদের হাতে ট্যাব তুলে দেওয়া হবে। পাশাপাশি ২৫ হাজার মাল্টিমিডিয়া শ্রেণিকক্ষ স্থাপন করা হবে, যাতে ডিজিটাল কনটেন্টের মাধ্যমে পাঠদান আরও কার্যকর করা যায়।

তিনি আরও জানান, ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ কর্মসূচির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের জন্য আনন্দমুখর শিক্ষার পরিবেশ তৈরি করা হবে। এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে ৩০ হাজার শিক্ষককে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা পর্যায়ে আরও ২০ হাজার মাল্টিমিডিয়া শ্রেণিকক্ষ স্থাপনের কাজ এগিয়ে চলছে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দেশের প্রায় ৫০ হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জিওগ্রাফিক ইনফরমেশন সিস্টেম (জিআইএস) ম্যাপিং করা হবে, যাতে শিক্ষা ক্ষেত্রে ভৌগোলিক ও সামাজিক বৈষম্য চিহ্নিত করে পরিকল্পিত উন্নয়ন সম্ভব হয়। একই সঙ্গে ১৫ হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিনামূল্যে ওয়াই-ফাই সংযোগ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্য ইউনিক এডুকেশন আইডি চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। তবে ব্যক্তিগত মতামত হিসেবে বলেন, জন্মের সময় থেকেই যদি জাতীয় পরিচয়ভিত্তিক একটি স্থায়ী নম্বর চালু থাকত, তাহলে আলাদা শিক্ষা আইডির প্রয়োজন হতো না।

পরিবেশ সুরক্ষায় শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করতে ‘ওয়ান চাইল্ড, ওয়ান ট্রি’ কর্মসূচির আওতায় প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে বছরে অন্তত একটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তরুণদের উদ্ভাবনী সক্ষমতা তুলে ধরতে চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে স্টার্টআপ ইনোভেশন শোকেস আয়োজনের কথাও জানান তিনি।

সহশিক্ষা কার্যক্রম সম্প্রসারণে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, অলিম্পিয়াড, বিতর্ক, স্কাউট, বিএনসিসি ও গার্লস গাইড কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করা হবে। আগামী বছর থেকে সারা দেশে ২৪ হাজার নতুন বিএনসিসি ইউনিট গঠনের প্রস্তুতি চলছে।

তিনি জানান, প্রাথমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত বিদ্যমান উপবৃত্তি কর্মসূচিকে সম্প্রসারণ করে স্নাতক পর্যায় পর্যন্ত নিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

উচ্চশিক্ষা ও দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক চীন সফরে শিক্ষা খাতে একাধিক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়েছে। বিশেষ করে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষাকে (টিভিইটি) অধিক গুরুত্ব দিয়ে কর্মসংস্থানের উপযোগী দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

এছাড়া প্রাথমিক স্তর থেকেই ক্রীড়া, সংস্কৃতি, নৈতিক শিক্ষা, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও প্রযুক্তি শিক্ষার সমন্বিত চর্চার ওপর জোর দেওয়া হবে। ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে বিতর্ক ও কারিগরি শিক্ষার সুযোগও বাড়ানো হবে।

বিদ্যালয়বহির্ভূত শিশুদের জন্য উপ-আনুষ্ঠানিক শিক্ষা কার্যক্রম সম্প্রসারণের পাশাপাশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ধাপে ধাপে স্কুল ড্রেস, জুতা, মোজা ও ব্যাগ সরবরাহ এবং সারা দেশে মিড-ডে মিল কর্মসূচি চালুর পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন শিক্ষামন্ত্রী।

তিনি জানান, পূর্ববর্তী সরকারের সময় নিয়োগ পাওয়া প্রায় ১৭ হাজার মাদ্রাসা শিক্ষকের বেতন নিয়ে যে জটিলতা তৈরি হয়েছিল, তা নিরসনে অর্থ মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে এবং আগামী জুলাইয়ে প্রয়োজনীয় অবশিষ্ট অর্থ ছাড় করা হবে।

অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের বকেয়া অবসর ভাতা ও কল্যাণ ট্রাস্টের অর্থ পরিশোধেও সরকার উদ্যোগ নিয়েছে। এ জন্য প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানান তিনি।

বক্তব্যের শেষাংশে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সরকার এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়, যেখানে প্রযুক্তি, মানবিক মূল্যবোধ, দক্ষতা ও সৃজনশীলতার সমন্বয়ে প্রতিটি শিক্ষার্থীর পূর্ণ বিকাশ নিশ্চিত হবে। তাঁর আশা, প্রস্তাবিত বাজেট বাস্তবায়িত হলে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় একটি ইতিবাচক পরিবর্তনের নতুন অধ্যায় সূচিত হবে।