মধ্যপ্রাচ্যে সৌদির নৌ সামরিক জোট, আছে বাংলাদেশও
বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও তুরস্কসহ ১৩টি দেশ নিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে একটি নৌ সামরিক জোট গঠনের ঘোষণা দিয়েছে সৌদি আরব। এই জোটের উদ্দেশ্য বাব আল-মান্দেব প্রণালী, লোহিত সাগর এবং এডেন উপসাগরে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, মাল্টিন্যাশনাল মেরিটাইম ডিফেন্স অ্যালায়েন্স নামে এই জোট গঠন করা হয়েছে যৌথ সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও জোরদার করার লক্ষ্যে।
ভারত মহাসাগরকে ভূমধ্যসাগরের সঙ্গে যুক্ত করা এই কৌশলগত সমুদ্রপথে নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং জ্বালানি পরিবহণ নিরাপদ রাখাই হবে তাদের প্রধান লক্ষ্য।
জোটের চুক্তিপত্রে সই করা দেশগুলো হলো সৌদি আরব, তুরস্ক, কুয়েত, বাহরাইন, কাতার, জর্ডান, মিশর, পাকিস্তান, জিবুতি, সোমালিয়া, বাংলাদেশ, ইয়েমেন, সুদান এবং কোমোরোস।
বিবৃতিতে বলা হয়, জোটভুক্ত দেশগুলো আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই তিনটি জলপথে মুক্ত নৌ চলাচল নিশ্চিত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে।
সৌদি আরব জানিয়েছে, জোট গঠনের বৈঠকে আমন্ত্রিত ৫১ দেশের মধ্যে ৪৩ দেশের প্রতিনিধি অংশ নেন। এতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) একটি প্রতিনিধিদলও উপস্থিত ছিল। যদিও ইইউর ইতোমধ্যে লোহিত সাগরে অ্যাসপিডিস নামে একটি নৌ নিরাপত্তা মিশন রয়েছে, নতুন সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের কার্যক্রম কীভাবে আলাদা হবে, তা এখনও স্পষ্ট করা হয়নি।
তবে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ওমান এখনো এই জোটে যোগ দেয়নি, যদিও ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান সংকটে তাদের নিরাপত্তা স্বার্থও অনেকটাই একই ধরনের।
জোটে কোন দেশ কতটি যুদ্ধজাহাজ বা বিমান দেবে, সে বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি। তবে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, যৌথ পরিকল্পনা, সমন্বিত মহড়া এবং সামুদ্রিক অভিযান পরিচালনা করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
গত সপ্তাহে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে সামুদ্রিক অবরোধ ঘোষণা করে, যার ফলে লোহিত সাগরমুখী তেল পরিবহণ ব্যাহত হয়।
ইরানকে ঘিরে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর হরমুজ প্রণালি কার্যত অচল হয়ে পড়লেও সৌদি আরব পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইনের মাধ্যমে পূর্বাঞ্চলের তেল শোধনাগার থেকে লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরে তেল পরিবহণ অব্যাহত রাখতে সক্ষম হয়েছে।
তবে সেই তেল রপ্তানির জন্য বাব আল-মান্দেব প্রণালি অতিক্রম করতে হয়। ইরিত্রিয়া, জিবুতি ও ইয়েমেনের মাঝখানে অবস্থিত এই সংকীর্ণ জলপথের ইয়েমেন অংশ হুথিদের নিয়ন্ত্রণে থাকায় সেখানে জাহাজে হামলার ঝুঁকি রয়ে গেছে।
বিশ্বব্যাপী তেল ও গ্যাস রপ্তানির প্রায় ২০ শতাংশ হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। সংঘাত শুরুর পর ইরান রুটটি কার্যত বন্ধ করে দিয়েছে, এতে বিশ্ব অর্থনীতি চরম চাপে পড়েছে। ইরানের সঙ্গে আমেরিকার যুদ্ধবিরতি ভেস্তে যাওয়ার পর ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের ক্রমাগত হামলার মুখে পড়েছে বাব আল-মান্দেব, লোহিত সাগর এবং এডেন উপসাগরীয় অঞ্চল। এতে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি রপ্তানিতে বড় অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
সৌদি আরবকে এই জোটের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এবং প্রধান কার্যালয়ের আয়োজক দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে, যদিও কার্যালয়ের সুনির্দিষ্ট অবস্থান প্রকাশ করা হয়নি।





















