ঢাকা ০৬:১৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শরিকদের প্রত্যাশার ঝুলি প্রধানমন্ত্রীর সামনে, মন্ত্রিসভা ও উচ্চকক্ষে জায়গা চাইলেন কয়েক নেতা

নিজস্ব সংবাদ :

সরকার গঠনের পাঁচ মাস পর প্রথমবারের মতো যুগপৎ আন্দোলনের শরিক রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠকে বসেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে সরকারের কার্যক্রম, জোটের ভবিষ্যৎ সমন্বয় এবং শরিক দলগুলোর ভূমিকা নিয়ে খোলামেলা আলোচনা হয়। একই সঙ্গে শরিকদের পক্ষ থেকে বিভিন্ন প্রত্যাশা ও অসন্তোষের বিষয়ও উঠে আসে।

বৈঠকে অংশ নেওয়া একাধিক নেতার ভাষ্য অনুযায়ী, কেউ মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন, কেউ সরকারি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব ও সুযোগ-সুবিধায় শরিকদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার দাবি জানান। আবার কয়েকজন নেতা প্রস্তাবিত সংবিধান সংস্কারের মাধ্যমে সংসদের উচ্চকক্ষ গঠিত হলে সেখানে শরিক দলগুলোর যোগ্য নেতাদের সদস্য হিসেবে বিবেচনার আহ্বান জানান।

আলোচনায় অংশ নেওয়া নেতাদের বক্তব্য শোনার পর প্রধানমন্ত্রী বলেন, শরিকদের মধ্যে যাঁরা যোগ্য ও অভিজ্ঞ, তাঁদের পর্যায়ক্রমে যথাযথ মূল্যায়নের চেষ্টা করা হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে জোটের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ও নিয়মিত মতবিনিময়ের আশ্বাসও দেন তিনি।

শরিকদের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে কয়েকজন নেতা স্মরণ করিয়ে দেন, আন্দোলনের সময় একসঙ্গে সরকার পরিচালনার যে অঙ্গীকার করা হয়েছিল, বাস্তবে তার পূর্ণ প্রতিফলন দেখা যায়নি। সরকার গঠনের পর দীর্ঘ সময় শরিকদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠক না হওয়ায় হতাশার কথাও তুলে ধরা হয়।

প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে বলেন, সরকার গঠনের শুরুতেই নানা প্রশাসনিক ও জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মোকাবিলা করতে হয়েছে। এরপর রমজান, সংসদীয় কার্যক্রম এবং আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিসহ বিভিন্ন কারণে সময়ের সীমাবদ্ধতা ছিল। তবে এখন থেকে শরিকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখার পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।

বৈঠকে উপস্থিত নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, বৈঠকের নির্দিষ্ট কোনো এজেন্ডা ছিল না। বিভিন্ন নেতা নিজেদের মতামত তুলে ধরেন। কেউ সরাসরি সরকার পরিচালনায় অংশীদার হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন, আবার কেউ বলেন, সরকারের নীতিনির্ধারণী কর্মকাণ্ডে শরিকদের সম্পৃক্ততা আরও বাড়ানো প্রয়োজন।

আলোচনায় আরও উঠে আসে, নির্বাচনের আগে জাতীয় সরকার গঠনের যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তার তুলনায় শরিক দলগুলোর প্রতিনিধিত্ব সীমিত হয়েছে। কয়েকজন নেতা প্রস্তাব দেন, যারা নির্বাচনে অংশ নিয়েও জয়ী হতে পারেননি কিংবা মনোনয়ন পাননি, তাঁদের মধ্যে যোগ্য নারী নেত্রীদের সংরক্ষিত সংসদীয় আসনে মনোনয়ন দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।

কয়েকজন শরিক নেতা অভিযোগ করেন, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে প্রশাসক নিয়োগসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে শরিকদের মতামত বা অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হয়নি। ফলে মাঠপর্যায়ে জোটগত রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডও আগের তুলনায় কম দৃশ্যমান হয়েছে বলে তারা মন্তব্য করেন।

বৈঠকের শেষ পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী পুনরায় জানান, আন্দোলনের সময় ঘোষিত ৩১ দফা সংস্কার কর্মসূচি এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সমর্থনে গৃহীত জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। পাশাপাশি জোটকে আরও কার্যকর ও সুসংগঠিত রাখতে নিয়মিত বৈঠক এবং সমন্বয় অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

শরিকদের প্রত্যাশার ঝুলি প্রধানমন্ত্রীর সামনে, মন্ত্রিসভা ও উচ্চকক্ষে জায়গা চাইলেন কয়েক নেতা

আপডেট সময় ০২:৪৬:১২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

সরকার গঠনের পাঁচ মাস পর প্রথমবারের মতো যুগপৎ আন্দোলনের শরিক রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠকে বসেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে সরকারের কার্যক্রম, জোটের ভবিষ্যৎ সমন্বয় এবং শরিক দলগুলোর ভূমিকা নিয়ে খোলামেলা আলোচনা হয়। একই সঙ্গে শরিকদের পক্ষ থেকে বিভিন্ন প্রত্যাশা ও অসন্তোষের বিষয়ও উঠে আসে।

বৈঠকে অংশ নেওয়া একাধিক নেতার ভাষ্য অনুযায়ী, কেউ মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন, কেউ সরকারি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব ও সুযোগ-সুবিধায় শরিকদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার দাবি জানান। আবার কয়েকজন নেতা প্রস্তাবিত সংবিধান সংস্কারের মাধ্যমে সংসদের উচ্চকক্ষ গঠিত হলে সেখানে শরিক দলগুলোর যোগ্য নেতাদের সদস্য হিসেবে বিবেচনার আহ্বান জানান।

আলোচনায় অংশ নেওয়া নেতাদের বক্তব্য শোনার পর প্রধানমন্ত্রী বলেন, শরিকদের মধ্যে যাঁরা যোগ্য ও অভিজ্ঞ, তাঁদের পর্যায়ক্রমে যথাযথ মূল্যায়নের চেষ্টা করা হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে জোটের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ও নিয়মিত মতবিনিময়ের আশ্বাসও দেন তিনি।

শরিকদের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে কয়েকজন নেতা স্মরণ করিয়ে দেন, আন্দোলনের সময় একসঙ্গে সরকার পরিচালনার যে অঙ্গীকার করা হয়েছিল, বাস্তবে তার পূর্ণ প্রতিফলন দেখা যায়নি। সরকার গঠনের পর দীর্ঘ সময় শরিকদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠক না হওয়ায় হতাশার কথাও তুলে ধরা হয়।

প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে বলেন, সরকার গঠনের শুরুতেই নানা প্রশাসনিক ও জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মোকাবিলা করতে হয়েছে। এরপর রমজান, সংসদীয় কার্যক্রম এবং আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিসহ বিভিন্ন কারণে সময়ের সীমাবদ্ধতা ছিল। তবে এখন থেকে শরিকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখার পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।

বৈঠকে উপস্থিত নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, বৈঠকের নির্দিষ্ট কোনো এজেন্ডা ছিল না। বিভিন্ন নেতা নিজেদের মতামত তুলে ধরেন। কেউ সরাসরি সরকার পরিচালনায় অংশীদার হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন, আবার কেউ বলেন, সরকারের নীতিনির্ধারণী কর্মকাণ্ডে শরিকদের সম্পৃক্ততা আরও বাড়ানো প্রয়োজন।

আলোচনায় আরও উঠে আসে, নির্বাচনের আগে জাতীয় সরকার গঠনের যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তার তুলনায় শরিক দলগুলোর প্রতিনিধিত্ব সীমিত হয়েছে। কয়েকজন নেতা প্রস্তাব দেন, যারা নির্বাচনে অংশ নিয়েও জয়ী হতে পারেননি কিংবা মনোনয়ন পাননি, তাঁদের মধ্যে যোগ্য নারী নেত্রীদের সংরক্ষিত সংসদীয় আসনে মনোনয়ন দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।

কয়েকজন শরিক নেতা অভিযোগ করেন, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে প্রশাসক নিয়োগসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে শরিকদের মতামত বা অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হয়নি। ফলে মাঠপর্যায়ে জোটগত রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডও আগের তুলনায় কম দৃশ্যমান হয়েছে বলে তারা মন্তব্য করেন।

বৈঠকের শেষ পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী পুনরায় জানান, আন্দোলনের সময় ঘোষিত ৩১ দফা সংস্কার কর্মসূচি এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সমর্থনে গৃহীত জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। পাশাপাশি জোটকে আরও কার্যকর ও সুসংগঠিত রাখতে নিয়মিত বৈঠক এবং সমন্বয় অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।